ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সিলেটের পশুর হাটগুলোতে শেষ সময়ে এসে ক্রেতা সমাগম বেড়েছে। তবে তবুও শঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয় খামারিরা। বিভাগজুড়ে প্রায় ১২ হাজার খামারি রয়েছেন বলে জানিয়েছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। আর মাত্র দুই দিন পর পবিত্র ঈদুল আজহা। এ অবস্থায় খামারিদের হতাশার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে ভারতীয় গরু-মহিষে বাজার সয়লাব হয়ে যাওয়া।
গত বছর ঈদের এক সপ্তাহ আগেই ক্রেতা সমাগম শুরু হলেও এ বছর ঈদের তিন দিন আগে থেকে হাটগুলো জমতে শুরু করেছে। তবে বৃষ্টির কারণে বাজারে কিছুটা ব্যাঘাতও ঘটেছে। অন্যদিকে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পথে আসা ভারতীয় গরুর কারণে দেশি খামারিরা পড়েছেন চাপে।
নগরের সবচেয়ে বড় পশুর হাট কাজিরবাজার ঘুরে দেখা যায়, দেশি জাতের ছোট-বড় প্রচুর গরু তুলেছেন খামারিরা। পাশাপাশি ভারতীয় গরুও বাজারে রাখা হয়েছে। ক্রেতারা হাট ঘুরে গরু দেখছেন এবং দরদাম করছেন। তবে ক্রেতার তুলনায় দর্শনার্থীর সংখ্যা বেশি বলে জানিয়েছেন বেপারীরা।
খামারিরা জানান, গত বছর ঈদের এক সপ্তাহ আগেই গরু কেনাবেচা শুরু হয়েছিল। কিন্তু এবার হাট দেরিতে জমেছে। এখন ক্রেতা সমাগম বাড়লেও ভারতীয় গরুর আধিক্যের কারণে তারা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করছেন অনেকে।
আব্দুর রহিম ও এনামুল হক নামের দুই খামারি বলেন, এই কষ্ট বোঝানো যাবে না। সারা বছর গরু লালন-পালন করি লাভের আশায়। ঈদ এলেই বিপাকে পড়ি। ভারতীয় চোরাই গরুর কারণে বাজার পড়ে যায়, দাম পাই না। খামারের গরু বিক্রি করতে না পারলে আমরা ক্ষতির মুখে পড়ি।
খামারি ফারুক মিয়া বলেন, আমার খামারে ১০টি গরু রয়েছে। পাঁচ মাস আগে কিনেছি। ঈদের আগে বিক্রি করে লাভের আশা ছিল, কিন্তু এখন আসল টাকা উঠবে কিনা সেই চিন্তায় আছি।
বাতেন মিয়া বলেন, ঋণ নিয়ে পাঁচ মাস আগে তিনটি গরু কিনেছি। এবার ক্রেতা কম। গরু বিক্রি করতে না পারলে ক্ষতিগ্রস্ত হবো।
লালমনিরহাটের খামারি কুদ্দুস মিয়া বলেন, গরু লালন-পালনের খরচ অনেক বেড়েছে। তারপরও ব্যবসা ধরে রেখেছি। ১০টি গরু এই হাটে তুলেছি। বাজার জমলেও গত বছরের তুলনায় এবার ক্রেতা কম। তাই দুশ্চিন্তায় আছি।
কাজিরবাজারে গরু কিনতে আসা ব্যবসায়ী আবু বকর বলেন, বাজারে অনেক গরু আছে। তবে দেশি জাতের গরুর দাম বেশি চাওয়া হচ্ছে। সবাই সস্তায় কিনতে চায়, আমিও চেষ্টা করছি।
এ বছর সিলেটে কাজিরবাজার পশুর হাট ছাড়াও নগর কর্তৃপক্ষ আরও পাঁচটি অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা দিয়েছে। এসব হাটে পর্যাপ্ত পশু উঠলেও ক্রেতার তুলনায় বেচাকেনা কম বলে জানিয়েছেন বেপারীরা।
র্যাব-৯-এর অধিনায়ক মো. তাজমিনুর রহমান চৌধুরী বলেন, ভারতীয় গরু পাচার ঠেকাতে সীমান্তে তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি সিলেট বিভাগসহ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ২৪৫টি অনুমোদিত পশুর হাটে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি









