হতাশায় সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জবাসী
বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৬:৫৫ AM

হতাশায় সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮/০২/২০২৬ ০৯:৩৮:৩৭ AM

হতাশায় সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জবাসী


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনে বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে ১৮ জনই জয়ী হয়েছেন। তাঁদের অধিকাংশই ছিলেন নতুন মুখ; ১৬ জন প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিয়েই সংসদে পা রেখেছেন। এই নতুন নেতৃত্বের ভিড়েই দুজন প্রথমবার এমপি হয়েই জায়গা পেয়েছেন মন্ত্রিসভায়। সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী এবং সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

মঙ্গলবার সকালে এমপি হিসেবে শপথের পর বিকেলে মন্ত্রীর শপথ নেন তাঁরা। আরিফুল হক চৌধুরী পেয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। খন্দকার মুক্তাদিরের হাতে গেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়।

সিলেট জেলায় একসঙ্গে এত গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার ঘটনা বিএনপি সরকারের ইতিহাসে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। কিন্তু এই আনন্দের পাশাপাশি বিভাগজুড়ে তৈরি হয়েছে এক ভিন্ন সুর; হতাশা ও বঞ্চনার অনুভূতি।

এবার মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়া দুজনই সিলেট জেলার। সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ; এই তিন জেলার কেউ মন্ত্রীত্ব পাননি। শুরুতে এসব জেলা থেকে একাধিক নাম আলোচনায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত মন্ত্রিসভায় জায়গা হয়নি তাঁদের।

দলীয় নেতাকর্মীদের একাংশ বলছেন, নির্বাচনে বিভাগ থেকে বিপুল জয় আসার পর অন্তত একটি করে প্রতিনিধিত্ব প্রত্যাশিত ছিল। বিশেষ করে সীমান্ত, হাওর ও চা-বাগান নির্ভর অর্থনীতির জেলা হিসেবে সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজার দীর্ঘদিন ধরেই উন্নয়ন বৈষম্যের অভিযোগ করে আসছে। হবিগঞ্জের শিল্পাঞ্চল ও গ্যাসভিত্তিক অর্থনীতির প্রেক্ষাপটও মন্ত্রিসভায় প্রতিফলিত হয়নি বলে স্থানীয়দের মত।

একাধিক তৃণমূল নেতা আক্ষেপ করে বলেন, ‘বিজয়ের সময় আমরা সবাই এক, কিন্তু দায়িত্ব বণ্টনের সময় আমরা কোথায়?’

২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময় সিলেট থেকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলেন এম সাইফুর রহমান। পাশাপাশি প্রতিমন্ত্রী ছিলেন এবাদুর রহমান ও ফজলুল হক আসপিয়া। তখন বিভাগীয় প্রতিনিধিত্বের পরিসর ছিল তুলনামূলক বিস্তৃত।

তুলনায় এবার সিলেট বিভাগ পেয়েছে সবচেয়ে কম মন্ত্রীত্ব; মাত্র দুজন, তাও একই জেলা থেকে। ফলে অন্যান্য জেলায় প্রশ্ন উঠেছে, বিভাগীয় ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টি কতটা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

একদিকে সিলেট জেলায় উৎসবমুখর পরিবেশ; অন্যদিকে তিন জেলায় নীরব হতাশা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বকে সামনে এনে দল একটি বার্তা দিয়েছে। তবে আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষা না হলে দীর্ঘমেয়াদে সংগঠনের ভেতরে অসন্তোষ বাড়তে পারে।

তৃণমূলের প্রত্যাশা; মন্ত্রিসভায় সরাসরি প্রতিনিধিত্ব না থাকলেও উন্নয়ন প্রকল্প, বাজেট বণ্টন ও প্রশাসনিক নজরে যেন সুনামগঞ্জের হাওর, মৌলভীবাজারের চা-শিল্প ও হবিগঞ্জের শিল্পাঞ্চল সমান গুরুত্ব পায়।

একদিকে নতুন মন্ত্রীদের সাফল্যের উচ্ছ্বাস, অন্যদিকে বঞ্চনার বোধে প্রশ্ন তোলা তিন জেলার অপেক্ষা। রাজনীতির অঙ্কে জয়-পরাজয়ের হিসাব দ্রুত মিলে যায়; কিন্তু আঞ্চলিক প্রত্যাশার সমীকরণ মেলানোই এখন নতুন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর