মিশ্র বাগানে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের
সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:২১ PM

মিশ্র বাগানে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের

জৈন্তাপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৩/০১/২০২৬ ১১:২২:১৪ AM

মিশ্র বাগানে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের


জৈন্তাপুর উপজেলায় শীত মৌসুমে রবিশস্য সবজি উৎপাদনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু ফসল নিয়মিত বাণিজ্যিক চাষে সফলতা অর্জন করে আসছেন প্রান্তিক কৃষকরা। বিশেষ করে বরবটি, শিম, সরিষা ও নাগামরিচ চাষে বাণিজ্যিক সফলতা মিলেছে। এবার একই জমিতে রবিশস্য সবজি ও ফলের মিশ্র বাগান তৈরির জন্য কাজ করছে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। আর আতে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের।

সাধারণত আমন মৌসুমের শেষে পতিত জমিগুলোতে রবিশস্য সবজি চাষ করে আসছেন উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষকরা। এই রবিশস্যের পাশাপাশি একই জমিতে সাথি ফসল হিসেবে মিশ্র ফলের চাষ করতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে কাজ করে যাচ্ছে উপজেলা কৃষি অফিস। 

জানা গেছে, বিশেষ করে শীত মৌসুম শেষ হয়ে এলে সবজির বাজারজাতকরণ শেষ হতে থাকে। এবার বিভিন্ন জাতের সবজির পাশাপাশি সাথি ফসল হিসেবে তরমুজ, নাগামরিচ ও কুল বরইয়ের চাষ শুরু করেছেন উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকরা। সাধারণত শুকনো মৌসুমে সেচ সুবিধা রয়েছে- এমন জমি মিশ্র ফল-সবজি চাষের জন্য বেশ উপযোগী। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের বিভিন্ন রকম পরামর্শ দিয়ে আসছেন। 

এমনই এক সফল কৃষক উপজেলার ২নং জৈন্তাপুর ইউনিয়নের বিরাখাই গ্রামের মোহাম্মদ আবদুল্লাহ্। তিনি জৈন্তাপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে বিশেষ প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ নিয়ে ৩৫ বিঘা ধানি জমির একাংশে শুরু করেছেন রবিশস্য সবজি ও ফলের মিশ্র বাগান।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চলতি ২০২৫-২৬ মৌসুমে তিনি ৬০ শতক জমিতে বলসুন্দরী জাতের বরই চাষ করেছেন। এর পাশাপাশি ২ বিঘা জমিতে ভুট্টা, ৬০ শতক জমিতে টমেটো, ৩৩ শতক জমিতে বেগুন, ৩০ শতক জমিতে কাঁচামরিচ ও নাগামরিচ এবং ২ একর জমিতে তরমুজের চাষ করেছেন। 

জৈন্তাপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে ফল বাগানের প্রদর্শনীপ্রাপ্ত মোহাম্মদ আবদুল্লাহ জানান, চলতি মৌসুমে তার অন্যতম সাফল্য হলো বলসুন্দরী বরই চাষ। এ বছর তিনি ২০০টি উন্নত জাতের বরইয়ের চারা উপজেলা কৃষি অফিস থেকে সংগ্রহ করে গত সেপ্টেম্বরে রোপণ করেন। চার মাসের মধ্যেই ফলন শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে মাঠে ১৫০ টাকা কেজি দরে বরই বিক্রি শুরু করেছেন। প্রতিদিন গড়ে তিন কেজি বরই ছোট ছোট গাছ থেকে সংগ্রহ করে বিক্রি করছেন। এতে তার উৎপাদন ব্যয় হয়েছে ১০ হাজার টাকা। দুই বছর পরে গাছের আকার বৃদ্ধি পেলে প্রতি মৌসুমে কয়েক লক্ষ টাকার বরই বিক্রি করা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান। 

এদিকে, একই জমিতে সাথি ফসল হিসেবে গেল অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে ৮০ হাজার টাকা খরচ করে ৬ বিঘা জমিতে আনারকলি জাতের তরমুজ চাষ করেছেন তিনি। আগামী ফেব্রুয়ারির শেষভাগে তিনি ৪/৫ লক্ষ টাকার তরমুজ বিক্রি করতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। 

মিশ্র এই ফলের বাগানের পাশাপাশি দেড় বিঘা জমিতে সুপার সাইন আগাম জাতের ভুট্টা আবাদ করেছেন এই কৃষক। প্রদর্শনী পাওয়া এই বাগানে কৃষি অফিস থেকে বীজ, সার ও প্রয়োজনীয় কীটনাশক বিনামূল্যে পেয়েছেন তিনি। তার উৎপাদন ব্যয় মাত্র ৪ হাজার টাকা। তিনি আশা করছেন, এই বাগান থেকে ৫০-৬০ হাজার টাকার ভুট্টা বিক্রি করতে সক্ষম হবেন। 

পাশাপাশি তিনি তাল ও পালকিন জাতের বেগুন ১ বিঘা জমিতে এবং কাঁচামরিচ ও নাগামরিচ আরও এক বিঘা জমিতে চাষ করেছেন। এ ছাড়াও মৌসুমের শুরুতে ৪ বিঘা জমিতে মঙ্গলরাজা ও বাহুবলী জাতের টমেটো চাষ করেন তিনি। এতে তার উৎপাদন খরচ হয়েছে ১ লাখ টাকার মতো। তিনি আশা করছেন, মৌসুমের শেষে ভালো বাজারমূল্য থাকলে সাড়ে তিন থেকে চার লাখ টাকার টমেটো বিক্রি করতে পারবেন। 

জৈন্তাপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন জানান, মোহাম্মদ আবদুল্লাহ’র মতো যাদের কৃষিজমির পরিমাণ বেশি, তারা আমন চাষের পাশাপাশি রবি মৌসুমে সবজি ও ফলের মিশ্র বাগান করে লাভবান হতে পারবেন। কৃষক আবদুল্লাহ’র আবাদি ৩৫ বিঘা ধানি জমির কিছু অংশে মিশ্র ফল ও সবজির বাগান করতে পরামর্শ দেওয়া হয়। ফলের বাগান করতে বরই বীজ, সার ও কীটনাশক কৃষি অফিস থেকে দেওয়া হয়। মাঠ তদারকির মাধ্যমে বরই চারা রোপণ করলে চার মাসের মধ্যে ফলন শুরু হয়।

তিনি বলেন, সবজি ও মিশ্র ফলের বাগানে অতিরিক্ত পরিচর্যার প্রয়োজন পড়ে না। বিশেষ করে একই সেচ সুবিধা দিয়ে পুরো বাগানে পানি ও সার প্রয়োগের সুবিধা রয়েছে। 

জৈন্তাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ন দিলদার বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আওতায় ক্লাইমেট স্মার্ট এগ্রিকালচার অ্যান্ড ওয়ার্টার ম্যনেজম্যান্ট প্রকল্পের বাস্তবানে মিশ্র ফসল চাষিদের মধ্যে ফল বাগানের প্রদর্শনী দেওয়া হয়েছে। আধুনিক কৃষিনির্ভর ও স্বল্প উৎপাদন ব্যয় হওয়ায় মিশ্র বাগান করতে কৃষক পর্যায়ে উদ্বুদ্ধকরণে কাজ করছে কৃষি বিভাগ। বিশেষ করে যাদের ধানি জমির পরিমাণ বেশি, সে সমস্ত কৃষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি পদ্ধতিতে চাষ বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দিচ্ছে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর