সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে আনছার আলী (২৮) নামে এক যুবককে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত আনছার আলী বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের চালবন গ্রামের মো. মানিক মিয়ার ছেলে।
বুধবার সকালে উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের ভাদেরটেক গ্রামের পূর্ব দিকের হাওরের জমি থেকে তার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত আনছার আলী পেশায় ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালাতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের ধারণা- গতকাল মঙ্গলবার রাতের কোনো এক সময়ে তাকে এখানে খুন করা হয়েছে।
নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আনছার আলী পেশায় মোটরসাইকেল চালক ছিলেন। তিনি ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন করতেন। প্রতিদিনের ন্যায় গতকাল সকালে পাশের ভাদেরটেক গ্রামের দুইজন শ্রমিককে যাদুকাটা নদীর লাউড়েরগড় এলাকায় দিয়ে আসেন। পরে বিকেলে তাদের আবার লাউড়েরগড় থেকে ভাদেরটেক বাজারে পৌঁছে দেন। এরপর তিনি রাতে ভাদেরটেক বাজারের একটি গ্রামীণ রেস্টুরেন্টে বসে নাস্তা খান। বাজারের লোকজন তাকে নাস্তা করতে দেখেন। কিন্তু রাতে আর তিনি বাড়ি ফিরে যাননি। পরিবারের লোকজন তার মোবাইল ফোন বন্ধ পান। সকালে ভাদেরটেক গ্রামের ওই শ্রমিকরা তাকে ফোন করে না পেয়ে বাজারে গিয়ে তার মোটরসাইকেলটি দেখতে পান।
এদিকে স্থানীয় লোকজন বুধবার সকালে ভাদেরটেক বাজার থেকে মণিপুরী ঘাট যাওয়ার রাস্তায় হাওরের ভুট্টা জমিতে আনছার আলীর গলাকাটা মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ও তার পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে যান। এরপর পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠায়।
ভাদেরটেক গ্রামের বাসিন্দা সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল হাই জানান, আনছার আলী আমাদের পাশের গ্রাম চালবনের ছেলে। তিনি মোটরসাইকেলে যাত্রী পরিবহন করতেন। গতকাল রাতে তাকে বাজারে নাস্তা করতে দেখেছেন অনেকেই। বুধবার সকালে গ্রামের পূর্ব দিকে হাওরে তার গলাকাটা মরদেহ দেখতে পান লোকজন। তার মোটরসাইকেলটি নাকি বাজারেই পড়ে আছে।
নিহত আনছার আলীর মামা চালবনের বাসিন্দা দ্বীন ইসলাম বলেন, আমার ভাগ্নে মোটরসাইকেলে যাত্রীদের বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যেত। গতকাল বিকেলে ভাদেরটেক গ্রামের শ্রমিকদের লাউড়েরগড় থেকে নিয়ে এসেছে। পরে নাকি ভাদেরটেক বাজারের এক দোকানে নাস্তা করেছে কিন্তু রাতে বাড়ি যাননি। রাতে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া গেছে। আজ সকালে ভাদেরটেক গ্রামের পাশে তার গলাকাটা মরদেহ পাওয়া গেছে। আমাদের ধারণা গতকাল রাতে ঝড়ের আগে কোনো সময়ে তাকে পরিকল্পিতভাবে খুন করে জমিতে ফেলে রেখেছে।
তিনি আরও বলেন, নিহত আনছার আলীর গলায় ছুরিকাঘাতের পাশাপাশি তার প্যাঁচানো ছিল। '
বিশ্বম্ভরপুর থানা পুলিশের ওসি জাহিদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে আনছার আলীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। তার সঙ্গে এলাকার কারো কোনো বিরোধ চলছিল বলে জানা যায়নি।
আজকের সিলেট/এপি/প্রতিনিধি
বিশ্বম্ভপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি 








