অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে চার-পাঁচদিন তলিয়েছিল বসতঘর। আঙিনাতে ছিল সাঁতার পানি। রান্নাঘর, টিউবওয়েল ও টয়লেট সবকিছুই তলিয়ে গেছে পানিতে। কাঁদামাখা ঘরে চৌকির ওপর মাটির একটি চুলা বসিয়ে রান্না করছেন গত তিন দিন ধরে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার নন্দিরগাঁও ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের নন্দিরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা কলমদর আলীর (৫০) বসত ঘরে এমন দৃশ্যের দেখা মিলে।তার সাথে কথা বলে জানা যায়,১৭ জুন ঈদের রাতে ঘরে পানি উঠে। মনে করেছিলেন কোন দিকে না গিয়ে ঘরে থাকতে পারবেন।কিন্তু সময় যত গড়িয়েছে বৈরী আবহাওয়া ও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ঘরের ভিতরে হাঁটু পানি হওয়ায় মনে আর ভরসা পাননি।শেষমেষ নৌকা জোগাড় করে স্ত্রী ও ছেলের বউ নাতি নাতনিকে আগে পার্শ্ববর্তী আত্বীয়ের বাড়িতে পাঠিয়েছেন। পরে গুলায় ভরা ধান পার করেছেন। তিনি বলেন,যত আত্মীয় হোক পরের বাড়িতে থাকতে ভালো লাগে না।কেমন অশান্তি অশান্তি লাগছিল।তিনদিন পর পানি কমে যাওয়ায় সবাইকে নিয়ে আবার নিজ বসত করে এসেছেন। দেখা যায়,বন্যার পানিতে চারিদিকের ইকড়ের বেড়া ভেঙ্গে মেঝেতে জমেছে কাঁদা।রান্না করার চুলা পানির ঢেউয়ের আঁচড়ে ভেঙ্গে গেছে। মেঝের উপরের কাঁদা কোদাল দিয়ে উপরের স্তর তুলে ইট দিয়ে হাটাহাটি করছেন।চৌকির উপরে মাটির চুলা বসিয়ে খাবার দাবারের জন্য রান্নার কাজ করছেন তার পুত্রবধু (ছেলে শাহিন এর স্ত্রী)।তিনি চারিদিকের ভাঙ্গা বেড়া মেরামতের কাজ করছেন। কলমদর আলী জানান,তার দুই নাতিকে নিয়ে তিনি বড় দুশ্চিন্তায় ছিলেন,একজনের বয়স ৩ বছর আর একজন মায়ের কোলে।কুলের শিশুকে চৌকির উপরে শোয়ে রেখে রান্নার কাজ সারছেন তার মা।এভাবে দুই তিন মাস রান্না করে খেতে হবে বলে জানান কলমদর আলী।ঘরের ভিটার মাটি শুকাতে বছর খানেক সময় লাগবে এবং মূল চুলা রান্না করতে হলে আরো দুই তিন মাস অপেক্ষা করতে হবে।ঘরে তিনটি মাত্র চৌকি, একটিতে চুলা ও রান্না বান্না আসবাবপত্র।দুইটিতে তারা সবাই মিলেমিশে ভাগ করে থাকছেন।তিনি জানান এই ভোগান্তি দূর হতে তাদের বছর খানিক লেগে যাবে।ঘরের চারিদিকের বেড়া ও চারিদিকের মাটি, বন্যার পানির ঢেউয়ে ভেঙ্গে গেছে।
স্হানীয় বাসিন্দা আছাব আলী জানান,গ্রামের শতকরা ৩০ ভাগ মানুষ পানিবদ্ধ ছিল।বেশিরভাগ পানি বন্দী মানুষের খাবার রান্নাবান্নার জন্য ভরসা চলতি (ভাসমান) চুলা। ঘরের স্থায়ী চুলা বানের পানিতে ডুবন্ত থাকায় জ্বালানো যাচ্ছে না আগুন। এখন হাওর পাড়ের বন্যা কবলিত প্রতিটি বাড়িতে রান্নাবান্নার ভরসা ‘চলতি চুলা’। মাটি ও টিন দিয়ে তৈরি এসব চুলা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বহন করার এ চুলার কদর এখন বন্যাকবলিত হাওর ও নদী-তীরবর্তী এলাকায় বেশী।
আজকের সিলেট/প্রতিনিধি/মিমো
সৈয়দ হেলাল আহমদ বাদশা, গোয়াইনঘাট থেকে 








