সিলেট জেলা জামায়াতের নেতা লোকমান আহমদের রুকনিয়াত স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে শনিবার অনুষ্ঠিত জেলা আমির নির্বাচনের ভোটার তালিকা থেকেও তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা জামায়াতের কয়েকজন কর্মপরিষদ সদস্য।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা কর্মপরিষদের এক সদস্যের দাবি, গত ৭ সেপ্টেম্বর ওসমানী মেডিকেলের অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদে মালিক সমিতির ব্যানারে আয়োজিত মিছিলে অংশ নেওয়াকে কেন্দ্র করে লোকমান আহমদের বিরুদ্ধে এ সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ওই সদস্য জানান, গত ১০ সেপ্টেম্বর নগরীর কুদরতউল্লাহ মার্কেট এলাকায় অবস্থিত জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে জেলা আমিরের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত কর্মপরিষদের বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তবে তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, রুকনিয়াত স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল এর আগেই।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে ওই কর্মপরিষদ সদস্য বলেন, ৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য প্রথমদিকে জেলা আমিরের অনুমতি ছিল। পরে ৩০ আগস্ট মহানগর জামায়াতের আমির ফখরুল ইসলাম মিছিল না করার পরামর্শ দেন। তবে ২ ও ৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত জেলা কর্মপরিষদের দুই দফা বৈঠকে কর্মসূচি বাস্তবায়নের অনুমতি বহাল রাখা হয়।
এ নিয়ে সিলেট জেলা ও মহানগর জামায়াতের মধ্যে সিদ্ধান্তগত বিরোধ তৈরি হয় বলে দাবি করেন ওই সদস্য। পরবর্তী সময়ে জামায়াতের অঞ্চল পরিচালক ও কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বিষয়টিতে যুক্ত হন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ধারণা, তাঁর চাপেই ৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত জেলা কর্মপরিষদের বৈঠকে লোকমান আহমদের রুকনিয়াত স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে এ দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সিলেট জেলা জামায়াতের আমির ও সেক্রেটারির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁরা বিষয়টি এড়িয়ে যান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। লোকমান আহমদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি এবং পরে কলও করেননি বলে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা জামায়াতের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট নেতাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
আজকের সিলেট/ জেকেএস









