রিজার্ভ ধরে রাখার শর্তপূরণ নিয়ে শঙ্কা!
বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:৪৭

রিজার্ভ ধরে রাখার শর্তপূরণ নিয়ে শঙ্কা!

অর্থনীতি ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৮/০৩/২০২৪ ১০:৩৮:৩০

রিজার্ভ ধরে রাখার শর্তপূরণ নিয়ে শঙ্কা!


আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ কর্মসূচির আওতায় নির্দিষ্ট পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার নিট রিজার্ভ সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে বাংলাদেশের। তৃতীয় কিস্তি পেতে চলতি মার্চ শেষে ১৯ দশমিক ২৭ বিলিয়ন নিট রিজার্ভ সংরক্ষণের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেয়া হয়েছে।

তবে মার্চ শেষে এ পরিমাণ নিট রিজার্ভ ধরে রাখার শর্ত পূরণ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। কারণ চলতি সপ্তাহেই জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসের এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) আমদানি দায়বাবদ প্রায় ১ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে হবে বাংলাদেশকে। যদিও রিজার্ভের প্রকৃত চিত্র বুঝতে এবার একটু বিলম্ব করে এই দায় পরিশোধ করার পথে হাঁটছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তারপরও নিট রিজার্ভের লক্ষ্যমাত্রার শর্ত পূরণ হওয়া নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ডলার সংকটে আইএমএফের তৃতীয় কিস্তি দেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কোনো কারণে এই কিস্তি পেতে সমস্যা হলে সংকট আরও গভীর হতে পারে। কারণ তখন অন্য সংস্থা বা বিদেশি ব্যাংকগুলো ঋণ দিতে চাইবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, আইএমএফ থেকে ঋণের তৃতীয় কিস্তি পেতে তাদের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী নিট রিজার্ভ ধরে রাখতে হবে। কারেন্সি সোয়াপের মাধ্যমে রিজার্ভ বাড়ালেও তা নিট রিজার্ভে দেখানো যাবে না। এর মধ্যেই জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসের আকুর বিল পরিশোধ করতে হবে। ফলে মার্চ শেষে তাদের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী নিট রিজার্ভ রাখা সম্ভব নয়। যদিও প্রকৃত রিজার্ভ পরিস্থিতি বুঝতে এবার তা আগের মতো পরবর্তী মাসের প্রথম সপ্তাহে পরিশোধ করা হচ্ছে না। একটু বিলম্ব করে আগামী সপ্তাহে করা হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, এ দায় পরিশোধ করার পর রিজার্ভ আরও কমে যাবে। এতে করে আইএমএফের শর্তের লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছিও নিট রিজার্ভ রাখা যাবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মেজবাউল হক বলেন, আকু বিলের দায় পরিশোধের সব প্রক্রিয়া শেষ হয়ে কনফারমেশন এলেই আমরা পরিশোধ করি। তবে পরিশোধের তারিখে সাপ্তাহিক বন্ধ থাকলে অনেক সময় কিছুটা বিলম্ব হয়ে থাকে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দিনশেষে বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ ছিল প্রায় ২১ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার। তবে এর থেকে আইএমএফের এসডিআর খাত, ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রা ক্লিয়ারিং হিসাবে রাখা ডলার ও এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন বা আকুর বিলের জন্য জমা থাকা ডলার বাদ দিয়ে যে হিসাব হয়, সেটা হলো নিট রিজার্ভ। সে হিসাবটাই শুধু চায় আইএমএফ।

জানা যায়, আইএমএফের এসডিআর খাত, ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রা ক্লিয়ারিং হিসাবে রাখা ডলার ও আকুর বিলের জন্য জমা থাকা ডলার এবং কারেন্সি সোয়াপের ডলার বাদ দিলে এখন নিট রিজার্ভ (এনআইআর) দাঁড়াবে ১৮ বিলিয়ন ডলারের কম। তবে এই দুই হিসাবের বাইরে রিজার্ভের আরও একটি হিসাব রয়েছে। তা হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাব। সেই হিসেবে বুধবার দিনশেষে মোট রিজার্ভ ছিল ২৬ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার।

গত ১২ ডিসেম্বর বাংলাদেশের জন্য আইএমএফের ঋণের দ্বিতীয় কিস্তির ৬৮ কোটি ৯৮ লাখ ডলার ছাড়ের বিষয়টি অনুমোদন হয়। তবে নিট রিজার্ভের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে না পারায় বাংলাদেশ এ শর্তে কিছুটা ছাড় চাইলে সংস্থাটি তা পুননির্ধারণ করে। সে অনুযায়ী গত ডিসেম্বর শেষে ১৭ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন, এ বছরের মার্চ শেষে ১৯ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ও জুন শেষে ২০ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলারের নিট রিজার্ভ সংরক্ষণের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেয়া হয়েছে। যদিও গত বছরের ডিসেম্বরের লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি গেলেও তা পূরণ সম্ভব হয়নি। এর আগের প্রান্তিক যেমন গত বছরের মার্চ, জুন ও সেপ্টেম্বরেও নিট রিজার্ভ-সংক্রান্ত আইএমএফের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসের আকুর বিল বাবদ ১২৭ কোটি ডলার পরিশোধ করা হয়েছে, যা জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহের সোমবার করা হয়। এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন বা আকু হলো, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যকার একটি আন্তঃআঞ্চলিক লেনদেন নিষ্পত্তিব্যবস্থা। এর মাধ্যমে এশিয়ার ৯টি দেশের মধ্যে যেসব আমদানি-রপ্তানি হয়, তা প্রতি দুই মাস পরপর নিষ্পত্তি হয়। তবে অন্য দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের লেনদেন তাৎক্ষণিকভাবে সম্পন্ন হয়। আকুর সদস্যদেশগুলো হচ্ছে বাংলাদেশ, ভারত, ইরান, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, ভুটান ও মালদ্বীপ। তবে দেনা পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় সম্প্রতি এ তালিকা থেকে বাদ পড়েছে শ্রীলঙ্কা।

দেশে প্রায় দুই বছর ধরে চলা ডলার-সংকট এখনও কাটেনি। ব্যাংকে প্রবাসী ও রপ্তানি আয় কেনায় ডলারের দাম এখন ১০৯ টাকা ৫০ পয়সা ও আমদানিতে ১১০ টাকা। তবে বাস্তবতা হলো ব্যাংকগুলো এখন ১২২-১২৩ টাকা দামে ডলার কিনছে। বিক্রি করছে আরও বেশি দামে।

ডলার সংকটের এই পরিস্থিতে সরবরাহ বাড়াতে দেশে প্রথমবারের মতো অফশোর ব্যাংকিং আইন করেছে সরকার। অফশোর ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বৈদেশিক উৎস থেকে বৈদেশিক মুদ্রায় তহবিল সৃষ্টি হয় এবং প্রচলিত ব্যাংকিং আইনকানুনের বাইরে আলাদা আইনকানুনের মাধ্যমে এ তহবিল পরিচালিত হয় ও হিসাব সংরক্ষণ করা হয়। স্থানীয় মুদ্রার বিপরীতে নির্ধারিত বৈদেশিক মুদ্রায় অফশোর ব্যাংকিংয়ের হিসাব সংরক্ষণ করা হয়।

জানা যায়, প্রবাসী বাংলাদেশিদের সামনে অফশোর ব্যাংকিংয়ের ফিক্সড ডিপোজিটের নানা সুবিধা তুলে ধরতে বিভিন্ন ব্যাংক এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে।

আজকের সিলেট/বিএন/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর