ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বৃহস্পতিবার শুরু হচ্ছে। তবে উদ্বোধনী দিনে অধিবেশনে কে সভাপতিত্ব করবেন—তা নিয়ে রাজনৈতিক মহল ও সংসদসংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা চলছে। সংবিধান অনুযায়ী সাধারণ নির্বাচনের ফল প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের অধিবেশন আহ্বান করা বাধ্যতামূলক। সেই বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেছেন।
কিন্তু এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। সংবিধান ও সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী সাধারণত নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন বিদায়ী সংসদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার। তাদের উপস্থিতিতেই নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হয়।
তবে দ্বাদশ সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করেছেন এবং আত্মগোপনে রয়েছেন। অন্যদিকে ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু বিভিন্ন মামলায় কারান্তরীণ। ফলে উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা।
এ পরিস্থিতিতে গতকাল বুধবার ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের নাম চূড়ান্ত করার পাশাপাশি প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্বের প্রক্রিয়াও নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৈঠক শেষে বিএনপির চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, প্রথম দিনে স্পিকারের চেয়ার খালি রেখে অধিবেশন শুরু হবে। শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের পর সংসদ নেতা একজন জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্যকে সভায় সভাপতিত্ব করার জন্য প্রস্তাব করবেন। অন্য একজন সদস্য তা সমর্থন করলে ওই সদস্য সাময়িকভাবে অধিবেশনের সভাপতিত্ব করবেন।
তার সভাপতিত্বেই নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন। এরপর তাদের শপথের মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হবে।
সংসদীয় সূত্রে জানা গেছে, জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য হিসেবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম আলোচনায় রয়েছে।
সংবিধানের ৭৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদের প্রথম বৈঠকেই সদস্যদের মধ্য থেকে একজন স্পিকার ও একজন ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করার বিধান রয়েছে। আর সংবিধানের ৭২(৬) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, নতুন স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত বিদায়ী স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার পদে বহাল থাকবেন বলে গণ্য হবেন।
তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দুজনের কেউ দায়িত্ব পালনের অবস্থায় না থাকায় কার্যপ্রণালী বিধির আলোকে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংসদীয় রাজনীতি নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. কে এম মহিউদ্দিন। সংসদীয় রাজনীতি ও মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার নিয়ে একাধিক গবেষণামূলক বইও লিখেছেন তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব নিয়ে শূন্যতা সম্পর্কে জানতে চাইলে অধ্যাপক ড. কে এম মহিউদ্দিন বলেন, সংসদ বিলুপ্ত হলেও সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার দায়িত্বে থাকেন। পরবর্তী সংসদে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তাদের কার্যকাল থাকে। যেহেতু স্পিকারের বিকল্প হিসেবে ডেপুটি স্পিকার রয়েছেন, তাই এ নিয়ে হয়তো আলাদা করে ভাবতে হয়নি।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সকল প্রতিষ্ঠান প্রায় ভেঙে পড়েছে। এমতাবস্থায় স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার উভয়ের অনুপস্থিতিতে প্রথম অধিবেশনে কে সভাপতিত্ব করবেন, এটা নিয়ে সাংবিধানিক শূন্যতা রয়েছে। জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী সে শূন্যতা পূরণ করতে রাষ্ট্রপতি একজনকে প্রথম অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন পর্যন্ত দায়িত্ব দিতে পারেন।
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি ২৯৭টি আসনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। পরে ১৭ ফেব্রুয়ারি সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন। একই দিন বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে এবং দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনের মাধ্যমে দেড় বছর মেয়াদি অন্তর্বর্তী সরকারের পর দেশে নির্বাচিত সরকারের অধীনে সংসদীয় কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
আজকের সিলেট ডেস্ক 








