হবিগঞ্জের চুনারুঘাট ও মাধবপুর উপজেলায় দেউন্দি টি কোম্পানির ৩টি চা বাগান বন্ধ হয়ে গেছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল বকেয়া থাকায় ইতিমধ্যেই ওই বাগান গুলোর সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। চায়ের ভরা মৌসুমে বাগানের কারখানা গুলোতে চা উৎপাদনও বন্ধ রয়েছে। ফলে দেউন্দি, লালচান ও নোয়াপাড়া চা বাগানের কারখানা গুলোতে রয়েছে সুনসান নীরবতা। নেই শ্রমিকদের আনাগোনা। এতে করে বিপাকে পড়েছে তিনটি বাগানের প্রায় চার হাজার চা শ্রমিক। অপরদিকে কয়েকশ মণ উত্তোলন করা চায়ের নতুন কুড়ি ইতিমধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে চা শ্রমিকরা। এভাবে চলতে থাকলে এক সময় এসব চা বাগান বন্ধ হয়ে যাবে বলে জানিয়েছে চা শ্রমিকরা। তবে এবিষয়ে চা বাগান কর্তৃপক্ষ কোন কথা বলতে রাজি হয়নি।
সাবেক মন্ত্রী মোর্শেদ খানের মালিকানাধীন লস্করপুর ভ্যালিতে দেউন্দি টি কোম্পানির অধীনে লাল চান, দেউন্দি ও নোয়াপাড়া চা বাগান রয়েছে। কয়েক কোটি টাকা বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল বকেয়া থাকায় তিনটি বাগানের সব ধরণের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এবিষয়ে বাগান কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করলে তারা কথা বলতে রাজি হয়নি। তবে চা শ্রমিকরা জানিয়েছেন, চায়ের সিন্ডিকেট ভেঙ্গে সঠিক মূল্য নির্ধারণ না করলে কিছু দিনের ভিতরেই চা বাগান ধ্বংস হয়ে যাবে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, দেউন্দি টি কোম্পানির কাছে পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগ ১ কোটি ৭৮লক্ষ ৯২ হাজার টাকা বকেয়া থাকায় বিদ্যুৎ বিভাগ লাইন বিচ্ছিন্ন করেছে। অপরদিকে প্রায় জালালাবাদ গ্যাসের প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা বকেয়া থাকায় তারাও লাইন বিচ্ছিন্ন করেছে। এতে করে ভরা মৌসুমে কয়েক কোটির টাকার চা পাতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। শ্রমিকরা চা পাতা তুলে এনে দিচ্ছে আর বাগান কর্তৃপক্ষ সেই চা পাতা নষ্ট করে ফেলে দিচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে দিনে দিনে চা বাগান বন্ধ হবে আর শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়বে বলে জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।
পাইকপাড়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ও চা শ্রমিক নেতা কার্তিক চন্দ্র বাত্তি বলেন, চা পাতা উত্তোলনের মৌসুমে যদি ফ্যাক্টরি বন্ধ থাকে তাহলে চা শ্রমিকরা ব্যাপক ক্ষতির মধ্যে পড়বে। ইতিমধ্যে আমাদের উৎসব বোনাস বাগান কর্তৃপক্ষ দেয় নাই। চা পাতা উত্তোলন করছি, কিন্তু বিদ্যুৎ ও গ্যাস লাইন বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে সেগুলো কাজে লাগাতে পারছেনা মালিক। এছাড়া সরকার যদি চায়ের সিন্ডিকেট না ভাঙ্গতে পারে তাহলে দিনে দিনে এসব চা বাগান ধ্বংস হয়ে যাবে।
হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার সুজীত কুমার বিশ্বাস জানান, প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকার উপর বকেয়া থাকার কারণে আমরা বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন করেছি। ইতিপূর্বে আমরা কয়েকদফা চিটি দিয়েছি, কিন্তু চা বাগান কর্তৃপক্ষ কোন উদ্যোগ না নেওয়ার কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
এব্যাপারে দেউন্দি চা বাগানের জ্যৈষ্ঠ ব্যবস্থাপক রিয়াজ উদ্দিনের যোগাযোগ করা হলে তিনি এবিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি 








