জামালগঞ্জের হাওর অঞ্চলে মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের ভরসা হয়ে উঠেছে ঘোড়ার গাড়ি। হাওরে ভাড়ায় চালিত ঘোড়ার গাড়ির সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। অনেকে ঘোড়ার গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
স্থানীয়রা জানান, হাওরে মাটির রাস্তা থাকায় যানবাহন চলাচল করতে পারে না। যার কারণে মালামাল পরিবহনে ঘোড়ার গাড়িই এখন একমাত্র ভরসা। মোটর গাড়ির পুরোনো চাকা দিয়ে ঘোড়ার গাড়ি তৈরি করেন তারা। প্রতিটি গাড়ি তৈরি করতে খরচ হয় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। একটি ঘোড়া কিনতে লাগে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা।
জামালগঞ্জের হাওরে কয়েক বছর ধরে ঘোড়ার গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন ভীমখালী ইউনিয়নের রাজাবাজ গ্রামের মো. সেলিম (৬০)। দৈনিক আটশ থেকে একহাজার টাকা আয় করেন তিনি। ঘোড়ার খাবার জন্য ব্যয় করতে হয় একশ থেকে দুইশ টাকা। বাকী টাকায় সংসার চালান সেলিম।
সেলিম বলেন, অনেকেই কৃষি ও মৎস্য শিকারের পেশা ছেড়ে ঘোড়ার গাড়ি কিনে ভাড়ায় চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছে।
চান্দেনগর গ্রামের আব্দুল আলিম, কামাল হোসেন বলেন, শুকনো মৌসুমে উপজেলায় হাওর থেকে বাসিন্দাদের যাতায়াত ও কৃষি পণ্যের প্রয়োজনীয় মালামাল পরিবহনে দুর্ভোগে পড়তে হয়। কেউ অসুস্থ হলে তাকে ঘাড়ে বা পলোতে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হতো। সেই দিন এখন আর নেই। হাওরের যোগাযোগে সবখানেই চলছে ঘোড়ার গাড়ি। বিশেষ করে ফসল পরিবহনে ঘোড়ার গাড়ির বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, আগে এই হাওরে মাত্র ৪টি গাড়ি ছিল। এখন ২০ থেকে ২৫টি গাড়ি চলাচল করছে।
নাজিমনগর বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজ বলেন, হাওর এলাকার গ্রামের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর ধান, ভুট্টা, আলুসহ বিভিন্ন কৃষি পণ্য কিনে ঘোড়ার গাড়িতে করে বাজারে নিয়ে আসেন। একই ভাবে গ্রামের কৃষকেরা বাজার থেকে বিভিন্ন পণ্য কিনে ঘোড়ায় গাড়িতে গ্রামে নিয়ে যান। ঘোড়ার গাড়ি চালকেরা দূরত্ব অনুযায়ী পণ্যের ভাড়া নেন।
ভীমখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আকতারুজ্জামান তালুকদার বলেন, হাওরের গ্রামগুলোতে নির্দিষ্ট সড়ক না থাকায় কাঁচা রাস্তায় যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন করতে বেগ পেতে হয়। এই কারণে হাওরের গ্রামগুলোর যাতায়াতের সুবিধার্থে ও পণ্য পরিবহনে ভাড়া চালিত ঘোড়ার গাড়ির ব্যবহার বেড়েছে। এতে এলাকার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগও হয়েছে।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
জামালগঞ্জ (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি 








