মাছে ভাতে বাঙ্গালী। সেই মাছকে রোদে শুঁকিয়ে তৈরী হয় শুটকি। সিলেট তথা সারা দেশের মানুষের কাছে রয়েছে শুঁকটির জনপ্রিয়তা। বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলের মিঠাপানির শুঁকটি জনপ্রিয়তা দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে। স্বাদ ও ঘ্রাণের কারণেই দেশের বাইরে ভারত, মালেশিয়া, শ্রিলংকাসহ উপমহাদেশের অনেক দেশে মানুষের কাছে শুঁটকির কদর একটু বেশীই। এছাড়া আইসল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেন, ফিলিপিনসহ অনেক দেশের মানুষের প্রিয় খাবার হচ্ছে শুঁটকি।
প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেট অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকার সুবাদে সিলেটের শুঁটকির বেশ পরিচিতি রয়েছে। দেশে মিঠা পানির মাছের শুটকির অন্যতম উৎপাদন হয় সিলেটে। এ জন্য বিখ্যাত বিশ্বনাথ উপজেলার লামাকাজি ইউনিয়নের মাহতাবপুর গ্রাম। যা শুটকির গ্রাম নামে অনেক পরিচিতি রয়েছে। সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের পাশেই এ গ্রামের অবস্থান। সিলেট নগরী থেকে মাত্র ২০ কি.মি. দুরুত্বে রয়েছে শুঁটকি প্রক্রিয়াকরণে এ স্থান। নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি (অগ্রহায়ন-ফাল্গুন) মাস শুঁটকির উপযুক্ত সময়। তখন তুলনা মূলকভাবে মাছের দামও কিছুটা কম থাকে। সেই সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মিঠা
পানির মাছ এনে শুঁটকি তৈরী করা হয়। মাহতাবপুর গ্রামের বিশাল জায়গাজুড়ে গড়ে উঠেছে শুটকি উৎপাদন কেন্দ্র। সড়কের উত্তর ও দক্ষিণ পাশে মাহতাবপুর শুঁটকি উৎপাদন কারখানা গড়ে উঠেছে। এখানে একটি বড় মৎস্য আড়ৎও রয়েছে। প্রতিদিন সুনামগঞ্জসহ বিভিন্ন হাওর থেকে এখানে বিপুল পরিমাণ মাছ আসে। আর এই মাছের বাজারকে কেন্দ্র করেই মূলত গড়ে উঠেছে মাহতাবপুর শুঁটকির আড়ৎ। সেখানে চাতাল করে বা উঁচু মাটির ডিবি (ডাংগি) তে শুঁটকি শুকানো হয়। পরে সেটি বিভিন্নভাবে প্রক্রিয়াজাত করা হয়।
এ গ্রামের মানুষ সারা বছর ধরে শুঁটকি উৎপাদন করেন। এছাড়া আশপাশ আরো বিভিন্ন গ্রামের প্রায় চার থেকে পাঁচ শতাধিক নারী ও পুরুষ শুঁটকি উৎপাদন কারখানায় শ্রমিকের কাজ করেন। তারা মাছ কাটা থেকে লবণ ছিটানো ও রোদে শুকানোর কাজ করে। এর বিনিময়ে প্রতিদিন মজুরি পান ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা।
শ্রমিকরা জানান, মাছ বাছাই ও কাটার পর লবণ ছিটিয়ে ৮-১০ ঘন্টা রেখে দেয় হয়। পরে মাছকে ভাল ভাবে ধৌত করে আবার ২-৩দিন ভাল ভাবে শুকানো হয়। সেখান থেকে উঠিয়ে ডাংগিতে আরো এক থেকে দেড়মাস ভালভাবে শুকানো হয়। এখানে পুঁটি, টেংরা, বাইম, বোয়াল, গজার, চিংড়ি, চান্দা ও কাইখ্যা এইসব বিভিন্ন প্রজাতির শুটকি তৈরি করা হয়। পরে সেগুলো সিলেট-ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ঢাকার ব্যবসায়ীদের কাছে পাইকারী ধরে বিক্রি করা হয়। বাংলাদেশের এই ব্যবসায়ীরা শুঁটকিগুলো বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে। ছোলা পুঁটি দেশের মার্কেটে ও গাদর পুঁটি মাছের শুঁটকি ভারতে বেশ জনপ্রিয় রয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জের পাইকাররা এই দুই জাতের শুঁটকি বেশি ক্রনা করেন। তবে কিশোরগঞ্জে পাইকাররা ছোলা পুঁটির শুঁটকি নিয়ে বিশেষ ভাবে
প্রক্রিয়াজাত করে সিদল/চাঁপা শুটকি তৈরি করেন। বিশেষ করে যুক্তরাজ্য সহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের প্রবাসীদের কাছে 'সিদল' 'গজার মাছের শুটকির।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
নিউজ ডেস্ক 








