দেশে চলমান বন্যায় ১১ জেলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫৫ লাখেরও বেশি মানুষ। রবিবার মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ২০ আর ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা ছিল ৫২ লাখ। সোমবার বেলা ১১টার দিকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বন্যা পরিস্থিতির সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
এদিকে, গত তিন দিন বৃষ্টি বন্ধ হলেও ভারত থেকে নেমে আসা পানির কারণে নোয়াখালীর সেনবাগে প্রতিদিনই বাড়ছে পানি। যার ফলে ক্রমেই ভোগান্তি বাড়ছে পানিবন্দি মানুষের। আশ্রয়ের খোঁজে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছুটাছুটি করছে তারা। অন্যদিকে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার কিছু এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। বৃষ্টি বন্ধ হলেও পানি না কমায় মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
রোববার দুপুরে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুল হাসান জানান, বন্যায় নতুন করে কোনো এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা নেই। সার্বিকভাবে ১১ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি উন্নতির দিকে। নতুন করে কোনো এলাকা প্লাবিত হচ্ছে না এবং হওয়ার আশঙ্কা নেই।
এদিকে, দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বন্যাকবলিত জায়গায় দ্রুত সময়ে ত্রাণ ও উদ্ধারকার্য পরিচালনার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ২০ কোটি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দেশের বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা ও পরবর্তী কার্যক্রম বিষয়ক জাতীয় টাস্কফোর্স সভায় এ বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের নেতৃত্বে জাতীয় টাস্কফোর্স সভা তার কার্যালয় যমুনায় অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বন্যা দুর্গত মানুষের কষ্ট লাঘবে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, উদ্ধার ও তাৎক্ষণিক ত্রাণকার্য পরিচালনার ব্যয়ভার মেটানোর জন্য ২০ কোটি টাকার বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সভায় প্রধান উপদেষ্টা বন্যায় পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধারে এবং জরুরি চিকিৎসা প্রদানসহ তাদের প্রয়োজনীয় সব সহায়তা প্রদানে সংশ্লিষ্ট সবাইকে জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
গত তিন দিন বৃষ্টি বন্ধ হলেও ভারত থেকে নেমে আসা পানির কারণে নোয়াখালীর সেনবাগে প্রতিদিনই বৃদ্ধি পাচ্ছে পানি। যার ফলে ক্রমেই ভোগান্তি বাড়ছে পানিবন্দি মানুষের। আশ্রয়ের খোঁজে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছুটাছুটি করছে তারা।
উপজেলার সব স্কুল কলেজ, মাদ্রাসাকে আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হলেও ওই কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নেওয়া মানুষ ঠিকমতো পাচ্ছেন না খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের লোকজন ত্রাণ তৎপরতা চালালেও তা অপ্রতুল। এছাড়া গবাদি পশু নিয়েও মহাবিপাকে রয়েছে খামারিরা। পশুগুলোর নেই খাদ্য, নেই থাকার জায়গা।
যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে প্রত্যন্ত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছানো যাচ্ছে না। সামাজিক সংগঠনগুলো সড়কের পাশে এবং শহরকেন্দ্রিক ত্রাণ বিতরণ করার কারণে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের লোকজন অনাহারে অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছে বলে জানা গেছে।
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর দাবি, সরকারিভাবে স্পিডবোট ব্যবস্থা করা হলে উপজেলা প্রত্যন্ত অঞ্চলে বন্যায় পানিবন্দি মানুষের নিকট ত্রাণ পৌঁছানো সম্ভব হবে না।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেনবাগ-সোনাইমুড়ী সড়কসহ উপজেলার সব পাকা ও কাঁচা সড়ক পানির নিয়ে তলিয়ে থাকায় ছোট ছোট যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এসব এলাকায় ট্রাক আর ট্রাক্টর একমাত্র ভরসা। গত এক দুদিনের মধ্যে নৌকা এসে পৌঁছানোর কারণে তা দিয়ে কোনো রকমে চলছে যোগাযোগ। সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিসান বিন মাজেদ জানান, বন্যার্তদের জন্য ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
গত ছয় দিন ধরে পাহাড়ি ঢল ও ফেনী নদীর পানি বিপৎসীমার উপরে ওঠায় নতুন করে কাটাছড়া, ইছাখালী, ওসমানপুর ও ধুম ইউনিয়নে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব এলাকার শতশত মানুষ আশ্রয়ণ প্রকল্পে আশ্রয় নিয়েছে। সর্বশেষ তিন দিনে করেরহাট, জোরারগঞ্জ ও হিঙ্গুলী ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে অতিবৃষ্টি ও ফেনী নদীর ফানির কারণে বন্যার সৃষ্টি হয়।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
আজকের সিলেট ডেস্ক 








