শাল্লায় পানির নিচে তলিয়ে গেছে ৩৫০ কোটি টাকার ধান-খড়
শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ১২:৩১ PM

শাল্লায় পানির নিচে তলিয়ে গেছে ৩৫০ কোটি টাকার ধান-খড়

শাল্লা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৩/০৫/২০২৬ ১০:২৪:২৬ AM

শাল্লায় পানির নিচে তলিয়ে গেছে ৩৫০ কোটি টাকার ধান-খড়


সুনামগঞ্জের শাল্লায় এবছর হাওরে অন্তত ১৫০ কোটি টাকার ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে সেই সাথে পানিতে ভেসে গেছে অন্তত ২০০ কোটি টাকার খড় (গো-খাদ্য)। টানা বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় বোরো ধান ডুবে গিয়ে কৃষকদের এ ক্ষতি হয়েছে।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, শাল্লায় এ বছর ২১ হাজার ৭০০ হেক্টর জমি আবাদ করা হয়েছিল। সেখান থেকে ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লক্ষ ৪৩ হাজার ৩৬৮ মেট্রিক টন। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৫১৬ কোটি টাকা। তবে জলাবদ্ধতা পানিতে হাওরে তলিয়ে গিয়ে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৬৬ কোটি টাকা বাজারমূল্যের ২০ হাজার ১৭২ মেট্রিক টন ধান। শতকরা ক্ষতিগ্রস্ত দেখানো হয়েছে ১৪.০৯ শতাংশ ধান। কিন্তু হাওর নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সাথে কথা বলে পাওয়া গেছে ভিন্ন তথ্য। বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় কৃষকেরা জানান, এবছর হাওরে অন্তত ১৫০ কোটি টাকার ধান ও ২০০ কোটি টাকার গো-খাদ্য (খড়) পানিতে ভেসে গেছে।

স্থানীয় কৃষকেরা ও হাওর সংগঠনের একাধিক নেতৃবৃন্দ জানান, সরকারিভাবে কৃষি অফিস শুধু তলিয়ে যাওয়া ধানের ক্ষতি হিসেবের খাতায় অর্ন্তভুক্তি করেছে। কিন্তু অনেক কৃষকের ধান কাটার পরেও রোদ না থাকায় ধানে চারা গজিয়েছে। পঁচে গিয়ে সেসব ধান একেবারেই নষ্ট হয়ে গিয়েছে। সেই ধান পরবর্তীতে পানিতে ফেলে দিতে হয়েছে। সেই ক্ষতিগ্রস্ত  ধানগুলোর হিসাব সরকারি দপ্তরে নেই। তাছাড়া হাওরের কৃষকদের গৃহপালিত পশুর একমাত্র খাদ্য খড়ও পানিতে ভেসে গিয়েছে। ফলে বাস্তবে ধানের ক্ষতির পরিমাণ ৪১ হাজার ৬৬৬ মেট্রিক টনে দাঁড়িয়েছে। সরকারি মূল্যে যার বাজারমূল্য ১৫০ কোটি টাকা।

এদিকে সারা বছরের খোরাক (খাদ্য) সোনালী ফসল তলিয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হাওরের অধিকাংশ কৃষক। ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা, সংসারের বাজার-সদাইয়ের খরচসহ যাবতীয় খরচ চালানো হয় এই ফসল থেকে। কিন্তু এখন আনন্দের বদলে কৃষকদের ঘরে ঘরে এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

জানা গেছে, শাল্লা উপজেলায় মোট কৃষকের সংখ্যা ২৬ হাজার ৭৯৯ জন। এরমধ্যে ২০ হাজার ২৫০ জন কৃষকের নাম ক্ষতিগ্রস্ত তালিকায় তোলা হয়েছে। সেই তালিকা নিয়েও নানা ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় কৃষকেরা। ইতোমধ্যে বেশকিছু অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্যও পাওয়া গেছে ফলে জেলা থেকে সেই তালিকা পুনরায় সংশোধনের জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে।

হাওর বাঁচাও আন্দোলন শাল্লা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত সেন বলেন, বলেন জলাবদ্ধতায় কৃষকদের যে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছিল ১৫০ কোটি টাকার ধান ক্ষতি হবে এটা স্বাভাবিক। এই ক্ষতি ছাড়াও কৃষকদের আরো বড় একটি ক্ষতি হলো গো-খাদ্য। হাওরের কৃষকদের শতভাগ গো-খাদ্য তলিয়ে গেছে। কৃষকদের সহায়তার পাশাপাশি কৃষকদের গো-খাদ্য ও গৃহপালিত পশুদের নিয়েও সরকারকে ভাবতে হবে।

হাওর ও নদী রক্ষার শাল্লা উপজেলা শাখার সদস্য সচিব আনোয়ার হোসেন বলেন, কৃষি অধিদপ্তর কৃষকের সঠিক ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণ করতে পারেননি। এবছর হাওরে ধানের ক্ষতি ১৫০ কোটি টাকা উপরে যাবে বলে আমি মনে করি।

প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. এফএম বাবরা হ্যামলিন জানান গো-খাদ্য ক্ষয়ক্ষতির নির্ধারণ করবে কৃষি অফিস। কৃষি অধিদপ্তর বলেছে গো-খাদ্যের বিষয়টি দেখবে প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গো-খাদ্যের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করিনি।পরে করা হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শুভজিৎ রায় বলেন, পানিতে নিমজ্জিত হয়ে কৃষকদের ফসল ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমরা শুধু পানিতে নিমজ্জিত ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের হিসেব করেছি। সরকারি সহায়তার পাশাপাশি কৃষি প্রণোদনা দিয়েও কৃষকদের পুর্নবাসন করার কাজ চলছে বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে জানতে সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. উমর ফারুককে একাধিকবার ফোন করা হলেও ফোন রিসিভ করেননি।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর