সিলেটে ব্যস্থতা বেড়েছে কামারপাড়ায়
শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ০৩:২৯ AM

সিলেটে ব্যস্থতা বেড়েছে কামারপাড়ায়

আহমেদ পাবেল

প্রকাশিত: ০৫/০৬/২০২৫ ১১:২৩:১৯ AM

সিলেটে ব্যস্থতা বেড়েছে কামারপাড়ায়


পবিত্র ঈদ আযহা ঘনিয়ে এলেই ব্যস্থতা বেড়ে যায় সিলেটের কামারপাড়ায়। এই সময়টায় দা-ছুরি, বটি শান দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন এখানকার ক্ষুদ্র কামাররা। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কামারদের দোকানগুলোতে লাইন পড়ে যায় গ্রাহকদের। ঈদের আগে শেষ মুহূর্তে এবাটও দা-বটি ধার করার এইমচিরচেনা চিত্র এবারও দেখা গেছে।

সিলেট নগরীর আম্বরখানা, ক্বীন ব্রিজ সংলগ্ন কামার দোকানগুলোতে গিয়ে দেখা গেছে, কামাররা আগুনের তাপে লোহার ধার বসাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। অনেকের চোখে-মুখে ক্লান্তি থাকলেও কাজের গতি কমেনি একটুও। গরমে ঘাম ঝরলেও থেমে নেই হাতুড়ির আঘাত।

স্থানীয় কামার হাফিজ মিয়া জানান, এই একটা সময়ই একটু ভালো আয় হয়। সারা বছর কাজ থাকলেও ঈদের সময় কাজের চাপ বেড়ে যায় কয়েকগুণ। সকাল ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত টানা কাজ করতে হয়।

দোকানে আসা একজন গ্রাহক মো. কামাল হোসেন বলেন, প্রতি বছর ঈদের আগে এখান থেকেই দা-বটি শান দেই। ওরা খুব ভালো কাজ করে। কোরবানির জন্য ধারালো ছুরি-বটি না হলে সমস্যা হয়। পাড়া-মহল্লা, বাসা-বাড়িতে কাধেঁ করে ‘শান মেশিন’ নিয়ে ঘোরেন কিছু লোক। তাদের কাছে দা-বটির শান করিয়ে নিচ্ছেন গৃহিণীরা। দরগাহ গেইট সংলগ্ন মুসিলম সাহিত্য সাহিত্য সংসদের পাশে মাটিতে দা-ছুরি, বটি সাজিয়ে ব্যবসা করেন অমৃত লাল।

তিনি বলেন, ঈদের আর মাত্র দুদিন বাকি আছে আমরা এখন যা ব্যবসা করার করে ফেলি। আমাদের এই একটা সময় ব্যবসা করার। আমাদের না ঘুমিয়ে কাজ করতে হয়।

সিলেট নগরীর কালিঘাট, মহাজনপট্রি, আম্বরখানা, কাজিটুলা, তোপখানা, কাজিরবাজার, চালিবন্দরসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি হয় কোরবানীর আবশ্যকীয় ‘অস্ত্র’।

ব্যবসায়ীরা বললেন, ঈদের মাত্র দুদিন আছে আমরা প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের কামাররা যতেষ্ট চেষ্টা চলিয়ে যাচ্ছে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কাস্টমারের হাতে তুলে দিচ্ছি।

প্রযুক্তির উন্নয়নে অনেকে এখন নতুন দা বা ছুরি কিনে নেন বাজার থেকে, তবু পুরনো সরঞ্জামগুলো শান দিয়ে ব্যবহার করার প্রবণতা এখনো কমেনি। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার মানুষজন এখনো কামারদের উপর নির্ভরশীল।

এছাড়া ঈদের সময়ে অস্থায়ীভাবে অনেকেই রাস্তার পাশে ছোট ছোট শান দেওয়ার স্টল বসিয়ে কাজ করেন। এতে শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এসে সরঞ্জাম শান দিয়ে যান।

ধারালো দা-ছুরি মানেই শুধু কোরবানির প্রস্তুতি নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে কামারদের পরিশ্রম, ঘাম আর টিকে থাকার লড়াই। কোরবানির ঈদ যেন তাদের জীবনে বয়ে আনে একটু হাসি, একটু স্বস্তি-এমনটাই চায় সিলেটবাসী।

আজকে সিলেট/এপি

সিলেটজুড়ে


মহানগর