শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলের পাশে টিলায় আগুন
বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২০ PM

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলের পাশে টিলায় আগুন

সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ২৬/০২/২০২৬ ০৯:১৪:০৫ PM

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলের পাশে টিলায় আগুন


শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলের পাশে একটি টিলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

প্রায় আধা ঘণ্টা চেষ্টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ফায়ার সার্ভিসকে জানানোর প্রায় ৪৫ মিনিট পর তারা ঘটনাস্থলে আসে বলে অভিযোগ কর্তৃপক্ষের।

বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে ফাতেমা তুজ জাহরা হলের উত্তর-পশ্চিম পাশে টিলায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ শাখার প্রধান অধ্যাপক আবুল হাসনাত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মী ও হলের ছাত্রীরা জানান, দুপুরে টিলার পাদদেশে জমানো পাতায় আগুন দেখতে পান নিরাপত্তাকর্মীরা। তাৎক্ষণিক নিরাপত্তাকর্মীরা আগুন নেভাতে গেলেও ততক্ষণে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

এরপর আগুন থেকে তৈরি হওয়া ধোঁয়া পশ্চিম দিক থেকে আসা বাতাসের সঙ্গে হলের ভেতরে প্রবেশ করে। এতে আতঙ্কিত হয়ে দুই শতাধিক ছাত্রী হলের বাইরে বেরিয়ে আসেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ থেকে ১৫ নিরাপত্তাকর্মী হলের মোটরের পাইপ থেকে পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ আনার চেষ্টা করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে পুরো আগুন নিয়ন্ত্রণ আনেন।

আবাসিক হলে কর্মরত নিরাপত্তাকর্মী লিমন দাশ বলেন, “আমরা দুজন হলের নিরাপত্তাকর্মীদের জন্য সংরক্ষিত কক্ষে বসে ছিলাম। হঠাৎ জানালা দিয়ে আগুন দেখতে পাই। পরবর্তীতে কয়েকজন মিলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছি।

“আগুনের উচ্চতা দুই থেকে তিন মিটার পর্যন্ত ছিল। বাতাস থাকায় হলের দিকে আগুনের উত্তাপ আসে। টিলার উপর দিয়ে বৈদ্যুতিক তার গেছে। সময়মতো আগুন নিয়ন্ত্রণে না আসলে বড় দুর্ঘটনা ঘটার শঙ্কা ছিল।”

আগুন নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কথা জানিয়ে সিলেট সদর থানার ফায়ার সার্ভিস দলের প্রধান প্রীতম দাশ বলেন, “মূলত শুকনা পাতার কারণেই আগুন দ্রুত ছড়িয়েছে। এখন কোনো শঙ্কা নেই।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ শাখার প্রধান অধ্যাপক আবুল হাসনাত বলেন, “টিলার প্রায় দুই একর জায়গা জুড়ে আগুন ছড়িয়েছে। টিলাতে ইউক্যালিপটাস গাছের সংখ্যা বেশি, এসব গাছের পাতা থেকে সহজে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

“দায়িত্বরত নিরাপত্তাকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। পরবর্তীতে দমকল বাহিনী এসে পুরো এলাকায় পানি ছিটিয়ে দেন।”

আগুন উৎপত্তির বিষয়ে তিনি বলেন, “কেউ হয়ত বিড়ি-সিগারেট খেয়ে অবশিষ্টাংশ ফেলেছে। সেখান থেকে আগুন লেগেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ে দুটি টিলা রয়েছে। এসব টিলার বেশিরভাগ জায়গা আকাশমণি ও ইউক্যালিপটাস গাছ লাগানো। এসব গাছের শুকনা পাতা থেকে প্রতিবছরই ৪ থেকে ৫ বার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

আজকের সিলেট/এপি/প্রতিনিধি

সিলেটজুড়ে


মহানগর