সিলেটে আবারো আলোচনায় নজরুল ইসলাম বাবুল
বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০৬:৫২ AM

সিলেটে আবারো আলোচনায় নজরুল ইসলাম বাবুল

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৮/০১/২০২৫ ১০:২৭:৫১ AM

সিলেটে আবারো আলোচনায় নজরুল ইসলাম বাবুল


সিলেটের ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বাবুল। গত পাঁচ বছরে সিলেটের রাজনীতিতে নানাভাবে আলোচনায় ছিলেন তিনি। বিএনপি ঘরানার রাজনীতিক হিসেবে পরিচয় ছিল তার। ছিলেন তাঁতী দলের সিলেট মহাগরের সিনিয়র সহ সভাপতি। সেই বাবুল ‘ডিগবাজি’ খেয়ে চলে যান জাতীয় পার্টিতে। এটি ছিল চমকে যাওয়ার মতো ঘটনা। শুধু জাপায় যোগই দেননি, বিগত সিলেট সিটি করপোরেশনকে ‘বৈধতা’ দিতে মেয়র প্রার্থী হয়ে আলোচনায় এসেছিলেন। বিএনপি’র প্রার্থী বিহীন ওই নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থীর অর্ধেকের ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে সিলেটে ফের আলোচনায় এসেছেন তিনি।

সাগরদিঘীরপাড়ে ড্রিম সিটি’র সঙ্গে জমি নিয়ে লড়াইয়ে নেমেছেন। দিচ্ছেন বৃহত্তর সাগরদিঘীরপাড় এলাকাবাসীর নেতৃত্ব। এ লড়াইয়ে বাবুলের কিছুটা ধীর গতি ছিল। রাজনৈতিক হাওয়া তার বিপক্ষে। এ কারণে গতকাল সোমবার সিলেটে সংবাদ সম্মেলন করে জাতীয় পার্টি ছেড়ে দেয়ার জানান দিলেন। জানালেন ছয় মাস আগে দল থেকে পদত্যাগ করেছেন বাবুল।

বাবুল বলেন, চাপের মুখে তিনি জাতীয় পার্টিতে যোগ দেয়া ছাড়াও চাপের মুখে বিগত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন। সবই বিগত সরকারের সাজানো নাটক ছিল বলে তিনি দাবি করেন। তবে বাবুল এবার নাছোড়বান্দা। এলাকার মানুষকে ড্রিম সিটি দখলে যে লড়াইয়ে নেমেছেন সে লড়াইয়ে তিনি অবিচল রয়েছেন।

গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে বাবুল জানান, ‘আমি বিগত দিনে সিলেট চেম্বার অব কমার্স’র নির্বাচিত পরিচালক ছিলাম। বিগত দিনে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম। গত বছরের ১৭ই আগস্ট আমি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের প্রেরিত পত্রে দলীয় সকল পদ-পদবি থেকে পদত্যাগ করেছি। কিন্তু তখন ব্যবসায়িক কাজে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থান করায় বিষয়টি গণমাধ্যম ও সিলেটবাসীকে জানাতে পারিনি।’

নগরের সাগরদিঘীরপাড়ে ড্রিম সিটি আবাসিক প্রকল্পের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দ্বন্দ্বের বিষয়টি উল্লেখ করে বাবুল জানান, ‘সাগরদিঘীরপারের ওই জায়গাটি দখলের চেষ্টা করা হয়নি বরং দখলমুক্ত করা হয়েছে। জায়গাটি সিলেটের একটি চিহ্নিত ভূমিখেকো চক্র দীর্ঘদিন ধরে গ্রাস করার পাঁয়তারা চালিয়ে আসছে। তারা সেখানে থাকা একটি একতলা বাসায় নিজেদের ‘টর্চার সেল’ তৈরি করেছিল। এমন কোনো অপরাধ কর্মকাণ্ড নেই সেখানে সংঘটিত হয়নি।’

তাঁতী দলের রাজনীতি ছেড়ে দেয়ার প্রসঙ্গে বলেন, ‘২০১৮ সালে লামাবাজার এলাকার একটি গায়েবি মামলায় আমাকে আসামি করে গ্রেপ্তার করা হয়। আমি এক মাস কারাগারে ছিলাম। আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকার বাংলাদেশের যত বড় বড় ব্যবসা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকদের টার্গেট করে জোরপূর্বক মামলা-হামলার ভয়ভীতি দেখিয়ে আসামি বানিয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হতে বাধ্য করে। আমি আওয়ামী লীগে সম্পৃক্ত হতে রাজি না হওয়ায় তারা আমাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জাতীয় পার্টিতে যোগদান করতে বাধ্য করে।’

বিগত সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বাবুল জানান, ‘পতিত ফ্যাসিস্ট সরকার তার বিভিন্ন সরকারি সংস্থার লোকজন দিয়ে জোরপূর্বক আমাকে নির্বাচনে অংশ নিতে বাধ্য করে। তারা আমাকে নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করে ‘ট্রাম্পকার্ড’ হিসেবে ব্যবহার করে পাতানো নির্বাচনকে সুষ্ঠু নির্বাচন হিসেবে দেখিয়ে সিলেট নগরবাসীর সঙ্গে প্রতারণা করেছে।’

তিনি জানান, ‘আমি সে সময় তাদের কথায় রাজি না হলে তারা আমার ব্যবসা আমার দীর্ঘ পরিশ্রমের ফসল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ আমাকে গুম করার হুমকি প্রদান করে। এমন অবস্থায় আমি নির্বাচনে অংশ নিতে বাধ্য হই। সার্বিক বিবেচনায় আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করাকে নিরাপদ মনে করেছি। আমার ফ্যাক্টরির গ্যাস সংযোগ পর্যন্ত দেয়নি। পরবর্তীতে তাদের শর্তে রাজি হয়ে সিটি নির্বাচনে অংশ নেয়ায় আমার ফ্যাক্টরিতে গ্যাস সংযোগ প্রদান করা হয়।’

বাবুল নিজেকে সাগরদিঘীরপার সমাজ কল্যাণ সংস্থার সভাপতি পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘মৎস্য ভবনের দক্ষিণে অবস্থিত শতাধিক ডেসিমেল জায়গাকে অবৈধভাবে দখলে রেখে একটি চিহ্নিত সন্ত্রাসীগোষ্ঠী অরাজকতা চালিয়ে আসছিল। যা এলাকার জন্য একটি প্রধান উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উক্ত জমি দখল করে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ‘এসটিএস গ্রুপ’ নামে একটি গোষ্ঠী অবৈধ উপায়ে কোটি কোটি টাকার সম্পদ আত্মসাৎ করার চেষ্টা চালায়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর আরেক ভূমিখেকো চক্র ‘ড্রিম সিটি’ নাম দিয়ে ওই জায়গা দখল করে। তারা সেখানে অস্থায়ী ঘর নির্মাণ করে এবং টর্চার সেল তৈরি করে।’

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর