বিশ্ববাজারে যাবে সিলেটের শাকসবজি, হচ্ছে প্যাকেজিং সেন্টার: বাণিজ্যমন্ত্রী
শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৭ PM

বিশ্ববাজারে যাবে সিলেটের শাকসবজি, হচ্ছে প্যাকেজিং সেন্টার: বাণিজ্যমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩/০৭/২০২৬ ০৬:৩২:৫৭ PM

বিশ্ববাজারে যাবে সিলেটের শাকসবজি, হচ্ছে প্যাকেজিং সেন্টার: বাণিজ্যমন্ত্রী


সিলেটে শাকসবজি রপ্তানির জন্য একটি প্যাকেজিং সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে যে পরিমাণ শাকসবজি রপ্তানি হয়, তার প্রায় অর্ধেকই আসে সিলেট থেকে। সামান্য কিছু লজিস্টিক সমস্যার সমাধান করা গেলে সিলেট দেশের রপ্তানির অন্যতম প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শুক্রবার সিলেট সদর উপজেলায় জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৬-এর পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে ইনশাআল্লাহ সিলেটে এই প্যাকেজিং সমস্যার সমাধান করব। প্যাকেজিং সেন্টারটি ইনশাআল্লাহ সিলেটে পাবে। এয়ার কার্গো সার্ভিস সিলেট থেকে চালু করা নির্দিষ্ট সময় বলতে পারব না, কিন্তু এটির জন্য আমরা কাজ করছি। কিছুদিনের মধ্যেই বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী সিলেট সফর করবেন এবং ইনশাআল্লাহ এটা নিয়ে আমরা কাজ করছি।

তিনি আরও বলেন, আমার একটা জোরালো আশা যে সিলেট থেকে যেভাবে আমরা কার্গোর মাধ্যমে পৃথিবীর বিভিন্ন গন্তব্যে শাকসবজি, মাছ ও অন্যান্য জিনিস পাঠাতে দেখব, একইভাবে উত্তরাঞ্চলের সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকেও যেন চীনসহ বিভিন্ন গন্তব্যে শাকসবজি রপ্তানি করা যায় এই দুই জায়গা থেকেই ভবিষ্যতে এই সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে আমার আশা।

অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী সরকারের সাম্প্রতিক বাজেট প্রসঙ্গেও কথা বলেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার তার প্রথম বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য—এই দুই খাতে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। লক্ষ্য হলো, ভবিষ্যতে জিডিপির ৫ শতাংশ যেন স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ হয়, যা হবে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগের অন্যতম প্রধান খাত।

তিনি জানান, দেশের প্রতিটি উপজেলায় উন্নয়ন-সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে এক ছাদের নিচে আনতে একটি মাল্টিস্টোরিড ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে একটি সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। যদি আমরা ইতিবাচক ফলাফল পাই, তাহলে আশা করি শুধু সিলেট সদর উপজেলা নয়, বাংলাদেশের সব উপজেলাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে সেবাপ্রার্থীদের বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাঘুরি করতে না হয়, বলেন তিনি।

চা বাগানের শিক্ষা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে অনেক চা বাগানে প্রকৃত অর্থে কোনো স্কুল নেই। এ সংকট নিরসনে সরকার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে, যার আওতায় সাতটি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া চা বাগানে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অভাব পূরণে কয়েকটি বাগান নিয়ে ক্লাস্টার গঠন করে সেখানে অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

সিলেট সদর উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের সব কোডভুক্ত সড়ককে উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি পুরো সিলেট বিভাগের গ্রামীণ সড়ক (এলজিইডি) উন্নয়নের জন্য একটি বড় প্রকল্প প্রস্তুতির পর্যায়ে রয়েছে বলেও জানান তিনি। এ ছাড়া কৃষি জমির জলাবদ্ধতা ও শুষ্ক মৌসুমে সেচ-সংকট নিরসনে বিশেষ উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

সিলেট এয়ারপোর্ট-লাক্কাতুরা সড়ক, শাহি ঈদগাহ-লাক্কাতুরা-সাহেব বাজার সড়ক এবং সাহেব বাজার-খাদিমপাড়া-কালাগঞ্জ বাজার সড়কসহ বেশ কয়েকটি সড়কের উন্নয়নকাজ চলমান বা পরিকল্পনাধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী জানান, খাদিমপাড়া ও কোটাপাড়া এলাকায় প্রায় ২০০ একর জায়গাজুড়ে একটি নতুন শিল্পপার্ক নির্মাণ করা হবে, যেখানে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশে নীতি সহায়তা ও প্রণোদনা দেওয়া হবে।

আজকের সিলেট/এপি

সিলেটজুড়ে


মহানগর