শাহ আরেফিন টিলার পাথর লুট থামবে কবে?
শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ০৫:১৫ AM

শাহ আরেফিন টিলার পাথর লুট থামবে কবে?

কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৭/১১/২০২৫ ০৪:৩২:০৮ PM

শাহ আরেফিন টিলার পাথর লুট থামবে কবে?


কোম্পানীগঞ্জে পাথর লুট যেন কিছুতেই থামছে না। সম্প্রতি সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্রে অবৈধ পাথর উত্তোলনের ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড়ের পর প্রশাসন ও যৌথবাহিনী ব্যাপক অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ পাথর উদ্ধার করেছিল। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই ফের শুরু হয়েছে ‘পাথরের খনি’খ্যাত শাহ আরেফিন টিলা এলাকায় অবৈধ পাথর উত্তোলন ও পরিবহন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শাহ আরেফিন টিলার প্রায় ৮৫ শতাংশ পাথর ইতিমধ্যেই লুট হয়ে গেছে। প্রশাসনের অভিযানে সাময়িক বিরতি এলেও আবারও বেপরোয়া গতিতে চলছে টিলা কেটে পাথর সরিয়ে নেওয়া। এর ফলে ঐতিহাসিক টিলাটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বুধবার গভীর রাতে ও বৃহস্পতিবার দুপুরে পৃথক অভিযানে শাহ আরেফিন টিলা থেকে লুট করা মোট পাঁচটি গাড়ি-চারটি ট্রলিজাতীয় যান ও একটি ট্রাক-পাথরসহ জব্দ করেছে প্রশাসন।

বুধবার দিবাগত রাতে কোম্পানীগঞ্জ হাইওয়ে সড়কে উপজেলা সহকারী ভূমি কর্মকর্তা পলাশ তালুকদারের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালায়। এ সময় শাহ আরেফিন টিলার পাথরভর্তি চারটি ট্রলি হেফাজতে নেওয়া হয়। চালকেরা গাড়ি ফেলে পালিয়ে যায়। অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করে কোম্পানীগঞ্জ থানার পুলিশ।

এছাড়া বৃহস্পতিবার দুপুরে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সামনে তল্লাশিচৌকিতে এক ট্রাকভর্তি পাথর জব্দ করা হয়। ট্রাকচালক পালিয়ে যান। উদ্ধারকৃত পাথর উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে পুলিশের জিম্মায় রাখা হয়েছে।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মো. রতন শেখ বলেন, ‘আটক করা গাড়িগুলো শাহ আরেফিন টিলা থেকে অবৈধভাবে উত্তোলিত পাথর বহন করছিল। এগুলো পুলিশের জিম্মায় রাখা হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে পাথর জব্দের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।’

উল্লেখ্য, সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সরকারি খাস খতিয়ানের ১৩৭ দশমিক ৫০ একর জায়গাজুড়ে অবস্থিত শাহ আরেফিন টিলা। প্রায় ৭০০ বছর আগে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর সফরসঙ্গী হজরত শাহ আরেফিন (রহ.) এখানে অবস্থান করেছিলেন। তাঁর নামানুসারেই টিলাটির নামকরণ। এখন সেই ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের প্রতীক টিলাটি অবৈধ পাথর লুটের কারণে ধ্বংসের মুখে পড়েছে।

সম্প্রতি সাদাপাথর এলাকায় পাথর লুটের ঘটনায় প্রশাসন ২৪ ঘণ্টা পুলিশি তল্লাশিচৌকি বসিয়ে অভিযান চালিয়েছিল। কিন্তু প্রশাসনের নজরদারি কিছুটা শিথিল হতেই ফের মাথাচাড়া দিয়েছে অবৈধ পাথর ব্যবসায়ী চক্র। ফলে স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন-পাথর লুটের এই দৌরাত্ম্য থামানো না গেলে সিলেটের প্রাকৃতিক ঐতিহ্য ও পরিবেশ মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর