সারিবদ্ধ গাছপালা ও উভয়পাশে বয়ে চলা নদীর সৌন্দর্যে গড়ে ওঠা মিনি পর্যটনস্থান হিসেবে পরিচিত সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার শ্যামলবাজার পান্ডারখাল বাঁধ। কর্মব্যাস্ত দিন পার করে জেলা শহর থেকে শুরু করে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে অনেকেই সময় কাটানোর জন্য বাঁধে বেড়াতে আসেন।
বাঁধের উভয়পাশে সারিবদ্ধ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ, তার মাঝে বয়ে চলা নদী, প্রথম দেখাতেই মনে হয় এটি যেন বাঁধ নয়, একটি দ্বিপ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েকবছর ধরে স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যাবসায়ী নিজেদের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বাঁধ দখল করে উভয়পাশে বালু, ইট- পাথরের স্তুপ করে অবাধে ব্যাবসা পরিচালনা করছে। ফলে বাঁধটি হারিয়েছে তাঁর নিজস্ব সোন্দর্য একইসঙ্গে মরে যাচ্ছে দুই পাশে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা।
তারা জানান, ১৯৭৪ সালে ডেখার হাওরসহ আশপাশের হাওরগুলোর ফসল রক্ষায় বাঁধটি নির্মাণ করা হয়। তবে এখন বাঁধের চারপাশে দখলদারদের দৌরাত্ম্যে ইট ও পাথরের স্তুপ ছড়িয়ে আছে। এতে বর্ষার মৌসুমে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। সরকারি অর্থায়নে নির্মিত বসার ছাউনিগুলোও আর চোখে পড়ে না। ফলে একদিকে পরিবেশদূষণ ঘটছে, অন্যদিকে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ৫০ বছরের পুরনো এ বাঁধের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। যত্রতত্রভাবে রাখা ইট-বালু-পাথরের স্তুপের কারণে ফসল রক্ষার জন্য লাগানো বিভিন্ন প্রজাতির গাছ মরে যাচ্ছে। বাঁধের উভয় পাশে মাটি সরে যাওয়ায় ধ্বসের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এদিকে সড়কের পাশে যত্রতত্র ইট, বালু-পাথর রাখায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ পথচারীরা।
স্থানীয় জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘প্রতিকার চেয়ে অনেকবার উপজেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছি, মাঝেমধ্যে জরিমানা হয় কিন্তু কিছু দিন পরেই আগেরমত তাঁদের ব্যাবসা চলতে থাকে।’
পথচারী নুরুল আমিন বলেন, ‘ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলা থেকে জেলা শহর সুনামগঞ্জে যাতায়াতের একমাত্র সড়ক এটি। ফসল রক্ষা ও জেলা শহর সুনামগঞ্জে সহজে যাতায়াতের জন্য নির্মান করা হয়েছিল বাঁধটি। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যাবসায়ীদের কারণে আজ বাঁধটি হুমকির মুখে ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। এমনকি মাঝেমধ্যে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে।
দোহালিয়া ইউনিয়নের সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী মাসুদ রানা বলেন, ‘প্রতিদিনই এই সড়ক দিয়ে কলেজে যাওয়া আসা করি। মাঝেমধ্যে বাঁধের উপরে বসে বন্ধুদের নিয়ে গল্প করি ছবি তুলি। কিন্তু এখন আর সেই অবস্থায় বাঁধটি নেই চারি দিকে বালু-পাথরের স্তুপ। বসার কোনো জায়গা নেই।’ পান্ডারখাল বাঁধ থেকে অবৈধভাবে ইট, বালু-পাথরের ব্যবসা বন্ধ করে বাঁধের পরিবেশ ও সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট আহ্বান জানান তিনি।
দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরুপ রতন সিংহ বলেন, সরেজমিনে গিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি 








