গোয়াইনঘাট সীমান্ত দিয়ে আসছে চিনির চালান, প্যারাইচকে জব্দ
সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ০৩:৩৩ AM

লাইন নিয়ন্ত্রণকারী কে এই জাফলংয়ের জামাই?

গোয়াইনঘাট সীমান্ত দিয়ে আসছে চিনির চালান, প্যারাইচকে জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২/০৪/২০২৪ ০৬:০৬:৫৫ AM

গোয়াইনঘাট সীমান্ত দিয়ে আসছে চিনির চালান, প্যারাইচকে জব্দ


গোয়াইনঘাট সীমান্ত দিয়ে পাচার করা অর্ধকোটি  টাকার ভারতীয় চোরাই চিনি আটক হয়েছে সিলেট মেট্রোসিটির প্যারাইচকে। আটককৃতরা হলেন- আবু বক্কর (২৪), মো. শরীফ আহমদ (৩৩), মো. রকি ইসলাম প্রকাশ লালন মিয়া (৩৮), মো. ইমামুল ইসলাম (২১)।

গত বুধবার সন্ধ্যায় সিলেট মেট্রো ডিবি পুলিশের একটি টিম অভিযান চালিয়ে দুটি ট্রাকসহ চিনি জব্দ করে। এ সময় চার চোরাচালানীকেও আটক করে।

আটককৃতরা পুলিশকে  জানিয়েছে তারা গোয়াইনঘাটের জাফরং সীমান্ত দিয়ে আসা চিনির চালান অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছিল।

অভিযোগে প্রকাশ, গোয়াইনঘাট থানা পুলিশের লাইনম্যানরা টাকার বিনিময়ে এ সব চিনি ছোড় দিয়েছে। লাইানম্যানরা হচ্ছে-এই সীমান্তের ৪টি পয়েন্ট দিয়ে নদীর স্রোত ও পাহাড়ী ঢলের মতো নেমে আসছে ভারতীয় চিনি,গরু, মসলা, পেঁয়াজ ও কসমেটিক্স। রমজান ও ঈদে গোয়াইনঘাট সীমান্তে চলছিল চিনি ও কসমেসটিক চোরাচালানের মহোৎসব।

অভিযোগ পাওয়া গেছে, উপজেলার স্থানীয় এক ইউপি চেয়ারম্যানের অনুরোধে চোরাচালানের এ লাইন খোলে দিয়েছে বিজিবি ও পুলিশ। পূর্বজাফলংয়ের সবকটি চোরাচালানী পয়েন্টের লাইনম্যান সর্দার হচ্ছেন সিলেট জেলার অধিবাসী নন এমন এক জামাই। এলাকাবাসীর কাছে পরিচিত এই জামাই নিজেকে শাসকদলীয় সাংবাদিক বলে দাবি করে থাকেন।

আর এই জামাইয়ের নেতৃত্বে পূর্ব জাফলংয়ের সবকটি পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর রয়েছে রয়েছে আলাদা আলাদা লাইনম্যান।

নির্ধারিত লাইম্যানরা চিনি ও অন্যান্য চেরাই পণ্যের বস্তা প্রতি ও গরু প্রতি ১হাজার টাকা করে দৈনিক কমপক্ষে ১০ লাখ টাকার লাইনট্যাক্স (চাঁদা) আদায় করে থাকে।

স্থানীয় সূত্রমতে পূর্বজাফলং সীমান্তের নলজুরি আমসপ্ন পয়েন্টে বিজিবির নামে লাইনে চাঁদা তুলেন বাবলা, থানা পুলিশের নামে চাঁদা তুলেন সুহেল, ডিবির নামে লাইনের চাঁদা তুলেন সামসু।

তামাবিল পয়েন্টে বিজিবির নামে চাদা তুলেন করিম, থানা পুলিশের নামে চাঁদা তুলেন রুবেল, ডিবির নামে চাঁদা তুলেন মান্নান মেম্বার।

গুচ্ছগ্রাম পয়েন্টে বিজিবি'র নামে চাঁদা তুলেন রজব আলী থানা, পুলিশের নামে চাঁদা তুলেন নাজিম উদ্দিন, ডিবির নামে চাঁদা নেন মান্নান মেম্বার।

জিরো লাইন পয়েন্টে বিজিবির নামে চাঁদা তুলেন হযরত ও ইবু, থানা পুলিশ ও ডিবি'র নামে লাইনের টাকা তুলেন সামসু।

আর এদের কাছ থেকে বখরার টাকা আদায় করে নেন গোয়াইনঘাট থানা পুলিশের পুর্ব জাফলং ইউনিয়নের বিট-এর দায়িত্বে থাকা এসআই এমরুল, ও এসআই সাদ্দাম। তারা আবার বখরার নির্ধারিত অংশ পাঠিয়ে দেন কর্তাব্যাক্তিদের কাছে।

বিষয়টি নিয়ে এসআই এমরুল ও এসআই সাদ্দামের বক্তব্য পাওয়া না গেলেও এসব অভিযোগ বরাবরের মতো অস্বীকার করেছেন প্রশাসনের দায়িত্বশীলরা।

বুধবার চিনির এ চালান জব্দের বিষয়টি নিশ্চিত করে মোগলাবাজার থানার ওসি মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন জানান, আটককৃদের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা হয়েছে এবং  তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

অবৈধ পণ্যের লাইন নিয়ন্ত্রণকারী কে এই জফলংয়ের জামাই? কতিত এই জামাইয়ের সকল অপকর্ম নিয়ে আমাদের অনুসন্ধান অব্যাহত আছে।

আজকের সিলেট/কে.আর

সিলেটজুড়ে


মহানগর