পুলিশ ও সিসিক কর্মচারীদের মদদে বেপরোয়া হকাররা
বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০৬:৫০ AM

নগরীজুড়ে তীব্র যানজট : চলছে বেপরোয়া চাঁদাবাজি

পুলিশ ও সিসিক কর্মচারীদের মদদে বেপরোয়া হকাররা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০১/০৩/২০২৫ ০৬:৫৪:২১ AM

পুলিশ ও সিসিক কর্মচারীদের মদদে বেপরোয়া হকাররা


রাত পোহালেই শুরু হবে পবিত্র মাহে রমজান। প্রতিবছর এই রমজান মাসে নগরবাসীকে তীব্র যানজট পোহাতে হয়। আর এর প্রধান কারন হচ্ছে অবৈধ গাড়ি পার্কিং ও ফুটপাত দখল। বছরজুড়েই নগরের অন্যতম প্রধান সমস্যা ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়া। ফুটপাত ছাপিয়ে নগরের অনেক সড়কেরও বহুলাংশ দখল করে রেখেছেন ভ্রাম্যমাণ হকাররা। ফলে নগরজুড়ে লেগে থাকে যানজট। হাঁটা-চলায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় পথচারীদের। আর হকারদের এই বেপরোয়া রাস্তা দখলের নেপথ্যে রয়েছেন কোতোয়ালী থানা, বন্দরবাজার ফাঁড়ি, ট্রাফিক পুলিশের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্চন্ন বিভাগের কিছু কর্মচারীরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ২০২১ সালে প্রথমে হকারদের পুনর্বাসনের জন্য অস্থায়ী মার্কেট নির্মাণ করে হকার পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছিল সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। দুই বছর ঘুরতে না ঘুরতেই ভেস্তে যায়, এর পর আবারো গত বছরের পুনরায় হরকারদের পুনর্বানের উদ্যোগ নেয়া হয়। অস্থায়ী মাঠেও চলে যায় হকাররা। কিন্তু গত ৫ আগষ্টের রাজনৈতিক পটপরবির্তনের পর আবারো রাস্তায় চলে আসে হকাররা।

এখন সিসিকের অস্থায়ী মার্কেটে আর বসেন না হকাররা। উল্টো নগরের ফুটপাত ছাপিয়ে তারা সড়কেরও বহুলাংশ দখল করে রেখেছেন। ফলে যানজট হয়েছে নগরের নিত্যসঙ্গী।

নগরবাসী বলছেন, সিটি করপোরেশন নজরদারি অব্যাহত রাখতে না পারার কারণেই হকার পুনর্বাসনের উদ্যোগটি চালু রাখা যায়নি। অন্যদিকে সিটি করপোরেশন বলছে, হকারদের সিন্ডিকেট আর পুলিশের অসহযোগিতার কারণে এই উদ্যোগ ধরে রাখা সম্ভব হয়নি।

নগরবাসী বলছেন, পুলিশ প্রশাসন আর  সিটি করপোরেশনের নজরদারি শিথিল হলে আগের অবস্থা ফিরে আসে। ফের বেদখল হয়ে যায় ফুটপাত। তবে নগরকর্তাদের অভিযোগ, হকারদের সিন্ডিকেট আর পুলিশের অসহযোগিতার কারণে পুনর্বাসনের উদ্যোগ কার্যকর করা যায়নি।

নগরের লালদীঘির পাড়ে হকারদের পুনর্বাসনের জন্য নির্মিত অস্থায়ী মার্কেটে গিয়ে দেখা যায়, ফাঁকা পড়ে আছে পুরো মাঠ। অস্থায়ী দোকানগুলোর বেশির ভাগই এখন আর নেই। হাতেগোনা কয়েকটি এখনো টিকে থাকলেও সেগুলো ফাঁকা পড়ে আছে।

একই সময়ে ওই মাঠ থেকে কয়েক ফুট এগিয়ে নগর ভবনের সামনে গিয়ে দেখা যায়, ফুটপাত ছাপিয়ে বন্দরবাজার-জিন্দাবাজার সড়কের বেশির ভাগ অংশই দখল করে আছেন হকাররা। ফলমূল, সবজি, মাছ, কাপড়, বাসনপত্র থেকে শুরু করে গাছের চারা, বাদাম, ঝালমুড়িসহ নানা পণ্যের পসরা তারা সাজিয়ে বসেছেন। সড়কের বেশির ভাগ অংশ হকারদের দখলে চলে যাওয়ায় এই সড়কে তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে ফুটপাত ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের দখলে থাকায় পথচারীদেরও ঝুঁকি নিয়ে সড়ক দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছিল। এ কারণে যানজট ছিল আরও বেশি।

একই চিত্র দেখা যায় নগরের তালতলা, নাগরী চত্বর, চৌহাট্টা, আম্বরখানা, কালীঘাট, লালবাজার, মেডিকেল রোড, ধোপাদীঘির পাড়, জিন্দাবাজার, রিকাবিবাজার, লামাবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায়।

হকারদের কারণে নগরের ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন জানিয়ে সিলেট চেম্বার অব কমার্সের একাধিক পরিচালক বলেন, ব্যবসায়ীরা ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে দোকান ভাড়া করে ভ্যাট-ট্যাক্স দিয়ে ব্যবসা করছেন। অথচ হকারদের এসবের কিছুই করতে হয় না। কিছু মালামাল নিয়ে তারা সড়কে বসে পড়ছেন। এতে বৈধ ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আর যান ও জনজট তো লেগেই আছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নগরীর ফুটপাতে এসব ভাসমান হকারদের কাছ থেকে প্রতিদিন দোকান প্রতি একশত টাকা থেকে আড়াইশ টাকা পর্যন্ত চাঁদা উঠানো হয়। আর এর গুরু দায়িত্ব পালন করেন হকার নেতাদের নির্ধারিত লাইনম্যানরা। ফুটপাতে দেড় হাজার দোকান থেকে প্রতিদিন গড়ে ১শ টাকা করে চাঁদা আদায় হলেও তার পরিমাণ দাঁড়ায় কয়েক লক্ষ টাকায়। এর প্রতিদিনই এই টাকা ভাগভাটোয়ারা হয় বন্দরবাজার ফাঁড়ির পুলিশ, ডিউটি পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ ও কোতোয়ালী থানা পুলিশের কর্মকর্তারা সহ সিসিকের কিছু কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে।

নগরীর শুধুমাত্র বন্দরবাজার ও জিন্দাবাজার এলাকায় রয়েছেন অন্তত ১০ জন লাইনম্যান। তারা হকারদের কাছ থেকে টাকা তুলে ভাগভাটোয়ারা করে নেন। এসব লাইম্যানদের মধ্যে লিটন, শাহাদাত, শাকিব, উজ্জল, কামাল, সাব্বির, জুয়েল অন্যতম।

সর্বশেষ গতকাল শুক্রবার রাতে জিন্দাবাজার এলাকায় হকারদের কাছ থেকে আদায়কৃত চাঁদা ভাগভাটোয়ারা নিয়ে যুবদল নেতা মাধবের সাথে লঙ্কাকাণ্ড ঘঠেছে। ঘটনার সূত্র ধরে দলের পদ হারিয়েছেন মাধব।

কোতোয়ালী থানার ওসি জিয়াউল হক বলেন, গতকাল একটি চাঁদাবাজি মামলা হয়েছে বলে লাইন কেটে দেন।

এসএমপির উপকমিশনার (উত্তর) শাহরিয়ার আলম ও এসএমপির মূখপাত্র এডিসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার বলেন, আমাদের পরিচ্চন্ন বিভাগের যারা জড়িত তাদের নাম দিলে আমরা ব্যবস্থা নিতে পারব।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর