মৌলভীবাজারে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে পানি বন্দী মানুষের সংখ্যা। জেলার ৭টি উপজেলা এখন বন্যা কবলিত। প্লাবিত হচ্ছে বিভিন্ন উপজেলার নতুন নতুন এলাকা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় খোলা হচ্ছে একের পর এক আশ্রয়কেন্দ্র। বানের পানির তাড়া খেয়ে এসব আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় দুই হাজার পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রী না থাকায় দুর্গত মানুষের ভোগান্তি সীমা ছাড়িয়ে গেছে।
বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মনু, কুশিয়ারা, ধলাই, ফানাই, সোনাই ও জুড়ীসহ নদ নদীর পানি দ্রুত বাড়তে দেখা গেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল সন্ধ্যা ৬টায় জানান, মনু নদীর পানি রেল ব্রিজ পয়েন্টে ১২ সেন্টিমিটার কমলেও শহর পয়েন্টে (চাঁদনীঘাট) পয়েন্টে ৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া ধলাই নদীর পানি বিপদ সীমার নিচে নামলেও কুশিয়ারা নদীর পানি শেরপুরে বিপদসীমার ২১ সেন্টিমিটার এবং জুড়ী নদীর পানি ২০৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসন থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলার ৭টি উপজেলার ৪৭টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার দুই লাখ ৮১ হাজার ৯শ ২০ জন পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এসব এলাকায় ২শ' ৪টি আশ্রয়কেন্দ্রে একহাজার ৫শ ১৩টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। তাদের মধ্যে শুকনা খাবার বিতরণ এবং চিকিৎসার জন্য ৭২টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।
মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক ড. উর্মি বিনতে সালাম জানান, জেলার সকল উপজেলায় বন্যা। তলিয়ে গেছে ৪৭টি ইউনিয়নের তিন লক্ষাধিক মানুষের ঘরবাড়ি। তাদের এখন খাবার এবং চিকিৎসা প্রয়োজন। যদিও এখন পর্যন্ত নতুন কোনো বরাদ্দ আসেনি। আমাদের হাতে থাকা ত্রাণের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে ম্যানেজ করে আমরা শুকনো খাবার বিতরণ করছি পাশাপাশি জরুরি ত্রাণ সরবরাহের জন্য মন্ত্রণালয়ে বার্তা পাঠিয়েছি।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি 








