সুনামগঞ্জে ৪৯ টি হারভেস্টার মেশিনের মধ্যে ১৪ টি বিকল
সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ০৬:০৬ AM

সুনামগঞ্জে ৪৯ টি হারভেস্টার মেশিনের মধ্যে ১৪ টি বিকল

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৪/০৪/২০২৪ ১০:২২:২২ AM

সুনামগঞ্জে ৪৯ টি হারভেস্টার মেশিনের মধ্যে ১৪ টি বিকল


‘ভতুর্কি দামে পাঁচ বছর আগে হারভেস্টার মেশিন (কম্বাইন হারভেস্টার) কিনছিলাম (ক্রয় করেছিলাম), বছরে বছরে নষ্ট হয় দেইক্কা (দেখে) দুই বছর আগে ভাঙারি’র কাছে বেচিলাইছি (বিক্রয় করেছি), ১০০ কেয়ার (প্রায় ৩৩ একর) জমিন করছি ভাই, কিবায়যে (কীভাবে) কাটমু, চিন্তাত পড়িগেছি (চিন্তায় পড়েছি)।’

‘সত্তর শতাংশ ভর্তুকি মূল্যে কেনা মেশিন দুই বছর ব্যবহার করার পর নষ্ট হয়ে গেছে, এখন যে খরচ লাগে, পোষাবার মত নয়, এজন্য ভাঙারির কাছে বিক্রয় করেছি, ২০ হাল (৮০ একর) জমি এবার চাষাবাদ করেছি, আরেকবার মেশিন (কম্বাইন হারভেস্টার) কেনার জন্য আবেদন করেছি, পাওয়া গেলে সুবিধা হয়, না হয় ভাড়ায় মেশিন আনতে হবে নিজের ধান কাটার জন্য, দুশ্চিন্তায় আছি কীভাবে কী করি।’

‘এক মৌসুম ধান কাটার পরই মেশিন নষ্ট হয়ে গেছে। এরপর দেখলাম মেরামতে যে টাকা যায়, এটা রাখলে আমি বিপদে পড়বো, পরে এসিআই কতৃর্পক্ষকে বলে কয়ে গেল বছরেই মেশিনটি ফেরৎ দিয়েছি। গত বছর অন্য মেশিন দিয়ে ধান কেটেছি, এবারও আগে থেকেই খুঁজতেছি মেশিন। দেখি কী হয়।’

শাল্লা উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের কৃষক মোশাহিদ আহমদ, একই গ্রামের আরেক কৃষক সাদিকুর রহমান ও নিজগাঁওয়ের জুনায়েল আহমদ এমন দুশ্চিন্তার কথা বলছিলেন। এরা তিনজনেরই কম্বাইন হারভেস্টার বিকল হয়ে গেছে।

কেবল এই কৃষকরাই নয়। জেলার সব কয়টি হাওরপাড়ের কৃষকদের মধ্যেই এই দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে। কৃষকরা বলেছেন, এবার ধানের তোড় হঠাৎ করে একসঙ্গে বের হওয়া শুরু হয়েছে। এজন্য ধান কাটার ব্যবস্থাও থাকতে হবে অন্য বছরের চেয়ে বেশি।

শাল্লার ছায়ার হাওরপাড়ের রৌয়া গ্রামের কৃষক সত্য গোপাল দাস বলেন,‘ রৌয়া, গোবিন্দুপুর ও রূপসা এই তিন গ্রামে একটি মেশিনও নেই। এখন ধান কাটার শ্রমিকও পাওয়া যায় না। এবার একসঙ্গে ধানের গোছায় ধান বের হওয়া শুরু হয়েছে। ধান কাটার মেশিন আগে থেকে ব্যবস্থা না হলে বিপদে পড়বেন কৃষকরা।

শাল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বড় কৃষক ছত্তার মিয়া বলেন, ‘১৫ এপ্রিলের পর এবছর একসঙ্গে পুরো হাওরে ধান কাটতে হবে। ধানের গোছায় ধান এসেছে সমানে, অন্যান্য বছর এভাবে একসঙ্গে ধান বেরোয় না। এবার সকলেই এ নিয়ে চিন্তিত। দ্রুত কিছু ছোট এবং কয়েকটা বড় ধান কাটার মেশিনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। শাল্লায় ধান কাটার মেশিন অর্ধেকেই নষ্ট। যেগুলো ভালো আছে, সেগুলো দিয়ে বড় বড় হাওরগুলোতে ধান কাটা শেষ করা যাবে নার

শাল্লা উপজেলা কৃষি অফিসের দায়িত্বশীলরা জানান, উপজেলার চার ইউনিয়নে ৪৯ টি হারভেস্টার মেশিনের মধ্যে ১৪ টি—ই বিকল। জেলার অন্যান্য উপজেলায়ও খেঁাজ নিয়ে একই সংকটের কথা জানা গেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের দায়িত্বশীলরা জানান, জেলার প্রায় চার লাখ কৃষক এবার দুই লাখ ২৩ হাজার ৪০৭ হেক্টর জমিতে বোর চাষাবাদ করেছেন। এসব জমি থেকে ১৩ লাখ ৭০ হাজার ২০০ মে.টন ধানের উৎপাদন হবে। টাকার অংকে এই ধানের মূল্য চার হাজার ১১০ কোটি টাকা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক বিমল চন্দ্র সোম জানান, জেলায় ধান কাটার জন্য ৮৭৩ টি হারভেস্টার মেশিন আছে। এরমধ্যে ৩৭ টি বিকল। সাত এপ্রিল ধান কাটা শুরু হবে। এরমধ্যে আরও দুই থেকে আড়াইশ ধান কাটার মেশিন এই জেলায় আনার উদ্যোগ নিয়েছেন তারা।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর