বিভ্রান্তি না ছড়াতে সাবিনা ইয়াসমিনের অনুরোধ
বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৫:৫৫

বিভ্রান্তি না ছড়াতে সাবিনা ইয়াসমিনের অনুরোধ

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬/০২/২০২৪ ১২:৫৭:২৮

বিভ্রান্তি না ছড়াতে সাবিনা ইয়াসমিনের অনুরোধ


কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন নিয়মিত চেকাপের জন্য বর্তমানে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন। তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে সামাজিকমাধ্যম থেকে গণমাধ্যমেও নানা বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ দেখা যাচ্ছে। বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হয়েছে সাবিনা ইয়াসমিনেরও।

ইতিমধ্যে বেসরকারি একটি একটি টিভি চ্যানেলকে অডিও বার্তায় সিঙ্গাপুরে নিজের চিকিৎসা সেবা নিয়ে বিস্তারিত জানান এই কিংবদন্তি। সেই সঙ্গে সবাইকে অনুরোধ জানান, তার চিকিৎসা নিয়ে যেন কেউ বিভ্রান্তি না ছড়ান।

সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, আমি আপনাদের সাবিনা ইয়াসমিন। আমার ভক্ত শুভাকাঙ্ক্ষীদের কিছু কথা বলতে চাই। আপনারা জানেন, ২০০৭ সালে আমার অসুস্থতার কথা। তারপর থেকে প্রতি বছর নিয়মিত চেকাপের জন্য সিঙ্গাপুর যেতে হয়। এবারও ব্যতিক্রম হয়নি। তবে এবার চেকাপে এসে আমার দাঁতের একটা সমস্যা দেখা যায়। চিকিৎসক আমাকে সেটা রিমুভ করতে বলেন। তারই প্রেক্ষিতে গেল ৭ ফেব্রুয়ারি ছোট একটা সার্জারির মাধ্যমে তা সম্পন্ন হয়।

অসংখ্য কালজয়ী গানের এই শিল্পী বলেন, ডাক্তারের সঙ্গে আমার পরবর্তী অ্যাপয়েন্টমেন্ট মার্চের ১৫ তারিখে। ততোদিন পর্যন্ত আমি চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণেই থাকবো। অ্যাপয়েন্টমেন্টের পর চিকিৎসক যেভাবে বলবেন, সেভাবেই চলবো। তারপরই আপনাদের দোয়ায় দেশে ফিরে আসবো ইনশাআল্লাহ।

সাবিনা ইয়াসমিন শেষ প্লেব্যাক করেছেন প্রয়াত চিত্রনায়িকা ও নির্মাতা কবরী পরিচালিত ‘এই তুমি সেই তুমি’ সিনেমার ‘দুটি চোখে ছিল কিছু নীরব কথা’ শিরোনামের একটি গানে। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে গানটিতে কণ্ঠ দেন তিনি। এ ছাড়া কবরীর ‘এই তুমি সেই তুমি’ সিনেমার চারটি গানে সুরও দেন সাবিনা ইয়াসমিন। এর মাধ্যমে ক্যারিয়ারে প্রথমবার তিনি সুরকার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।

সাবিনা ইয়াসমিন মাত্র সাত বছর বয়সে স্টেজে গান শুরু করেন। এরপর প্রায় পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে বাংলা গানের ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করে যাচ্ছেন তিনি। দেশের গানেই তার যে অবদান, তা দিয়েই বাংলার বুকে বেঁচে থাকবেন শত শত বছর।

১৯৬২ সালে এহতেশাম পরিচালিত ‘নতুন সুর’ সিনেমাতে শিশুশিল্পী হিসেবে প্রথম গান গাওয়ার সুযোগ পান সাবিনা ইয়াসমিন। আর ১৯৬৭ সালে প্রথম প্লেব্যাক করেন আমজাদ হোসেন ও নুরুল হক বাচ্চু পরিচালিত ‘আগুন নিয়ে খেলা’ চলচ্চিত্রে। এরপর অসংখ্য সিনেমায় প্লেব্যাক করেছেন তিনি।  

১৯৭১ সালে নঈম গহরের লেখা ও আজাদ রহমানের সুরে সাবিনা ইয়াসমিনের ‘জন্ম আমার ধন্য হলো মাগো’ গানটি গেয়েছিলেন। এই গানটি মুক্তিযোদ্ধাদের অসীম প্রেরণা জুগিয়েছিল।  

সাবিনা ইয়াসমিনের গাওয়া গানের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। তার জনপ্রিয় গানের তালিকায় রয়েছে- ‘একবার যেতে দে না’, ‘সব কটা জানালা খুলে দাও না’, ‘কতো সাধনায় এমন ভাগ্য মেলে’, ‘ও মাঝি নাও ছাইড়া দে’, ‘সুন্দর সুবর্ণ’, ‘এই মন তোমাকে দিলাম’, ‘মনেরই রঙে রাঙাবো’, ‘তুমি বড় ভাগ্যবতী’, ‘ও আমার রসিয়া বন্ধু রে’, ‘এই পৃথিবীর পরে’, ‘সেই রেললাইনের ধারে’, ‘আমার হৃদয়ের আয়না’, ‘তুমি যে আমার কবিতা’, ‘আমি রজনীগন্ধা ফুলের মতো’, ‘বাবা বলে গেলো’, ‘একি সোনার আলোয়’  ইত্যাদি।

সাবিনা ইয়াসমিন ১৯৭৫ সালে ‘সুজন সখী’ সিনেমাতে গান গাওয়ার জন্য প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে সর্বমোট ১৪ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ কণ্ঠশিল্পীর পুরস্কার অর্জন করেছেন তিনি। যা জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের ইতিহাসে অনন্য এক রেকর্ড।

এছাড়া কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ বরেণ্য এই সঙ্গীতশিল্পী একুশে পদক, স্বাধীনতা পুরস্কার, ১৯৮৫ সালে গানের জন্য ভারত থেকে ‘ডক্টরেট’, উত্তম কুমার পুরস্কার, ৬ বার বাচসাস পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননা পেয়েছেন।

আজকের সিলেট/বিএন/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর