গোয়াইনঘাট উপজেলার হাওরজুড়ে এখন শুধুই সবুজের সমারোহ। দিগন্তজোড়া মাঠজুড়ে দোল খাচ্ছে বোরো ধানের কচি চারা। কৃষকের হাড়ভাঙা খাটুনি আর মমতায় বেড়ে ওঠা এই সবুজ ধানগাছগুলো এখন সোনালি স্বপ্নের জানান দিচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয় না ঘটলে এবার বাম্পার ফলনের আশা করছেন স্থানীয় কৃষকরা।
উপজেলার হাওরজুড়ে মাঠে মাঠে এখন কৃষকের ব্যস্ততা চরমে। সরেজমিনে বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা যায়, বোরো ধানের ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। কেউ নিড়ানি দিচ্ছেন, কেউ সার ছিটাচ্ছেন, আবার কেউ সেচের কাজে ব্যস্ত। চারাগাছগুলো সতেজ হয়ে ওঠায় হাওরের প্রতিটি প্রান্তর এখন নয়নাভিরাম রূপ নিয়েছে।
কৃষকদের ভাষ্য, এবার ধানের চারা বেশ হৃষ্টপুষ্ট হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত বড় কোনো রোগ-বালাইয়ের উপদ্রব দেখা দেয়নি। গোয়াইনঘাটে কৃষকের অর্থনীতি মূলত বোরো চাষের ওপর নির্ভরশীল। তাই এই ফসলের সঙ্গেই জড়িয়ে আছে হাজারও কৃষকের আনন্দ-বেদনা। কৃষক পরিবারের সারা বছরের খোরাকি জোগাড় হবে এই ধান থেকে। ধান বিক্রি করে মেটানো হবে সন্তানদের লেখাপড়াসহ সংসারের অন্যান্য খরচ।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে গোয়াইনঘাটে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ১০ হাজার ৪০ হেক্টর নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত রোপণ হয়েছে ৪ হাজার ৮৯৪ হেক্টর। হাওরে পানির অভাবে সেচের কারণে রোপণ কাজ কিছুটা পিছিয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি অফিস। হালি চারার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৯৩ হেক্টর, অর্জিত হয়েছে ৪২৬ হেক্টর।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রায়হান পারভেজ রনি জানান, কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তারা আশা করছেন, আবহাওয়া শেষ পর্যন্ত অনুকূলে থাকলে কৃষকরা তাদের কাক্সিক্ষত ফসল ঘরে তুলতে পারবেন।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
সংবাদদাতা 








