জাপা এখন কার?
বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০২:৩০ AM

জাপা এখন কার?

আজকের সিলেট ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৯/০১/২০২৪ ০৯:৪৮:৫৭ AM

জাপা এখন কার?


দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে থেকেই জাতীয় পার্টিতে (জাপা) চলছে নানা নাটকীয়তা। নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার কথা বলে হঠাৎ করে নির্বাচনে আসার ঘোষণা, সরকারি দলের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি, মনোনয়ন দেওয়া, নির্বাচনে রওশন এরশাদের মূল্যায়ন না করাসহ নানা ইস্যু নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দল চলছিল। এছাড়া নির্বাচন ইস্যুতে সরকারের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ভাগ-বাটোয়ারা করার অভিযোগও নেতাকর্মীরা তুলেছেন দলের চেয়ারম্যান জি এম কাদের ও মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুর বিরুদ্ধে।

রোববার জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদের ও মহাসচিবকে বহিস্কার করে দলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদ নিজেকে চেয়ারম্যান ও কাজী মামুনুর রশীদকে মহাসচিব ঘোষণা করেন।

এ নিয়ে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেন দলটির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু। রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, দলের গঠনতন্ত্রে দলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদকে এমন কোনো ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। তাই রওশনের ঘোষণার কোনো ভিত্তি নেই। একে আমলে নিচ্ছে না জাতীয় পার্টি (জাপা)। সব মিলিয়ে দলটির দ্বন্দ্ব আবারও প্রকাশ্যে এলো। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অষ্টমবারের মতো ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে আছে জাতীয় পার্টি।

দলে যখন জিএম কাদের-রওশন এরশাদ দ্বন্দ্ব চরমে, ঠিক সেই সময় গতকাল সংসদ সচিবালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরকে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা এবং কো-চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমদুকে উপনেতা ঘোষণা করা হয়।

এমন পরিস্থিতিতে জাপায় আসলে কী হচ্ছে? এমন প্রশ্ন তুলেছেন খোদ দলের নেতাকর্মীরা। এ বিষয়ে দলের এক কো-চেয়ারম্যান বলেন, বুঝতে পারছি না কী হচ্ছে। যার যে রকম করতে মন চায় করুক। এরপর দেখা যাক কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়। জাতীয় পার্টির কি হলো এটা নিয়ে আমি চিন্তা করি না।

সম্প্রতি জাতীয় পার্টির (জাপা) কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশীদ ও প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায়, পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ভাইস চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম সেন্টু এবং ইয়াহ ইয়া চৌধুরীকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এরপর গত ২৫ জানুয়ারি জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদের ও মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুর বিরুদ্ধে দলে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে ৬৬৮ জন নেতাকর্মী পদত্যাগ করেন।

নির্বাচনে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা জাপা নেতাদের অভিযোগ ছিল- নির্বাচনে যাওয়া নিয়ে দলটির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামত উপেক্ষা করা, নির্বাচনের মাঠে নামিয়ে খোঁজ-খবর না রাখা, নির্বাচন খরচসহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি না রাখা এবং লাঙ্গল প্রার্থীদের মাথা বিক্রি করে সরকারের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তা ভাগ-বাটোয়ারা করে নেয়া। এসব কাজের জন্য তারা জি এম কাদের, মুজিবুল হক চুন্নুসহ সিনিয়র নেতাদের দায়ী করেন।

এসব বিষয় নিয়ে এখন নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে কী হতে যাচ্ছে সরকারের পৃষ্টপোষকতায় টিকে থাকা জাপায়? দলটি কী নেতৃত্ব সংকটে পড়তে যাচ্ছে?

এ বিষয়ে রওশন এরশাদের মুখপাত্র কাজী মামুনুর রশীদ বলেন, ‘বেগম রওশন এরশাদ গঠনতন্ত্র অনুযায়ীই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আর গঠনতন্ত্র মেনেই তাদেরকে (জিএম কাদের ও মুজিবুল হক চুন্নু) অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সারাদেশের নেতাকর্মীরা জিএম কাদের ও মুজিবুল হক চুন্নুকে প্রত্যাখ্যান করেছেন, তাদেরকে আর চাচ্ছেন না। এজন্যই এই সিদ্ধান্ত।’

এক প্রশ্নের জবাবে মামুনুর রশীদ বলেন, ‘রওশন এরশাদ দলের সর্বময় ক্ষমতা সংরক্ষণ করেন। গঠনতন্ত্রে স্পষ্ট লেখা আছে, বেগম রওশন এরশাদ প্রধান পৃষ্ঠপোষক সর্বময় ক্ষমতা সংরক্ষণ করেন।’

জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা হয়েছেন জিএম কাদের- এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সংসদে বিরোধী দলের নেতা বা উপনেতা হওয়ার সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। জাপার লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে এমপি হওয়ায় তারা বিরোধী দলের নেতা হয়েছেন। যেহেতু স্বতন্ত্ররা বিরোধী দলের নেতা হতে চাচ্ছেন না, সেহেতু স্বাভাবিকভাবেই জিএম কাদেরই নেতা হয়েছেন।’

পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন বলেন, ‘আমরা যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যা যা করণীয় তা করছি।’

এ বিষয়ে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও অতিরিক্ত মহাসচিব রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘জাতীয় পার্টির এই দ্বন্দ্বের পেছনের কারণ বলতে হলে অনেক কিছু ব্যাখ্যা করতে হবে। জাতীয় পার্টির জন্মের সময় জাপার লোক ছিল না। তখন আওয়ামী লীগ, বিএনপি, ন্যাপসহ নানা পদের লোক ছিল। তারা ৯ বছর ক্ষমতায় থাকার পর যখন ছোট দলগুলো বিলীন হয়ে গেল তখন আমরা ছাত্র রাজনীতি থেকে এই দলটা (জাপা) করি। নির্বাচন আসলেই দেখা যায় একটা হয় আওয়ামী পন্থী একটা হয় বিএনপি পন্থী। যার কারণে জাপায় টানাপোড়েন থাকে। যারা যে দল থেকে আসে তারা সেই দলপন্থী হয়ে যায়। এই ধারাবাহিকতা এখনও আছে।’

রওশন এরশাদ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘তাকে আমার পক্ষে মূল্যায়ন করা সম্ভব না। তিনি অনেক বড় নেতা, সম্মানীয়। আর উনি (রওশন এরশাদ) কিন্তু তার হাজবেন্ড (স্বামী) হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদকে বহিষ্কার করে দলের চেয়ারম্যান হয়েছিলেন ২০০৭ সালে। এই নিয়ে তিনি চারবার নিজেকে দলের চেয়ারম্যান ঘোষণা করলেন। যে ধারায় তিনি নিজেকে চেয়ারম্যান ঘোষণা করেছেন সেই ধারাটা (ধারা ২০ এর ক এর ১) চেয়ারম্যানের ধারা, কাউন্সিলে পাস করা। এখন দলের চেয়ারম্যানের ধারা তো পৃষ্ঠপোষক ব্যবহার করতে পারেন না। আর উনি পাঁচটা প্রেস ডেকে একটা নিবন্ধিত দলের চেয়ারম্যান, মহাসচিব ঘোষণা করেন, এটা তো সম্ভব না। হয় তাকে কাউন্সিলে করতে হবে অথবা গঠনতন্ত্রের বাকি যে নিয়ম আছে তা মেনে করতে হবে। কিন্তু তিনি (রওশন এরশাদ) এগুলোর কোনোটাই করেন নাই।’

জিএম কাদের-রওশন এরশাদের মধ্যে মূলত দ্বন্দ্বটা কোথায়? এমন প্রশ্নের জবাবে রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘কোনো দ্বন্দ্ব নেই। জাতীয় পার্টি সাতবার ভেঙেছে, আরেকটা ভাঙন হলে আটবার হবে।’

আজকের সিলেট/ডিটি/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর