এক শিক্ষার্থীকে অচেতন করে ধর্ষণের ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের। ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করছেন শিক্ষার্থীরা। আর এঘটনায় ৫ জনকে অভিযুক্ত করে কোতোয়ালি থানায় মামলাও দায়ের করা হয়েছে।
শুক্রবার একদিকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ওই ছাত্রী বাদী হয়ে মামলা করেছেন। অন্যদিকে বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা।
মামলায় অভিযুক্তরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শান্ত তারা আদনান ও স্বাগত দাস পার্থ। এর আগে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টায় অভিযুক্তদের পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়।
এদের মধ্যে শান্ত তারা আদনান নিষিদ্ধ ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন এবং জুলাইয়ে অভ্যুত্থানের আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার আসামি। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন হামলায় তাকে সম্মুখ সারিতেও দেখা যায়। অন্যদিকে স্বাগত দাস পার্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্য বিষয়ক সংগঠন দিক থিয়েটারের কোষাধ্যক্ষ বলে জানা গেছে।
এদিকে মামলার এজাহার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ২ মে সুরমা আবাসিক এলাকায় একটি মেসে ডেকে নিয়ে ওই ছাত্রীকে অচেতন করে ধর্ষণ করেন তারা। পরে তারা ভুক্তভোগীর অজান্তে ভিডিও ধারণ করে এবং তা প্রকাশের হুমকি দিয়ে বিষয়টি গোপন রাখতে বাধ্য করে । এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ৯ (৩) ধারা ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২ এর ৮(১)/ ৮(২) ও ৮(৩) ধারায় মামলা করেন ওই ছাত্রী। এতে ১ নম্বর আসামি শান্ত তারা আদনান, ২ নম্বর আসামি স্বাগত দাস পার্থ এবং দুই থেকে তিনজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
শুক্রবার অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থীকে স্থায়ী বহিষ্কার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করেন শিক্ষার্থীরা। অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শান্ত তারা আদনান (২৩) ও স্বাগত দাশ পার্থ (২২)।
জানা যায়, গত ২ মে সুরমা আবাসিক এলাকায় একটি মেসে ডেকে নিয়ে ঐ নারী শিক্ষার্থীকে অচেতন করে ধর্ষণ করেন তারা। পরে তারা ভুক্তভোগীর অজান্তে ভিডিও ধারণ করে এবং তা প্রকাশের হুমকি দিয়ে বিষয়টি গোপন রাখতে বাধ্য করেন বলে জানা যায়। এ ঘটনায় সিলেটের কোতোয়ালী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ৯ (৩) ধারা ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২ এর ৮ ধারায় মামলা করেন ভোক্তভোগী শিক্ষার্থী। এর আগে গতকাল বিকালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর বরাবর ধর্ষণের লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী নারী শিক্ষার্থী। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের সহযোগিতায় দুজনকে আটক করেছেন পুলিশ। তাদের একজনকে ক্যাম্পাস থেকে এবং আরেকজনকে সুরমা আবাসিক এলাকা থেকে আটক করা হয়। আটকদের মধ্যে আদনান ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় হামলার ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলার আসামিও তিনি। আটকের পর প্রক্টর অফিসে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ।
মানববন্ধনে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জেমিমা জামান সেলিয়া বলেন, ‘ভাবতেও আমাদের অনেক লজ্জা লাগছে যে, যাদের সাথে আমরা এতোদিন একসাথে বসে ক্লাস করেছি তারা এতোটা অমানুষ ছিল ভাবতে পারিনি। আমরা এই ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। আমরা চাই অভিযুক্ত দুইজনকে যেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়।’
মানববন্ধনে সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক ও ভয়েস ফর জাস্টিসের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আলী আক্কাস বলেন, ‘একই ব্যাচের দুই ছেলে শিক্ষার্থী কর্তৃক মেয়ে শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ এটা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য লজ্জাজনক। এরকম হলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা নিজের ব্যাচমেটের কাছেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবে। দেশের প্রচলিত আইনে অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি চাই আমরা। পাশাপাশি ভুক্তভোগী মেয়েকে মানসিকভাবে সাহস যোগানো আমাদের দায়িত্ব।
এসএমপির এডিসি (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাদেরকে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে প্রাথমিক সত্যতা মিলে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদেরকে পুলিশে সোপর্দ করে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ইসমাঈল হোসেন বলেন, ঘটনার বিষয়ে বৃহস্পতিবার আমরা অভিযোগ পাই। অভিযোগ পাওয়ার দুই ঘণ্টার মধ্যেই ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে প্রক্টর অফিসে হাজির করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে আমরা ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সহায়তায় পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সে প্রক্রিয়া চলমান।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
নিউজ ডেস্ক 








