কমলগঞ্জে ডবলছড়া খাসিয়া পুঞ্জি-সুনছড়া চা বাগান সড়কের বেহাল দশা
মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪, ০৪:২৬

কমলগঞ্জে ডবলছড়া খাসিয়া পুঞ্জি-সুনছড়া চা বাগান সড়কের বেহাল দশা

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১১/০২/২০২৪ ১১:১৬:২৮

কমলগঞ্জে ডবলছড়া খাসিয়া পুঞ্জি-সুনছড়া চা বাগান সড়কের বেহাল দশা


দীর্ঘদিন সংস্কার করা হয়নি মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর ইউনিয়নের ডবলছড়া খাসিয়া পুঞ্জি ও সুনছড়া চা বাগানের ৭ কিলোমিটারের কাঁচা সড়ক। ফলে এ কাঁচা সড়কটি জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় একটি বাজারসহ দেবলছড়া সীমান্তের একটি চা বাগান ও খাসিয়া পল্লীর মানুষের পাশাপাশি স্থানীয় বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যদের ভোগান্তির অন্ত নেই। খানাখন্দে ভরা এ রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করেন কয়েক হাজারেরও বেশি মানুষ। সীমান্তের এই পুঞ্জি ও চা বাগান ঘুড়তে আসেন দেশের বিভিন্ন স্থানের শত শত পর্যটক।

সড়জমিনে গেলে দেখা যায়, প্রায় ৭ কিলোমিটার সড়কের বেহাল দশা। এত করে প্রতি নিয়তো দূর্ঘটনায় পড়তে হয়েছে স্থানীয়দের। অনেকই আবার চিকিৎসার জন্য উপজেলা সদরে আসার আগেই মৃত্যুবরণ করেছেন। বিশেষ করে বৃদ্ধা ও গর্ভবতী মহিলারা রাস্তার বেহাল অবস্থা থাকার কারনে বিপাকে পড়েছেন। জনদুর্ভোগ লাগবে সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবি চালক ও এলাকাবাসীর।

চালক-যাত্রীদের অভিযোগ, ‘শমশেরনগর বাজার চৌমুহনী হতে ক্যামেলিয়া সড়র পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার রাস্তা পাকা রয়েছে। এরপর পুঞ্জি পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার কাঁচা সড়কের অধিকাংশ স্থানে ছোট-বড় খানাখন্দে পরিণত হয়েছে। যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, ‘দেশের স্বাধীনতার পর থেকে এ সড়কে কেউ নজর দিচ্ছেন না। চা বাগান পুঞ্জি এলাকায় প্রায় সময় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ আসেন ঘুরতে এতে বিআইপিরাও আসেন। সবাই দেখে যায় এবং বলেন আমরা সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সাথে আলাপ করবো আপনাদের এই রাস্তাটা দ্রুত সংস্কার যেন করেন। এসব শান্তনা মূলত তারা দেন। আসলে কাজের কাজ কখনো হয়নি। বৃষ্টি হলেই খানাখন্দ ও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয় সড়কটিতে। সড়কের এই বেহাল দশায় স্কুল, কলেজগামী ও পণ্য রিবহনসহ যাতায়াতে দুর্ভোগের পাশাপাশি প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা।’

ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সড়কটিতে চলাচলকারী রিকশা, ইজিবাইক, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মাইক্রবাসের যন্ত্রাংশ। ফলে নষ্ট গাড়ি মেরামত করতে গিয়ে বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে চালকের। বিভিন্ন সময় জনপ্রতিনিধিরা সড়কটি সংস্কারের আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় হতাশ স্থানীয়রা।

স্থানীয় অনার্স ১ম বর্ষের শ্রেণীর শিক্ষার্থী দিপু বলেন, ‘বাড়ি থেকে আমার কলেজের দূরত্ব ২৫ কিলোমিটার। বাড়ি থেকে ৭কিলোমিটার সড়ক আমি হেঁটে যাই। পড়ে সেখান থেকে গাড়ি করে কলেজে যাতায়াত করি। কিন্তু ভাঙা রাস্তায় চা বাগানের ট্রাকটার অবিরাম যানবাহন চলাচলের কারণে প্রচুর ধুলাবালি সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া বেহাল রাস্তার কারণে প্রায়ই হাঁটার রাস্তায় বিভিন্ন যানবাহন তুলে দেন চালকরা। এজন্য দুর্ঘটনার পড়ার আশঙ্কা থাকে।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য পাইড়তেলী কুর্মী বলেন, ‘সড়কের এমন অবস্থার কারণে প্রায় দূর্ঘটনায় পড়তে হয় স্থানীয়দের। আমি ইউনিয়ন পরিষদ ও এমপি স্যারকে বিষয়টি জানিয়েছি। তারা আমাকে আশ্বাস দিয়েছেন। আশা করছি দ্রুত হবে।’

স্থানীয় শমশেরনগর ইউপি চেয়ারম্যান জুয়েল আহমেদ জানান, ‘রাস্তাটার জন্য আমি মাসিক আইন শৃঙ্খলা মিটিং এ কথা বলেছি। সেখানে উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার সহ অনেক জন ছিলেন তারা বলেছেন দ্রুত সময়ে কাজ শুরু হবে।’

উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, ‘সরেজমিন গিয়ে রাস্তাটা দেখে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।’

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর