সোনা চোরাচালানের নিরাপদ রুট সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর
বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০৫:৫৭ AM

সোনা চোরাচালানের নিরাপদ রুট সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৭/০২/২০২৫ ১০:৫২:৫৮ AM

সোনা চোরাচালানের নিরাপদ রুট সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর


সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। প্রবাসী আধ্যুসিত সিলেট অঞ্চলের মানুষের জন্য একদিকে সরাসরি ফ্লাইটের সুবিধা রয়েছে অন্যদিকে এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এটিকে অবৈধ স্বর্ন চোরাচালানের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করছে চোরাকারবারিরা। ফলে বিপুল পরিমান রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। বিভিন্ন সংস্থার তৎপরতায় মাঝেমধ্যে কিছু চালান আটক হলেও বেশীর ভাগ সময়েই তারা থাকে ধরাছোয়ার বাহিরে। আর চোরাচালেনর বাহকরা আটক হলেও এর নেপথ্যেও নায়করা ধেকে যান অধরা। তবে এই চোরাকারবার প্রতিরোধে কোন বিশেষ পরিকল্পনা নেই বিমানবন্দও কর্তৃপক্ষের। উল্টো বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে বন্দর পরিচালক সাংবাদিকের পরিকল্পনার কথা জানতে চান।

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটের যাত্রীর কাছ থেকে স্বর্নের একটি বড় চালান আটক করে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) ও শুল্ক গোয়েন্দা সংস্থা। আটককৃতরা চার্জার লাইট, ফ্যান ও থাই গ্লাসের লকের ভেতর ঢুকিয়ে এসব স্বর্ণ নিয়ে আসছিলেন। উদ্ধার করা সোনার মধ্যে ১২০টি বার ও চারটি বল আকৃতির সোনার পিণ্ড রয়েছে। এসব সোনার ওজন ১৭ কেজির বেশি।

এঘটনায় দুই যাত্রীকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতরা হলেন- মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার বাসিন্দা সৈয়দ আহমদ ও সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার বাসিন্দা আফতাব উদ্দিন।

এদিকে, বিমানবন্দরের ইডিএস মেশিনে জটিলতা থাকায় এর সুযোগ নিয়ে অবাধে চোরাচালান চালিয়ে যাচ্ছে একটি চক্র। সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুটি স্ক্যানিং মেশিন (ইডিএস) থাকলেও সেগুলো তেমন একটা কাজে আসছে না।

একটি মেশিন গত বছরের ২৭ এপ্রিল থেকে অচল, অপরটি সচল থাকলেও তাতে মাদকদ্রব্য, অস্ত্র, বিস্ফোরক দ্রব্যসহ সন্দেহজনক বস্তু শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। সেই অর্থে দুটি মেশিনই যেন শোপিস হয়ে আছে। এতে এই বিমানবন্দর দিয়ে চোরাচালানের অবাধ সুযোগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা ঝুঁকিরও শঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বিমানবন্দরের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, কার্গো স্টেশনের স্ক্যানিং মেশিনের কাজ হচ্ছে কোনো পণ্যের চালানের মধ্যে নিষিদ্ধ দ্রব্য অথবা সন্দেহজনক বস্তু আছে কিনা, তা শনাক্ত করা। মেশিনের মনিটরে পণ্যের ইমেজ দেখা যায়। কিন্তু বর্তমানে সচল মেশিনটি তা করতে পারছে না। আবার স্ক্যানারের মনিটরেও কিছু প্রদর্শিত হয় না। এ অবস্থায় ইডিএস মেশিনটি যেকোনো পণ্যের চালান বেল্টের মাধ্যমে ডাইভার্ট করে ম্যানুয়াল পরীক্ষার জন্য ব্যাগ সার্চারে পাঠিয়ে দেয়। ইডিএস স্ক্যানার আগে থেকে স্ক্যানিং ইমেজ সম্পর্কে কোনো তথ্য না জানায় ব্যাগ সার্চারকে তথ্য দিতে পারে না। ফলে পণ্যের চালানে কোনো নিষিদ্ধ বস্তু থাকলে তা খুলে ম্যানুয়াল পরীক্ষা করতে হয় স্ক্যানিং অপারেটরদের। এ অবস্থায় অপারেটরদের একরকম ভীতির মধ্যে পণ্য চালান পরীক্ষা করতে হয়।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, স্ক্যানিং মেশিন নষ্ট থাকায় সিলেট বিমানবন্দর দিয়ে চোরাচালানের সুযোগ অবারিত হয়েছে। প্রতিদিনই স্বর্ণসহ নিষিদ্ধ বস্তু চোরাচালান হচ্ছে। আর এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তারা এর অবৈধ সুযোগ নিচ্ছেন। আবার কর্তৃপক্ষ মেশিন অচলের বিষয়ে অবগত থাকলেও অজানা কারণে তড়িৎ পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এ নিয়েও বড় প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে।ৎ

জানা যায়, ২০০৯ সালে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে সিলেটের একটি চোরাকারবারী চক্র দলীয় প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে সিলেট বিমানবন্দর দিয়ে স্বর্ন চোরাচালান শুরু করে। আর এতে তাদেরকে মদদ দেন কাস্টমস, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও বিমানবন্দরের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। কিন্তু গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্রজনতার গণঅভ্যূত্থানের পর আওয়ামীলীগ সরকারের পতন হলেও সেই অসাধু চক্র এখনো স্বর্ন চোরাচালানে তৎপর রয়েছে।

তবে সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিজ আহমেদ বলেছেন, আমরা চোখ কান খোলা রাখি এবং সজাগ দৃষ্টি থাকে বলেই তো এসব চোরাচালান ধরা পরে।

চোরাচালান প্রতিরোধে কোন বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চোরাচালান প্রতিরোধে আপনিই একটি পরিকল্পনা দেন, তাহলে আমি যথাযাত কর্তৃপক্ষকে বলব সেটি বাস্তবায়ন করার জন্য।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে যে, চোরাচালান প্রতিরোধের বিষয়ে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহনের সিদ্ধান্ত নেয়ার দায়িত্ব কি সাংবাদিকের?

আজকের সিলেট/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর