ঈদ-উল-আজহার আনন্দের পথে ছড়িয়ে পড়েছে বন্যার পদধ্বনির শংকা। সে কারণে এ রাশ উদ্বেগ উৎকন্ঠ সর্বত্র। কারনভারতের চেরাপুঞ্জিতে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে উজানের ঢলে আবারও বাড়তে শুরু করছে নদ-নদীর পানি। এছাড়া সিলেটেও বেড়েছে বৃষ্টিপাতের পরিমান।
শনিবার সকাল নয়টায় সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে বিপদসীমা ছাড়িয়ে গেছে। অন্যদিকে কুশিয়ারা নদীর পানি ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্ট বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ অবস্থায় আবারও বন্যার আশঙ্কায় নিম্নাঞ্চলের মানুষ। এদিকে, আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে ঈদের দিন দেশের অন্যান্য স্থানের তুলনায় সিলেটে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা অকে বেশি। আবহাওয়াবিদ শাহনাজ সুলতানা জানান, সারাদেশে কমবেশি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এক্ষেত্রে সিলেট বিভাগে বৃষ্টির সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের শনিবার সকাল ৯টায় তথ্য অনুযায়ী, সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে পানি বিপদসীমার শূন্য দশমিক ৩০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় ওই পয়েন্টে পানি ১১ দশমিক ৮৫ সেন্টিমিটারে অবস্থান করছিল। সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে পানির বিপদসীমা ১২ দশমিক ৭৫ সেন্টিমিটার। নদীর সিলেট পয়েন্টে পানি ৯ দশমিক ৯৫ সেন্টিমিটারে অবস্থান করছে, গত কাল সন্ধ্যা ৬টায় ওই পয়েন্টে পানি ৯ দশমিক ৭০ সেন্টিমিটারে অবস্থান করছিল। ওই পয়েন্ট বিপদসীমা ১০ দশমিক ৮০ সেন্টিমিটার। কুশিয়ারা নদীর আমলশীদ পয়েন্টে পানি ১৩ দশমিক ৮৬ সেন্টিমিটারে অবস্থান করছে, গত কাল সন্ধ্যা ৬টায় ওই পয়েন্টে পানি ১৩ দশমিক ৫৯ সেন্টিমিটারে অবস্থান করছিল। ওই পয়েন্ট বিপদসীমা ১৫ দশমিক ৪০ সেন্টিমিটার। কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানি ৯ দশমিক ৯৫ সেন্টিমিটারে অবস্থান করছে, গত কাল সন্ধ্যা ৬টায় ওই পয়েন্টে পানি ৯ দশমিক ৯৪ সেন্টিমিটারে অবস্থান করছিল। ওই পয়েন্ট বিপদসীমা ৯ দশমিক ৪৫ সেন্টিমিটার। কুশিয়ারা নদীর শেওলা পয়েন্টে পানি ১০ দশমিক ৯৫ সেন্টিমিটারে অবস্থান করছে, গত কাল সন্ধ্যা ৬টায় ওই পয়েন্টে পানি ১০ দশমিক ৭৪ সেন্টিমিটারে অবস্থান করছিল। ওই পয়েন্ট বিপদসীমা ১৩ দশমিক ০৫ সেন্টিমিটার। তাছাড়া লোভা নদীর পানি ১৩ দশমিক ৭৫ সেন্টিমিটার, সারি নদীর পানি ১২ দশমিক ১৬ সেন্টিমিটার, ডাউকি নদীর পানি ১০ দশমিক ৬৩ সেন্টিমিটার ও সারি গোয়াইন নদীর পানি ৯ দশমিক ৯২ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
সিলেট আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজীব হোসেন বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২০২ মিলিমিটার এবং শনিবার সকাল ৬টা থেকে সকাল নয়টা পর্যন্ত ৪৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আরও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে সিলেটে।
ভারতীয় আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জি গত ২৪ ঘণ্টায় ৫১৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে সালিক রুমাইয়া বলেন, নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এসব নদীর পানি এখনো বিপদসীমার নিচে। আমরা সবাইকে বন্যা সম্পর্কে সতর্ক বার্তা প্রচার করছি।
গোয়াইনঘাট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, জরুরি ভিত্তিতে উপজেলার ১৩ টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, ইউনিয়নের দুর্যোগ মোকাবেলা কার্যক্রম সমন্বয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট ট্যাগ কর্মকর্তাগণ, ইউপি সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবী দল অগ্রিম লোকজনকে বন্যা সম্পর্কে সতর্ক বার্তা প্রচার হচ্ছে। কুইক রেসপন্স ডিজিস্টার ম্যানেজমেন্ট টিম ৪৭টি নৌকা প্রস্তুত রেখেছে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম সমন্বয়ে। আমাদের পক্ষ থেকে বন্যা পরিস্থিতির মোকাবেলায় নিয়ে রাখা হয়েছে সবরকমের প্রস্ততি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, সিলেটে ও উজানে ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার কারণে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে সিলেটের সবকটি নদ-নদীর পানি আবারো বিপদসীমার উপরে চলে যাবে। এতে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ মোবারক হোসেন বলেন, বৃষ্টির কিছু পূর্বাভাস রয়েছে, তাছাড়া ভারতের চেরাপুঞ্জিতেও বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় উপজেলারগুলোর ইউএনওদের সতর্ক করা হয়েছে। তাছাড়া বিভিন্ন দপ্তরে আমরা পত্র দিয়েছি, ঈদের সময় যদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় তাহলে তারা যেন প্রস্তুত থাকেন। পাশাপাশি প্রস্তুত রয়েছে জেলার সকল আশ্রয় কেন্দ্রগুলো ।
আজকের সিলেট/ডি/এপি









