সিলেটে আমেরিকা প্রবাসীর বাড়িতে চাঁদাবাজি, ভাংচুর, ত্রাস সৃষ্টি ও নগদ টাকা এবং স্বর্ণালংকার লুটপাটের গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সোমবার সিলেট মেট্রোপলিটন ২য় আদালতে দায়ের করা একটি মামলায় এ অভিযোগ করা হয়েছে। সিআর (এয়ারপোর্ট) মোকদ্দমা নং- ৭৩/২০২৪।
জানা গেছে, মামলার বাদী আব্দুল ইয়াছিন দীর্ঘদিন ধরে নগরীর ইলেকট্রিক সাপ্লাইয়ের কলবাখানী/৪ বাসায় কেয়ার টেকারের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বাসাটির মালিক আমেরিকা প্রবাসী মিছবাহ উদ্দিন দুলাল ও তার প্রবাসী অন্য ভাইবোন।
অভিযোগে প্রকাশ, একই কলবাখানী ইলেকট্রিক সাপ্লাই এলাকার হেলাল আহমদ, আব্দুর রহমান ও শফিকা বেগম দিলারাসহ একদল স্থানীয় লোক প্রবাসী মিছবাহ উদ্দিন দুলালদের কেয়ারটেকার আব্দুল ইয়াছিনের কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবী করে আসছে। চাঁদা না দিলে তারা কেয়ারটেকারকে তাড়িয়ে প্রবাসীদের বাসাটি জবর দখল করে নেবে বলে হুমকি দিয়ে আসছিলো। এরই ধারাবাহিকতায় হেলাল ও আব্দুর রহমানের নেতৃত্গবে একদল সশস্ত্র লোক ৫ এপ্রিল দুপুরে অস্ত্রের মহড়া দিয়ে কেয়ারটেকার আব্দুল ইয়াছিনের কাছে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবী করে।
চাঁদা না দিলে তিন দিনের ভেতর বাসা ছেড়ে দেয়ার আল্টিমেটাম দেয় তারা। এরপর গত ৭ এপ্রিল হেলাল, আব্দুর রহমান ও তাদের দলভুক্তরা প্রবাসী মিছবাহ উদ্দিন দুলালদের বসত ঘরে সশস্ত্র হানা দেয়। পূণরায় তারা কেয়াটেকার আব্দুল ইয়াছিনের কাছে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে। কেয়ারটেকার আব্দুল ইয়াছিন চাঁদা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। এসময় হেলাল, আব্দুর রহমান ও তাদের দলভুক্তরা দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র উচিয়ে মারপিট করে ত্রাস সৃষ্টির মাধ্যমে কেয়ারটেকার আব্দুল ইয়াসিনকে জিম্মি করে ফেলে। তারা বাসা থেকে নগদ ৪ লক্ষ টাকা, ৭ ভরি স্বর্ণালংকার ও প্রায় অর্ধ লক্ষ টাকার মূল্যবান বস্ত্রাদি লুটে নেয়।
এসময় প্রত্যক্ষদর্শী জনৈক মোহন আহমদ ৯৯৯ এ ফোন দিলে পুলিশ গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে পুলিশ কোন প্রদক্ষেপ না নেওয়ায় কেয়ার টেকার আব্দুল ইয়াছিন আদালতে এ মামলা করেন।
মামলার বিষয়ে আইনী প্রদক্ষেপ নিতে ওসি এয়ারপোর্ট থানাকে আদেশ দিয়েছেন আদালত।
এয়াপোর্ট থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) দেবাংশু কুমার দে’ অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। প্রাথমিক তথ্যের সত্যতা পাওয়া গেলে বিবাদীগণের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আজকের সিলেট/কে.আর
নিজস্ব প্রতিবেদক 








