গোয়াইনঘাট উপজেলার বিছনাকান্দি ইউনিয়নে গত চার পাঁচ দিন ধরেই মাটির নিচ থেকে গ্যাস বের হচ্ছে। এমন দৃশ্য দেখতে পায় স্থানীয় জনতা গোয়াইনঘাট উপজেলার বিছনাকান্দি ইউনিয়নের নতুন ভাঙা( আনফরের ভাঙ্গা) নামক এলাকায় রাস্তার পাশে। এতে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে কৌতূহল দেখা দেয়। আশপাশ এলাকার উৎসুক জনতা তা দেখতে ভির করছেন।
সূত্র জানায়, চলতি বন্যায় জায়গাটি পানিতে তলিয়ে থাকা অবস্থায় পানির নিচে বুদবুদ করতে ছিল। পানি কমে যাওয়ার পর পার্শ্ববর্তী বাড়ির নাছির উদ্দীন সেখানে গ্যাস লাইটের আগুন লাগালে আগুন ধরে যায়। এর পর থেকেই সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে বলে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন উৎসুক জনতা।
এমন সংবাদ গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ তৌহিদুল ইসলাম'র নজরে আসার পর গতকাল শনিবার দুপুর ২টায় তিনি ঘটনাস্থল সরেজমিন পরিদর্শন করেন। পরে তা জানানো হয় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন এ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্সে) কে। রবিবার (৯জুন) দুপুর আড়াই টায় বাপেক্সের ভূতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগের ব্যবস্থাপক ও টিম প্রধান এস. এম. নাফিফুন আরফিন ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন ও গ্যাসের নমুনা সংগ্রহ করেন। উপস্থিত ছিলেন বাপেক্সের ভূতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগের সহকারী ব্যাবস্থাপক মুহিত আলম। সিলেট গ্যাসফিল্ডের সহকারী ব্যাবস্থাপক শুভংকর সরকার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন তোয়াকুল ইউনিয়ন ভুমি অফিসের উপ সহকারী কর্মকর্তা হুসাইন মাহমুদ সজীব।
এ বিষয়ে সিলেট গ্যাসফিল্ডের সহকারী ব্যবস্থাপক শুভংকর সরকার বলেন,খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে আমাদের টিম পরিদর্শন করেছে। শনিবার গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার(ভূমি) সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। বায়ুজিন না ন্যাচারাল গ্যাস কি না বুঝা যাচ্ছে না।অপাতত ঐ স্থানটি মাটি চাপা ও রেড জোন হিসেবে ভেড়িকেট দিয়ে রাখা হয়েছে। জনসাধারণ কে দুরত্বে রাখতে ১৩ নং বিছনাকান্দি ইউনিয়ন ইউপি (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য কে দায়িত্ব দিয়েছি।আজকে বাপেক্সের প্রতিনিধি টিম এসে পরিদর্শন ও গ্যাসের স্যাম্পল সংগ্রহ করেছেন। পরিক্ষা নিরিক্ষার মাধ্যমে জানা যাবে গ্যাসের বিষয়টি বায়ুজনিক,ন্যাচারাল না থার্মোজনিক।
এ বিষয়ে বাপেক্সের ভূতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগের ব্যবস্থাপক ও টিম প্রধান এস. এম. নাফিফুন আরফিন বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও গ্যাসের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। গোয়াইনঘাট ইউএনও যথাযথ কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করায় আমরা টিমসহ ঘটনাস্থলে খুব দ্রুত চলে এসেছি। বাপেক্সের ল্যাবে পরিক্ষার জন্য ৩ বোতল গ্যাসের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তাছাড়া এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে। ব্রিজ নির্মাণে কয়েক জায়গায় ফাইলিং করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, তবে এই জায়গায় ফাইলিংয়ের সময় গ্যাসের আলামত পেয়েছেন বলে তাকে জানিয়েছেন এলজিইডি কর্তৃপক্ষ। গ্যাসের নমুনা পরিক্ষা করার পর এখানে সব ধরনের সার্ভে করা হবে। তার আগে গ্যাসের নমুনা বাপেক্সের ল্যাবে পরীক্ষা করা হবে করলেই জানা যাবে গ্যাসের ধরন বায়ুজনিক না থার্মোজনিক। গ্যাসের অরিজিনটা বুঝার পরে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। গ্যাসের প্রেসার ভালো আছে এখানে পজেটিভ কিছু একটা হবে দেশ ও জাতির জন্য কিছু একটা করতে পারবে সেই আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
আজকের সিলেট/প্রতিনিধি/এপি
গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি 








