মাছ নেই হাওরের পানিতে
রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ১২:১১ AM

মাছ নেই হাওরের পানিতে

শাল্লা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৫/০৬/২০২৪ ০৯:২৮:৩৯ AM

মাছ নেই হাওরের পানিতে


ভারি বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের সকল হাওরে টইটুম্বুর করলেও শাল্লা উপজেলার হাওরগুলোতে মাছের আকাল দেখা দিয়েছে। ফলে জেলে সম্প্রদায়ের লোকেরা জীবিকা নির্বাহ করতে দিনাতিপাত করছে। হাওরাঞ্চলে বর্ষা মাসে মাছ ধরার উপর নির্ভরশীল সাধারণ মানুষ ও জেলে সম্প্রদায়ের লোকেরা।

শুধু তাই নয় জেলেদের মধ্যে অনেকেই বিভিন্ন এনজিও ও স্থানীয় মহাজনদের কাছ থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে মাছ ধরার জাল ও নৌকা ক্রয় করেছেন।  তাদের আশা, হাওরে মাছ ধরে পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে ঋণের টাকা পরিশোধ করবে। কিন্তু ঋন নিয়েও এখন পড়েছে বিপদে। একদিকে হাওরে মাছ নেই অন্য দিকে ঋনের চাপে দিশেহারা তারা। অনেকেই আবার জীবন-জীবিকার তাগিদে পরিবার-পরিজন নিয়ে পাড়ি জমাচ্ছেন রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে।

উপজেলার হবিবপুর ইউনিয়নের গ্রামের মৎস্যজীবী দিলীপ মাস্য দাস বলেন, ‘হাওরে মাছ ধরার আগে আমি ঢাকায় ছিলাম। ভাবছিলাম এবছর ভাল ফসল হয়েছে আর হাওরে মাছও হবে। তাই মাছ ধরার লাগি ঢাকা থেকে চলে আসছি। এখন এসে দেখি মহাবিপদে পড়েছি। মাছ ধরতে না পারায় পরিবার পরিজন নিয়ে খাওয়া থাকা নিয়েই মুশকিল হয়ে যাচ্ছে।  একই গ্রামের মৎস্য ব্যবসায়ী শিবু বিশ্বাস বলেন, ‘মাছের কারবার করতাম। বড় আশা কইরা ঋণ কইরা জেলেদের দাদন দিছিলাম মাছ কিনার আশায়। কিন্তু জেলেরা মাছ না পাওয়ায় ব্যবসা বন্ধ।

এদিকে অব্যবস্থাপনা, অবাধে মৎস্য আহরণ, প্রজনন মৌসুমে মা ও পোনামাছ নিধন ও মানবসৃষ্ট বিভিন্ন কারণসহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে ধীরে ধীরে হাওরে মাছের সংকট দেখা দিয়েছে। এখনো প্রয়োজনীয় উদ্যোগ না নেওয়া হলে উপজেলার সবক’টি হাওর হুমকির মুখে পড়বে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাসুদ জামান বলেন, শাল্লা উপজেলা মাছের জন্য বিখ্যাত। কিন্তু ব্যবস্থাপনার অভাবে হাওরগুলোতে মাছের সংখ্যা ধীরে ধীরে হ্রাস পাচ্ছে। একদিকে চলছে পোনা নিধন অন্যদিকে মাছের অভয়াশ্রমগুলোকে সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ না করায় ধীরে ধীরে মাছের সংখ্যা কমে আসছে। তবে হাওরের মৎস্য রক্ষা করতে আমরা বিভিন্ন সময়ে হাওরে অভিযান চালিয়ে অনেক অবৈধ জাল জব্ধ করেছি। কারন এখন থেকে মৎস্য রক্ষা করতে না পারলে পরবর্তীতে মাছের কোনো বংশই থাকবে না।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর