সাত গোলের রোমাঞ্চে রিয়ালকে হারিয়ে শিরোপার দ্বারপ্রান্তে বার্সা
শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ০৯:৫৯ PM

সাত গোলের রোমাঞ্চে রিয়ালকে হারিয়ে শিরোপার দ্বারপ্রান্তে বার্সা

ক্রীড়া ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২/০৫/২০২৫ ০৬:৫২:০৯ AM

সাত গোলের রোমাঞ্চে রিয়ালকে হারিয়ে শিরোপার দ্বারপ্রান্তে বার্সা


আক্রমণ,গোল,অফসাইড,হ্যাট্রটিক দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও নাটকীয় প্রত্যাবর্তন-রোমাঞ্চে ঠাসা এক এল ক্লাসিকোই দেখল ফুটবল প্রেমীরা।সাত গোলের যেই রোমাঞ্চে শেষ হাসি বার্সালোনার।

লা লিগার মহাগুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে রোববার ৪-৩ গোলে জিতেছে হান্সি ফ্লিকের দল। চ‍্যাম্পিয়ন হতে শেষ তিন ম‍্যাচে কেবল একটি জয় প্রয়োজন তাদের।

চমৎকার হ‍্যাটট্রিকেও মৌসুমে বার্সেলোনার বিপক্ষে রেয়ালের চতুর্থ হার এড়াতে পারেননি কিলিয়ান এমবাপে। বার্সেলোনার হয়ে জোড়া গোল করেন রাফিনিয়া। লামিনে ইয়ামাল ও এরিক গার্সিয়া করেন একটি করে গোল। শুরুতে দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর প্রথমার্ধেই গোল চারটি করে তারা।

এই জয়ে লা লিগার শিরোপা একপ্রকার নিশ্চিত করে ফেলেছে কাতালানরা। লা লিগায় ৩৫ রাউন্ড শেষে ৭ পয়েন্টের লিড নিয়েছে বার্সা। বাকি তিন ম্যাচের একটিতে জিতলেই চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাবে তারা। 

রিয়াল মাদ্রিদ মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকোয় ঘরের মাঠে ৪-০ গোলে হারে। এরপর সুপার কাপ ও কোপা দেল রে’র ফাইনালে দাপটের সঙ্গে জয় তুলে নেয় ফ্লিকের দল। মৌসুমের শেষ ক্লাসিকোতেও হারল কার্লো আনচেলত্তির দল। 

এর আগে ২০০৮ থেকে ২০১০ মৌসুমে বার্সার পেপ গার্দিওলার অধীনে টানা চার এল ক্লাসিকোয় হেরেছিল রিয়াল মাদ্রিদ।

বার্সেলোনা-রিয়ালের এল ক্ল্যাসিকোয় শুরুর ১৫ মিনিট ছিল মাদ্রিদের।ম্যাচের বয়স ৫ মিনিট হতেই গোল করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। বার্সার পোলিশ গোলরক্ষক ভয়চেক সেজনি পেনাল্টি উপহার দেন রিয়ালকে। ১৪ মিনিটে ব্যবধান ২-০ করে ফেলেন এমবাপ্পে। য়ালের বক্সের কাছে লামিন ইয়ামালকে ফেলে দিলেও ফাউল ধরেননি রেফারি, কাউন্টার অ্যাটাক থেকে গোল করে রিয়ালকে ২-০তে এগিয়ে দেন ফরাসিদের বিশ্বকাপজয়ী তারকা।পরেই বার্সা কামব্যাক করে। ম্যাচের ১৯ মিনিটে কর্ণার থেকে নেওয়া কিকে গোল করেন বার্সা ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়া। ৩২ মিনিটে বাঁ পায়ের দারুণ শটে দলকে সমতায় ফেরান লামিনে ইয়ামাল।

দুই মিনিট পর ম্যাচের আরও চমক। রিয়াল ডিফেন্ডারদের ভুলে বল পেয়ে যান রাফিনহা, বাঁ-পায়ের জোরাল শটে বল জালে জড়াতে ভুল করেননি ব্রাজিলিয়ান। ম্যাচের প্রথম ৩৪ মিনিটে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৩-২ গোলে।

৪২ মিনিটে ম্যাচের আরও নাটক বাকি ছিল। কাউন্টার অ্যাটাকে বার্সেলোনার ডি-বক্সে বল পান এমবাপে, ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ংয়ের ফাউলে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। অফসাইডের কারণে বাতিল হয় পেনাল্টির সেই সিদ্ধান্ত। দুই মিনিট পর লুকাস ভাসকুয়েজের ভুলে বল পান রাফিনহা, পাস দেন ফেররান তরেসের দিকে, ব্যাক পাসে বল নিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। ম্যাচে বার্সেলোনা এগিয়ে যায় ৪-২ গোলে।

বিরতি থেকে ফিরে আরেকটি গোল করেন ইয়ামাল। অফসাইতে তা বাতিল হয়ে যায়। লামিন ইয়ামালের আরও একটি চেষ্টা রুখে দেন বেলজিয়ান গোলকিপার কোর্ত্তয়া। ৭০ মিনিটে ভিনিসিয়াস জুনিয়রের অ্যাসিস্টে রিয়ালের তৃতীয় এবং নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এমবাপে।

কিছু সময় পর ইয়ামালের বাড়ানো বলের সহজ সুযোগ থেকে গোল করতে পারেননি রাফিনহা। ৭৮ মিনিটে ফেররান তরেসের নেয়া শট শুয়ামেনির হাতে লাগে। রেফারি দীর্ঘসময় নিয়ে ভিডিও দেখার পরও পেনাল্টি না দিলে হতাশ হয় বার্সা।

বদলি হিসেবে নেমে ফেরমিন লোপেজ গোল করেছিলেন শেষদিকে। যোগ করা ছয় মিনিটের পাঁচ মিনিটের সময় ডি-বক্সের বাইরে থেকে দূরপাল্লার শট নেন তিনি। কোর্ত্তয়াকে ফাঁকি দিলেও রেফারি ভিএআর দেখে বার্সার গোলটি বাতিল করেন। পরের মিনিটে রাফিনহা হ্যাটট্রিক করার আরেকটি সুযোগ পেয়ে বল বারের বাইরে দিয়ে মারেন। এরপর রেফারি শেষ বাঁশি বাজালে জয়ের আনন্দে মেতে ওঠে বার্সেলোনা।

আজকের সিলেট/ডি/এপি

সিলেটজুড়ে


মহানগর