ইসরায়েলের অব্যাহত আগ্রাসনে ফিলিস্তিনে মৃত্যুর মিছিল থামছে না। ফিলিস্তিনের গাজা ভূখণ্ডের সবচেয়ে বড় নগরী গাজা সিটির আরেকটি বহুতল ভবন ধ্বংস করেছে ইসরায়েল।
ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত অন্তত ৫০টি ভবন ধ্বংস করা হয়েছে। এর ফলে আশ্রয় হারাচ্ছে হাজারো পরিবার।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন হাসপাতালে এসেছে অন্তত ৬৫ জনের মরদেহ। এ সময় আহত হয়েছেন আরও ৪০৯ জন। এতে মোট আহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬২ হাজার ৭৭৬ জনে।
আল-রুয়া টাওয়ারে হামলার পাশাপাশি রোববার গাজায় আরও অন্তত ৬৫ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে ৪৯ জনই ছিলেন গাজার উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দা। ইসরায়েলি সেনারা দাবি করেছে, তারা বাসিন্দাদের সরতে বলার পর ওই ভবনটিতে হামলা চালায়। এতে চারপাশে অস্থায়ী তাঁবুতে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোও পালিয়ে যায়।
ফিলিস্তিনি এনজিও নেটওয়ার্কের প্রধান আমজাদ শাওয়া হামলার সময় ঘটনাস্থলের কাছে ছিলেন। তিনি আল জাজিরাকে বলেন, “অবস্থা ভয়ঙ্কর, চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। শত শত পরিবার আশ্রয় হারিয়েছে। ইসরায়েল এভাবে মানুষকে দক্ষিণে সরাতে চাইছে। অথচ সবাই জানে, দক্ষিণেও কোনো নিরাপদ জায়গা নেই।”
মন্ত্রণালয়ের দাবি, এখনো অনেক হতাহত ধ্বংসস্তূপ ও রাস্তায় পড়ে আছেন, যাদের কাছে উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছাতে পারছেন না। ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৬৪ হাজার ৩৬৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
এদিকে মানবিক সহায়তা সংগ্রহের সময়ও প্রাণহানি অব্যাহত রয়েছে। শুধু গত ২৪ ঘণ্টায় খাদ্য সংগ্রহে গিয়ে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন ৩১ জন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ১৩২ জন। গত ২৭ মে থেকে এখন পর্যন্ত ত্রাণ নিতে গিয়ে নিহত হয়েছেন ২ হাজার ৪১৬ ফিলিস্তিনি, আহত হয়েছেন ১৭ হাজার ৭০৯ জন।
অন্যদিকে, অনাহার ও অপুষ্টিজনিত কারণে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় মোট ৩৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১৩৮ জন শিশু। আন্তর্জাতিক সংস্থা আইপিসি ইতোমধ্যেই গাজার উত্তরাঞ্চলে দুর্ভিক্ষের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এবং দক্ষিণের খান ইউনুসেও দুর্ভিক্ষ ছড়িয়ে পড়তে পারে।
গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘যুদ্ধের ফলে প্রায় ৯০ শতাংশ অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। প্রাথমিক ক্ষতি ৬৮ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। দখলদাররা সামরিক শক্তি এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির মাধ্যমে গাজার ৮০ শতাংশেরও বেশি নিয়ন্ত্রণ করছে।’ আনাদোলু। ফিলিস্তিনে জাতিগত নির্মূলের চলমান পরিস্থিতিতে ‘লজ্জাজনক আন্তর্জাতিক নীরবতার’র নিন্দাও জানিয়েছে মিডিয়া অফিস। বিবৃতিতে আরও বলেছে, ২০২৩ সালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরাইল গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে ৭৩ হাজার ৭৩১ ফিলিস্তিনি নিহত কিংবা নিখোঁজ রয়েছেন। এদের মধ্যে ২০ হাজারেরও বেশি শিশু এবং ১২ হাজার ৫০০ জন নারী। গাজার মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, এই দখলদারিত্বের ফলে ২ হাজার ৭০০ পরিবার নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। ১ হাজার ৬৭০ জন চিকিৎসাকর্মী, ২৪৮ জন সাংবাদিক, ১৩৯ জন বেসামরিক উদ্ধার কর্মী এবং ১৭৩ জন পৌর কর্মচারী নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে ১ লাখ ৬২ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
গাজায় গণহত্যা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাজ্য এবং মরক্কোর পাশাপাশি এবার সুইডেন এবং ফ্রান্সেও হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে। শনিবার সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে নাগরিক সমাজের বিভিন্ন সংগঠনগুলোর আহ্বানে সাড়া দিয়ে শত শত বিক্ষোভকারী ওডেনপ্ল্যান স্কোয়ারে জড়ো হন। গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধাপরাধ বন্ধে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সুইডিশ সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। অপরদিকে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী প্লেস দ্য লা রিপাবলিকের সামনে জড়ো হয়ে ফিলিস্তিনি পতাকা উড়িয়ে গাজায় ইসরাইলি গণহত্যা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। একই দিনে যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে প্যালেস্টাইন অ্যাকশন গ্রুপের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন হাজারো মানুষ।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 








