৪৮ কোটি টাকায় পুরাতন খোয়াই নদী পুনরুদ্ধার প্রকল্প
শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ১১:৫৪ AM

৪৮ কোটি টাকায় পুরাতন খোয়াই নদী পুনরুদ্ধার প্রকল্প

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৩/০৫/২০২৬ ১০:২২:১৬ AM

৪৮ কোটি টাকায় পুরাতন খোয়াই নদী পুনরুদ্ধার প্রকল্প


হবিগঞ্জে দখল ও দূষণে সরু খালে পরিণত হওয়া পুরাতন খোয়াই নদী পুনরুদ্ধার প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।  সম্প্রতি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সভায় এ নিয়ে আলোচনা হয়।হবিগঞ্জ শহরের মাছুলিয়া থেকে নাতিরাবাদ খেলার মাঠ পর্যন্ত নদীর দুই পাড়ে শতাধিক বহুতল ভবনসহ ৬০০ স্থাপনা উচ্ছেদ, দুই পাড়ে ওয়াকওয়ে, তিনটি সেতু ও দুটি স্লুইস গেট নির্মাণসহ সাকুল্যে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪৮ কোটি টাকা।

হবিগঞ্জ শহরকে দুই ভাগ করা একসময়ের খরস্রোতা পুরাতন খোয়াই; প্রায় চার কিলোমিটারের কোথাও সরু খাল, কোথাও ময়লার ভাগাড় অথবা বহুতল ভবনে অস্তিত্ব বিলীন। প্রশাসনের ভাষ্যে, দখলদারের সংখ্যা প্রায় ৬০০ জন। তারা সবাই প্রভাবশালী।

গত কয়েক দশকে হবিগঞ্জ শহরের ওয়াটার রিজার্ভার হিসেবে ব্যবহৃত এ নদীর অস্তিত্ব আজ নেই। বেসরকারি হাসপাতাল ও দোকানপাটসহ বহুতল স্থাপনার নিচে হারিয়ে গেছে নদী। ফলে আধা ঘণ্টার বৃষ্টিতেই সরকারি অফিস-আদালতসহ পুরো শহরের দোকানপাটে অস্থায়ী বন্যা দেখা দেয়। কিছু এলাকায় রাস্তা ডুবে নৌকা দিয়ে পারাপার হতে হয়। অথচ এই পুরাতন খোয়াই নদীতে এক সময় স্রোত ছিল, বৃষ্টির পানি ধারণ করত। এক সপ্তাহের বৃষ্টিতেও জলাবদ্ধতা দেখা দিত না।

অভিযোগ রয়েছে, কোনো জনপ্রতিনিধিও এই নদী উদ্ধারে তেমন একটা আগ্রহ দেখাননি নানা কারণে। দখলদারদের বেশিরভাগই আইনজীবী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতাসহ প্রভাবশালী। তবে অনেক প্রতীক্ষার পর ২০১৯ সালে জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবির মুরাদ তালিকা করেন ৬০০ দখলদারের। উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হয় মাছুলিয়া থেকে। গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় ৩০টি দালানকোঠাসহ দেড়শ’ অবৈধ স্থাপনা। কিন্তু অভিযান শুরুর কয়েকদিনের মধ্যেই রহস্যজনক কারণে বদলি করা হয় জেলা প্রশাসককে। তারপর আর উচ্ছেদ অভিযান আগায়নি। গত সাত বছরে উদ্ধার করা জায়গায় পুনরায় গড়ে উঠেছে অবৈধ পাকা ঘরবাড়ি।

পরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে পুরাতন ‘খোয়াই নদী পুনরুদ্ধার’ প্রকল্প তৈরি করে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠায় হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড। দীর্ঘদিন আটকে থাকার পর অবশেষে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান জানালেন, পিআইসি সভায় প্রকল্পটি অনুমোদনের সুপারিশ হয়েছে। শিগগিরই অনুমোদন হবে। দরপত্রসহ দুটি প্রক্রিয়া শেষে পুনরুদ্ধার কাজ শুরু করা হবে।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর