দেশে এখন বইছে নির্বাচনী আবহ। ২৯ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক প্রার্থীরা তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এখন অপেক্ষা যাচাই-বাছাইয়ের ফলাফলের দিন পর্যন্ত। দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপি তাদের প্রার্থী ঘোষনা করেছে অনেক আগেই। জামায়াতে ইসলামীও এর অনেক আগেই প্রার্থী ঘোষণা করেছিল ঠিকই, কিন্তু বাধ সাধে ১১ দলীয় জোট হয়ে।
জামায়াতে ইসলামীসহ দেশের আরও দশটি রাজনৈতিক দল নিয়ে এ জোট হয়েছে। সর্বশেষ তাদের সাথে যুক্ত হয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টিও (এনসিপি)। তাদের মধ্যে এখনো জোটের আসন ভাগাভাগি নিয়ে আলাপ চলছেই। পাশাপাশি এ জোটের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থী ও সমর্থকদের মধ্যেও কাজ করছে উত্তেজনা। সেই উত্তেজনাই তৈরি হয়েছে সিলেটের অতিগুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী আসন সিলেট-৩ এ। এখানে এসে জোটদলগুলো পড়েছে মহা বিপাকে।
কারণ এই আসনটি জোটের ৪ টি দল চাইছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এখানে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা লোকমান আহমদ, এনসিপির প্রার্থী ব্যারিস্টার নুরুল হুদা জুনেদ, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা দিলওয়ার হোসাইন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হাফিজ মুসলেহ উদ্দিন রাজু। এ ৪ জনই হেভিওয়েট প্রার্থী। তারা সবাই সবার মতো করে জোটের প্রার্থী হয়ে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে সম্প্রতি শুনা গিয়েছিল এনসিপির প্রার্থী ব্যারিস্টার নুরুল হুদা জুনেদকেই জোট মনোনয়ন দেবে। সব মিলিয়ে এ আসনটিতে এখন রাজনৈতিক উত্তাপ বিরাজ করছে। সেই উত্তাপের মধ্যেই জানা গেল নতুন খবর।
ব্যারিস্টার নুরুল হুদা জুনেদ ও হাফিজ মুসলেহ উদ্দিন রাজু ইতিমধ্যে প্রায় ৩ ঘন্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন। এ বৈঠকে তারা নির্বাচনের বিষয়ে নিজেদের মধ্যে খোলামেলা বিভিন্ন আলোচনা করেছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে। এমনকি শেষ পর্যন্ত জোট যদি এ দুই নেতার মধ্যে কাউকেই মনোনয়ন না দেয় তাহলেও হয়তো তারা যেকোন একজন নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন- এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়া যায় না। এই দুই প্রার্থীর মধ্যে যেকোন একজন জোটের বাইরে প্রার্থী হলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটের হিসেব অনেকটা পালটে যেতে পারে। জোটের প্রার্থী তখন নীরব চাপে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ফলে ধানের শীষের প্রার্থী এম এ মালিক সহজেই নির্বাচনী বৈতরণী পার করতে পারবেন।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে, ব্যারিস্টার জুনেদ এবং হাফিজ মুসলেহ উদ্দিন রাজুর মধ্যে যেকোন একজন জোটের মনোনয়ন পেলে জোটে থাকা সব দলই মেনে নেবে। তবে আর কি কি বিষয়ে তাদের দুজনের কথা হয়েছে তা তারা কেউই প্রকাশ্যে বলছেন না। সবার আগ্রহের বিষয় এখন- জুনেদ-রাজুর দীর্ঘ আলাপে কি কথা হয়েছে?
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
নিউজ ডেস্ক 












