পরিচ্ছন্ন শাখার কর্মচারী ফারুকের আলাদিনের চেরাগ!
সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ১০:৩৬ AM

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের অনিয়ম-দুর্নীতি- ১

পরিচ্ছন্ন শাখার কর্মচারী ফারুকের আলাদিনের চেরাগ!

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৪/১১/২০২৫ ১০:৩৭:৪২ AM

পরিচ্ছন্ন শাখার কর্মচারী ফারুকের আলাদিনের চেরাগ!


সিলেট সিটি কর্পোরেশনের অনিয়ম ও দুর্নীতি এখন অনেকটাই অপেন সিক্রেট। বিগত সময়ে ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগের প্রভাব খাটিয়ে এখানকার কর্মকর্তা কর্মচারীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। আলাদিনের চেরাগের ছুয়ায় অনেকেই এখন বাড়িগাড়ির মালিক। পরিচ্ছন্নকর্মী থেকে গাড়ি চালকরা পর্যন্ত গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়। ফ্যাসিবাদের পতনের পর বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দুর্নীতির বিষয়ে জিরো ট্রলারেন্সে অবস্থান নিলেও সিসিকের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এখনো বেপরোয়া রয়েছেন।

তেমনই একজন সিসিকের পরিচ্ছন্ন শাখার কর্মচারী গোয়াইনঘাট উপজেলার আলীরগাও ইউনিয়নের রাউতগ্রামের শফিকুর রহমান পুত্র ফারুক আহমদ। ২০০৬ সালে অস্থায়ী ভিত্তিতে সিসিকের যোগদানের পর ২০১৩ সালে আদালতের একটি রায়ে তার চাকুরী স্থায়ী হন সুপারভাইজার পদে। এর পর তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। রাতারাতি ভাগ্য পরিবতর্ন হয়ে গেছে।

সিসিকের তার নিয়ন্ত্রিত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিজের ভাই, ভাগ্না, শ্যালক ও আত্নীয় স্বজন সহ অন্তত দেড়শতাধিক ব্যাক্তিকে চাকুরী দিয়েছেন, করেছেন মোটা অংকের বাণিজ্য। নামে বেনামে গড়ে তুলেছেন কোটি কোটি টাকার সম্পদ। কোথাও নিজের নামে আবার কোথাও আত্নীয় স্বজনের নামে। আশ্চর্যের বিষয় হলো সিসিকের এই কর্মচারীর সম্পদ প্রকাশ্যে আসার ভয়ে গত বছর পর্যন্ত টিআইএন এর অন্তর্ভূক্ত হয়ননি। কারন ট্যাক্স রিটার্নে তার আয়ের সাথে অর্জিত সম্পদের মিল থাকবে না। আর তখন জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ নিয়ে বিপাকে পড়তে হবে।

বর্তমানে শহরতলীর বটেশ্বর চুয়াবহর এলাকায় ৫ তলা বাড়ির কাজ চলছে দ্রুত গতিতে।  এছাড়াও আলমপুর আবাসিক এলাকায় হাফিজি মাদ্রাসার পাশে ১২ ডিসিমেলের (পিচ্চি বাবুলের বাসার পাশে ) প্লট ও পাসপোর্ট অফিসের বিপরীত পাশে তার ৮ ডিসিমেলের প্লট রয়েছে। গোয়াইনঘাট উপজেলার ইউনিয়ন অফিসের সাথে বাইপাস এলাকায় রয়েছে ৮ ভিগা জমি যার মূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সিলেট সিটি করপোরেশনের বর্জ বিভাগ একটি অলৌকিক কর্মস্থল। এখানে যারাই কর্ম করেন তারা বেশিরভাগই মহা ভাগ্যবান। তাদের জীবনে কোনো অসুস্থতা নেই। বছরের ৩৬৫ দিনই সুস্থ থাকেন তারা। হাজিরার বহি অনুযায়ী খাতা কলমে উঠে এসেছে ওইসব তথ্য। ওই অলৌকিক ঘটনার মুল কারিগর বর্জ বিভাগের কর্মচারী ফারুক আহমদ। ফারুকের এই সিন্ডিকেটে রয়েছেন ড্রাইভার পিচ্চি বাবুল ও সাদিক, ইকবাল, মামুন, শাহআলম, নাঈমরা। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৪২ টি ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্ন কর্মী আছেন চার শতাধিক। অস্থায়ী বা দিনমজুর হিসেবে এসব কর্মী দুই শিফটে নগরীর পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন। বর্জ্য অপসারণের জন্যে প্রতিটি ট্রাকে পরিচ্ছন্ন কর্মী থাকেন ৪ জন করে। যাদের সবাই অস্থায়ী কর্মী।

সূত্র জানায়, ওইসব কর্মীর হাজিরা খাতায় কোনো অনুপস্থিত নেই। মাসের ত্রিশ দিনই তারা হাজিরা দিয়ে থাকেন। পরিচ্ছন্ন কর্মীরা মাস শেষে ত্রিশ দিনের হাজিরা পেয়ে থাকেন এমন তথ্য রয়েছে কাগজে কলমে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। বিশাল একটি অংশ চলে যায় দায়িত্বশীলদের পকেটে।

সুত্র জানায়, প্রকৃতপক্ষে পরিচ্ছন্ন কর্মীরা যে কয়দিন হাজির থাকেন সেই কয়দিনের মজুরি পেয়ে থাকেন। আর বাকি টাকা ভাগবাটোয়ারা হয়ে যায়। আর বাস্তবতা হচ্ছে, প্রত্যেক কর্মীই মাসে
কমপক্ষে ৪ দিন অনুপস্থিত থাকেন। কিন্তু হাজিরা খাতায় দেখানো হয় ৩০ দিনের হাজিরা। অনেক কর্মী আবার মাসে ৮-১০ দিনও অনুপস্থিত থাকেন। তাদেরকেও ৩০ দিন উপস্থিত দেখানো হয়। হাজিরা খাতার ওই উপস্থিত কারসাজির মাধ্যমে প্রতি মাসে কমপক্ষে ৫ লাখ টাকা অনৈতিকভাবে হাতিয়ে নেয় ফারুক সিন্ডিকেট।

বিষয়টি নিয়ে জানতে সিসিকের পরিচ্ছন্ন শাখার কর্মচারী ফারুক আহমদের কাছে জানতে চাইলে তিনি সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন।

সিসিকের অনিয়ম ও দুর্নীতি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবৈধ সম্পদ বিবরণীর বিষয়ে আমাদের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। বিস্তারিত জানতে আমাদের সঙ্গেই থাকুন।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর