শাপলা বিলে বাড়ছে পর্যটকদের ভিড়
মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ০২:২৯ AM

শাপলা বিলে বাড়ছে পর্যটকদের ভিড়

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৭/১২/২০২৫ ১১:০২:১৫ AM

শাপলা বিলে বাড়ছে পর্যটকদের ভিড়


জৈন্তাপুর উপজেলায় অবস্থিত জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র ডিবির হাওরের লাল শাপলা বিলে এখন চলছে ভরা মৌসুম। প্রতিদিন ভোরের আলো ফুটতেই শুরু হচ্ছে পর্যটক ও দর্শনার্থীদের আগমন। তারা বিলে নৌকা নিয়ে ঘুরছেন, উপভোগ করছেন লাল শাপলার সৌন্দর্য। সেই সঙ্গে দাবি জানাচ্ছেন অবকাঠামোগত উন্নয়নের।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথে লাল শাপলা বিলের ‘শাপলা রাজ্যে’ মিষ্টি রোদে ফুলগুলো প্রস্ফুটিত হয়ে ওঠে। এ সময় বিলে সবচেয়ে বেশি সৌন্দর্য ফুটে ওঠে। জাফলং ও বিছনাকান্দি গমনকারী বেশিরভাগ পর্যটক সকালের এই অপরূপ দৃশ্য দেখতে ভিড় করেন ডিবির হাওরে। আর পর্যটক ও দর্শনার্থীদের ভোরে উপস্থিতির কথা চিন্তা করে কনকনে শীতের মধ্যে প্রস্তুতি নিয়ে তৈরি থাকেন বিলের নৌকার মাঝিরা। 

ডিবির হাওরের মূল সৌন্দর্য ঘাট থেকে রাজা বিজয় সিংহের সমাধি পর্যন্ত নৌযাত্রা। এক্ষেত্রে নৌযাত্রায় প্রতি ট্রিপে পর্যটকদের গুনতে হয় ৫০০ টাকা। রাজা বিজয় সিংহের সমাধিস্তম্ভ মেঘালিথ পাথরের তৈরি প্রাচীন এক স্থাপত্যশৈলী, যা পর্যটকদের ফটোসেশনের অন্যতম জনপ্রিয় একটি স্পট। পেছনে মেঘালয়ের সবুজে ঘেরা পাহাড় দেখে বাড়তি সৌন্দর্য উপভোগ করেন দর্শনার্থীরা। 

সাপ্তাহিক ছুটির দুইদিন শুক্রবার ও শনিবার দিনভর পর্যটকের ভিড় লেগে থাকে। এই দুইদিন ডিবির হাওর এলাকার রাস্তায় সৃষ্টি হয় যানজট। হকার থেকে শুরু করে ক্যামেরাম্যান- সবাইকে ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা যায়।

নরসিংদী সদর উপজেলার ব্যাংক কর্মকর্তা আন্দালিব নিজাম পরিবার নিয়ে ডিবির হাওর এলাকায় বেড়াতে এসে তার অনুভ‚তি জানান। তিনি বলেন, শীতের সকালের এই হিমেল হাওয়ায় এক প্রান্তে সবুজ পাহাড় আর সমতলে পানির ওপর লাল শাপলা- এমন অপরূপ দৃশ্যের সত্যিই জুড়ি নেই। এমন জায়গায় বারবার আসার ইচ্ছা হয়। 

ঢাকার ওল্ড ডিওএইচএস’র বাসিন্দা খাইরুল আলম বলেন, দুই বছর আগে বর্ষা মৌসুমে প্রথমবার ডিবির হাওরের লাল শাপলা বিলে বেড়াতে এসেছিলাম। তবে শীত মৌসুমে এলাম এই প্রথমবার। শীতের সকালে মিষ্টি রোদে নৌকায় চড়ে শাপলা বিলে বিচরণ- এটা অন্যরকম একটা অনুভ‚তি। 

তিনি আরও বলেন, যে হারে শাপলা বিল গোটা দেশের মানুষের নিকট পরিচিতি লাভ করছে, অদূর ভবিষ্যতে আরও মানুষের চাপ এখানে বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু সেই অপেক্ষা পর্যটকদের জন্য সেবামূলক অবকাঠামো অনেক কম। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি দেওয়ার আহবান জানাচ্ছি। 

লাল শাপলা বিল সুরক্ষা কমিটির সভাপতি সাইফুল আহমেদ জানান, গাড়ি পার্কিং থেকে শুরু করে যানজট নিয়ন্ত্রণসহ পর্যটকদের যাবতীয় সেবা প্রদানে ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ১৯ সদস্যের স্বেচ্ছাসেবী টিমে নিয়মিত কাজ করছে। বিশেষ করে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সেবার পরিধি আরও বৃদ্ধি করা হয়। 

লাল শাপলা বিলের অবকাঠামোগত উন্নয়ন বিষয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী এ কে এম রিয়াজ মাহমুদ বলেন, দিন দিন ডিবির হাওরের লাল শাপলা বিলে পর্যটকদের আগমন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইতোমধ্যে তামাবিল মহাসড়ক থেকে ডিবির হাওর পর্যন্ত এক কিলোমিটার অংশজুড়ে ৮০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে রাস্তা পাকাকরণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তাছাড়া শাপলা বিল এলাকায় আগামী অর্থবছরের মধ্যে নতুন ওয়াশব্লক, ক্যাফেটেরিয়া ও রেস্টরুম নির্মাণের কাজ শুরু হবে। 

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর