ঈদে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামাররা
শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ০৩:৪৭ PM

ঈদে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামাররা

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৫/০৬/২০২৪ ০৭:৫৯:০৫ AM

ঈদে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামাররা


মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব কোরবানির ঈদকে ঘিরে মৌলভীবাজার শহরের কামার পল্লীতে বেড়েছে শেষ মূহুর্তের ব্যস্ততা। টুংটাং শব্দে দা, বটি, ছুরিসহ মাংস কাটার সরঞ্জাম তৈরিতে ব্যস্ত কামাররা। এসব সরঞ্জাম নতুনভাবে তৈরি এবং পুরনোগুলো শান দিতে যেন দম ফেলার সময় নেই তাদের। কয়লা, লোহাসহ সবকিছুর দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের মতো লাভ হয় না বলে দাবি কামারদের।

শনিবার সকালে শহরের বেরির পাড় এলাকার কুমার পল্লীতে গুড়ে দেখা যায়, চারদিকে হাতুড়ি পেটানোর টুংটাং শব্দ। কেউ ভারী হাতুড়ি দিয়ে পেটাচ্ছেন দগদগে লাল লোহার খণ্ড, আবার কেউ শান দিচ্ছেন ছুরি কিংবা বটি-চাপাতি, কেউবা আবার কয়লার আগুনে দিচ্ছেন বাতাস।

নিজের লোহা দিয়ে চাপাতি বানাতে আসা তুহিন রশিদ জানান, আগের চেয়ে দাম বেশি চাচ্ছে। নিজে লোহা দিলাম তারপরও চাপাতি বানাতে মজুরি চায় ৪০০ টাকা। তারা বলছে কয়লার দাম নাকি বেশি।

আব্দুস শহিদ নামে এক ক্রেতা জানান, ঈদের দিন এগিয়ে এসেছে। পশু জবাইয়ের সরঞ্জাম কেনার কাজ সেরে ফেলছি। এখন ঘরের পুরোনো দুইটি বটি ও একটি ছোড়া শান দিতে এসেছি, ৩৫০ টাকা খরচ হল।

আলাপকালে কামার শিল্পীরা বলেন, চাপাতি প্রকার ভেদে সাড়ে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা, বিভিন্ন আকারের ছুরি ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা, ছোট চাকু ৫০ থেকে ১০০ টাকা, বটি ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়াও পুরোনো দা, ছুরি, বটি ও চাকু শান দিতে ৫০ টাকা থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত নেয়া হয়।

রিপন কর্মকার জানান, বাপ-দাদার পেশা হিসেবে লোহা পেটানোর কাজ করে আসছি। বর্তমানে এ কাজ খুবই কমে গেছে। তবে আমরা অপেক্ষা করি কোরবানির ঈদের জন্য। সারা বছর কাজ থাকে না বললেই চলে, এই সময়টাতে বিক্রি ভাল হয়।

কামার শিল্পী সুমন কুমার বলেন, প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাব, আর্থিক সংকটসহ নানা কারণে হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প। পাশাপাশি কয়লা আর কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় লাভের পরিমাণ কমেছে। এছাড়াও বর্তমানে আধুনিক যন্ত্রাংশের প্রভাবে কামার শিল্পের দুর্দিন চললেও পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে জমে উঠে এ শিল্প।

আজকের সিলেট/ডি/এপি

সিলেটজুড়ে


মহানগর