স্বপন মিয়া। দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও চোরাচালান চক্রের সঙ্গে জড়িত। পুলিশের উপস্থিতি টের পেলেই দ্রুত গা-ঢাকা দেওয়ার কারণে তাকে ধরতে বারবার ব্যর্থ হচ্ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তার একাধিক সোর্স থাকায় পুলিশের উপস্থিতি আগাম তথ্য পেয়ে পালিয়ে যেত সহজেই।
পরে পুলিশের অভিনব কৌশল গ্রহণ করে। স্বামী-স্ত্রীর ছদ্মবেশে ধারণ করে পুলিশ সেই মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
রোববার তাকে আদালতে প্রেরণ করা হচ্ছে। এর আগে শনিবার বিকেলের দিকে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের ৪ নম্বর সিন্দুরখান ইউনিয়নের কুঞ্জবন এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশের অভিনব কৌশলে দীর্ঘদিনের ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক মাদক কারবারি স্বপন মিয়াকে (৩৪) নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, স্বপন মিয়া দীর্ঘদিন মাদক ও সীমান্ত ঘেঁষা চোরাচালান চক্রের সঙ্গে জড়িত। পুলিশ তাকে ধরতে বারবার ব্যর্থ হচ্ছিল। এই পরিস্থিতিতে শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শরাফত আলী ভিন্নধর্মী পদ্ধতি গ্রহণ করেন। তিনি বোরকা পরে নারী চরিত্রে এবং সঙ্গীয় পুলিশ কনস্টেবল মো. রোকন উদ্দিন পাঞ্জাবি-টুপি পরে স্বামী সেজে মোটরসাইকেলে স্বপন মিয়ার বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করেন। ঘরে ঢোকার পর দেখা যায়, স্বপন মিয়া বিছানায় শুয়ে আছে। পরিস্থিতি অনুধাবন করার আগেই পুলিশ তাকে দ্রুত গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
শ্রীমঙ্গল থানার এএসআই শরাফত আলী বলেন, মাদক কারবারি স্বপনকে গ্রেফতারে দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করছি। সে অত্যন্ত চতুর। সামান্যতম পুলিশি নড়াচড়া টের পেলেই পালিয়ে যেত। এজন্য কৌশলগত পরিবর্তন আনতে হয়েছে। অবশেষে ছদ্মবেশে অভিযান চালিয়ে সফলভাবে তাকে গ্রেফতার করতে পেরেছি।
শ্রীমঙ্গল থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, আসামি গ্রেফতারের এই সফল অভিযান প্রশংসনীয়। ওয়ারেন্টভুক্ত কোনো অপরাধীই আইনের বাইরে থাকতে পারবে না। অপরাধীরা যতই কৌশল অবলম্বন করুক, পুলিশ প্রয়োজনীয় বুদ্ধি ও পদ্ধতি প্রয়োগ করে তাদের আইনের আওতায় আনবে। গ্রেফতার স্বপন মিয়াকে রোববার (৯ নভেম্বর) বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হবে।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি 








