শাবির ‘পরিত্যক্ত’ টেনিসকোর্টে খেলা হয় ক্রিকেট!
শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫৪ PM

শাবির ‘পরিত্যক্ত’ টেনিসকোর্টে খেলা হয় ক্রিকেট!

শাবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২২/০১/২০২৪ ০১:১৫:৫৭ AM

শাবির ‘পরিত্যক্ত’ টেনিসকোর্টে খেলা হয় ক্রিকেট!


অর্ধকোটিরও বেশি টাকা ব্যয় করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মকর্তাদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে টেনিস কোর্ট। তবে বছর না পেরোতেই প্রায় পরিত্যক্ত হয়ে পড়েছে কোর্টটি। যেখানে আর টেনিস খেলার পরিস্থিতি নেই বললেই চলে। এদিকে সেখানে টেনিস খেলার অনুমতি নেই শিক্ষার্থীদের। অনুমতি না থাকলেও কোর্টের অবস্থা বেহাল হয়ে যাওয়ায় সেখানে টেনিসের পরিবর্তে ক্রিকেট খেলেই সময় পার করছেন শিক্ষার্থীরা। নিম্নমানের মালামাল ব্যবহার, ইঞ্জিনিয়ারিং দপ্তরের অবহেলা ও যথাযথ পরিচর্যার অভাব-ই কোর্টটির এ অবস্থার জন্য দায়ী বলে মনে করছেন শিক্ষক-কর্মকর্তারা।

জানা যায়, টেনিস কোর্টটি নির্মাণে ৫১ লাখ টাকা ধরা হলেও এটি নির্মাণে ৫০ লাখ ১০ হাজার ৮৭২ টাকা ব্যয় হয়েছে। তবে উদ্বোধনের ছয়মাস না পেরোতেই মাঠের বিভিন্ন জায়গায় ফাটলসহ চারপাশের সুরক্ষা নেট ভেঙে যায়। যথাযথ পরিচর্যার অভাবসহ নিম্নমানের মালামাল ব্যবহার করার কারণে টেনিস কোর্টটির এমন বেহাল দশা হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যার ফলশ্রুতিতে বছর না পেরোতেই প্রায় পরিত্যক্ত হয়ে পড়েছে কোর্টটি।

এ কোর্টটি নির্মাণের মান নিয়ে স্বয়ং উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদও উদ্বোধনের সময় প্রশ্ন তুলেছিলেন বলে জানা গেছে। ২০২২ সালের ২৫ অক্টোবর টেনিস কোর্টটি উদ্বোধনের সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেছিলেন, আমরা যে মানের কোর্ট চেয়েছিলাম সেই মানের কোর্ট পাইনি। যেটা হয়ে গেছে, হয়ে গেছে। যে ধরনের ভুল ত্রুটি এখানে হয়ে গেছে এটা যাতে সংশোধন করা যায় সেই চেষ্টা করতে হবে। এতে বাড়তি খরচ আমাদের লাগবে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কোর্টটির চারপাশের সুরক্ষা নেট ভেঙ্গে গেছে। সুরক্ষা নেটের চারপাশে আগাছা জমে রয়েছে। মাঠের চারপাশে বিভিন্ন জায়গায় ফাটল রয়েছে। এছাড়া উঁচু নিচু ভাবে তৈরির ফলে অল্প বৃষ্টিতেই বিভিন্ন জায়গায় পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। নেট ভেঙ্গে যাবার ফলে বহিরাগতরা কোর্টের ভেতরে ঢুকে টিকটক ভিডিও তৈরি করছেন। শিক্ষার্থীরা একসাথে হয়ে খেলছেন ক্রিকেট।

সেখানে টেনিস খেলতে আসা একাধিক শিক্ষক কর্মকর্তা বলেন, সুরক্ষা নেটে টেনিস বল এসে লাগলেই তা ভেঙে যায় এবং বল বারবার বাইরে চলে যায়। এজন্য আমরা নিজেদের অর্থায়নে নেটের ওপর পর্দাও লাগিয়েছিলাম। কিন্তু এখন কোর্টটির অবস্থা এমন অবস্থায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে যে সেখানে আর টেনিস খেলার পরিবেশ নেই। কোর্টটির এ অবস্থার পেছনে ইঞ্জিনিয়ারিং দপ্তরকেই দুষছেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, এখানে টেন্ডার অনুযায়ী প্লাস্টিকের নেট ব্যবহার করা হয়েছে। এখানে মানহীন বা অন্যকোনো নেট ব্যবহার করার সুযোগ নেই। যেহেতু এগুলো প্লাস্টিক, তাই এগুলো নষ্ট হবেই। এগুলো নিয়মিত পরিচর্যার বিষয়। যেগুলো নষ্ট হয়েছে আমরা তা মেরামত করবো।

উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের এ টেনিস কোর্টটি আমার স্বপ্নের ব্যপার ছিলো। প্রথম এটার বাজেট ৩২ লাখ টাকা দিলেও পরবর্তীতে আরো ২০ লাখ টাকা বাড়ানো হয়। আমি বলেছিলাম ন্যাশনাল টেনিস ফেডারেশনে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে, তাদের থেকে সাপোর্ট নিয়ে এটার কাজ করতে কিন্তু তা হয় নি। এখানে একটা টেকনিক্যাল ব্যাপার ছিলো সেটা ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশন ফলো করে নি। সেখানে যে নেট দেয়ার কথা ছিলো সেটা ২০-৩০ বছরেও কিছু হওয়ার কথা না কিন্তু তারা প্লাষ্টিকের নেট ব্যবহার করেছে যা শুরুতেই খুলে পড়ে যাচ্ছে, বল লাগলেই তা ভেঙ্গে যাচ্ছে। আমি এটা নিয়ে তদন্ত কমিটি করেছি। কমিটির রিপোর্টও আমি পেয়ে গেছি। আমি এখন দেখবো জিনিসগুলো।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর