চুনারুঘাটের পর্যটন কেন্দ্র চা-বাগানের রামগঙ্গা ধ্বংসের মুখে, ঝুঁকিতে সড়ক ও পর্যটন স্থাপনা
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ১০:৫৬ PM

চুনারুঘাটের পর্যটন কেন্দ্র চা-বাগানের রামগঙ্গা ধ্বংসের মুখে, ঝুঁকিতে সড়ক ও পর্যটন স্থাপনা

মোঃ মিজানুর রহমান, চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) থেকে

প্রকাশিত: ১৮/০৬/২০২৬ ০৫:১৫:২৪ PM

চুনারুঘাটের পর্যটন কেন্দ্র চা-বাগানের রামগঙ্গা ধ্বংসের মুখে, ঝুঁকিতে সড়ক ও পর্যটন স্থাপনা


হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র চন্ডিছড়া চা বাগানের রামগঙ্গায় ভয়াবহ ভাঙনের কবলে পড়ে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। টানা বৃষ্টিপাত, পাহাড়ি ঢল এবং দীর্ঘদিন ধরে চলা অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে চা বাগানের বিস্তীর্ণ অংশ ভেঙে পুরাতন ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের একেবারে নিকটবর্তী স্থানে এসে পৌঁছেছে। এতে পর্যটন স্থাপনা, সড়ক যোগাযোগ এবং জননিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, রামগঙ্গা এলাকায় পাহাড়ি পানির তীব্র স্রোতে প্রতিনিয়ত ভাঙন বাড়ছে। মাত্র প্রায় সাত হাত ভাঙন হলেই ধ্বংস হয়ে যাবে রাস্তার পাশে স্থাপিত বহুল পরিচিত ‘বিউটিফুল চুনারুঘাট’ নামফলক এবং পর্যটক ও যাত্রীদের জন্য নির্মিত একমাত্র যাত্রী ছাউনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এই নামফলকটি ইতোমধ্যে চুনারুঘাটের অন্যতম পরিচিত প্রতীক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য পর্যটক এখানে এসে ছবি তোলেন এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে স্থানটি অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী বিজু অভিযোগ করে বলেন, পূর্বে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চললেও তা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পাশাপাশি চা বাগান কর্তৃপক্ষও ভাঙনরোধে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। ফলে পাহাড়ি ঢল ও বর্ষার পানির চাপে ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

এদিকে চন্ডিছড়া এলাকায় পুরাতন ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বিভিন্ন অংশেও নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত রোববার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, চন্ডিছড়া থেকে রামগঙ্গা এলাকার মাঝামাঝি অংশে বৃষ্টির পানির তীব্র স্রোতে রাস্তার পাশ ধসে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি স্থানে বড় ধরনের ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহন চালকরা।

স্থানীয়দে সংবাদকর্নী সাজিদুল ইসলাম বলেন, প্রবল বর্ষণে পাহাড়ি ঢলের পানি সরাসরি রাস্তার কিনারায় আঘাত হানায় ভাঙন দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। তিনি আরও বলেন, শুরুতেই বিকল্প পথে পানি প্রবাহের ব্যবস্থা করা হলে পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ হতো না।

এ বিষয়ে সড়ক বিভাগের সংশ্লিষ্টরা জানান, ভাঙনের স্থানটি মূলত চা বাগানের আওতাভুক্ত এলাকায় হওয়ায় প্রাথমিকভাবে দায়িত্ব বাগান কর্তৃপক্ষের। তবে ভাঙন সড়কের একেবারে নিকটে চলে এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

তবে এ বিষয়ে চা বাগান কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।,

স্থানীয় সমাজকর্মী ও উদ্যোক্তা মশিউর রহমান খান বলেন, দ্রুত জরুরি ভিত্তিতে ভাঙনরোধী ব্যবস্থা গ্রহণ, গাইড ওয়াল নির্মাণ কাজের গতি বৃদ্ধি এবং পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় যেকোনো সময় সড়কের বড় অংশ ধসে পড়ে পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হতে পারে।

তিনি আরও বলেন-প্রশাসনকে বার বার বলার পরও কোন উদ্যোগ নেয়নি। আমি ব্যক্তি উদ্যাগে ভাঙ্গনরোধে জিও ব্যাগ দিয়ে নির্মাণ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তাতেও প্রশাসনের কোন অনুমতি পাইনি। 

এ বিষয়ে চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, আমরা ভাঙনরোধে চেষ্টা করছি। অচিরেই কাজ শুরু হবে।

এলাকাবাসী ও পর্যটনপ্রেমীদের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে রামগঙ্গা পর্যটন এলাকা, ‘বিউটিফুল চুনারুঘাট’ নামফলক, যাত্রী ছাউনি এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা রক্ষা করা হবে। অন্যথায় চুনারুঘাটের অন্যতম আকর্ষণীয় এই পর্যটন কেন্দ্র অচিরেই ইতিহাস হয়ে যেতে পারে।

আজকের সিলেট/এপি/প্রতিনিধি

সিলেটজুড়ে


মহানগর