মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩৩ অপরাহ্ন

২০ ফুটের ব্যবধান, পাশাপাশি মসজিদ-মন্দিরে সম্প্রীতির বন্ধন

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০/১০/২০২৬ ০৪:১৫:০৬ অপরাহ্ন

২০ ফুটের ব্যবধান, পাশাপাশি মসজিদ-মন্দিরে সম্প্রীতির বন্ধন


সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের জগন্নাথপুর গ্রামে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে আল মদিনা জামে মসজিদ ও জগন্নাথ জিউর কেন্দ্রীয় মন্দির। দুই উপাসনালয়ের দূরত্ব মাত্র ২০ ফুট। একটিতে মুসল্লিরা নামাজ আদায় করেন, অন্যটিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা পূজা-অর্চনা করেন। ধর্মীয় আচার আলাদা হলেও দীর্ঘদিন ধরে দুই সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে বজায় রয়েছে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতি।

দুর্গাপূজার সময় মন্দিরে ঢাকঢোল, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পরিবেশ। সন্ধ্যায় হয় আরতি। তবে মসজিদে আজান শুরু হলে পূজারিরা ঢাকঢোলের শব্দ বন্ধ রাখেন। নামাজ শেষ হলে আবার শুরু হয় পূজার আনুষ্ঠানিকতা। এভাবেই একে অপরের ধর্মীয় রীতির প্রতি সম্মান দেখিয়ে পাশাপাশি বসবাস করছেন দুই সম্প্রদায়ের মানুষ।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মসজিদ ও মন্দির পাশাপাশি হলেও ধর্মীয় অনুষ্ঠান নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। দুর্গাপূজায় মুসলিম প্রতিবেশীরা হিন্দুদের পাশে থাকেন। অন্যদিকে ঈদসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানেও অংশ নেন হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল জলিল বলেন, এখানে সবাই মিলেমিশে নিজ নিজ ধর্ম পালন করেন। তাঁদের পূর্বপুরুষেরাও এমনভাবে বসবাস করেছেন। ছোটবেলা থেকেই মুসলিমরা পূজা দেখতে মণ্ডপে যান, আবার ঈদ কিংবা বিয়ের অনুষ্ঠানেও হিন্দু প্রতিবেশীরা আসেন। কেউ কারও ক্ষতির কারণ হননি।

জগন্নাথ জিউর মন্দির কমিটির সভাপতি বিভাস দেব বলেন, জগন্নাথপুর সার্বজনীন জগন্নাথ জিউর মন্দির প্রতিষ্ঠার পর একই এলাকায় আল মদিনা জামে মসজিদ নির্মাণ করা হয়। মন্দির থেকে মাত্র ২০ ফুট দূরে মসজিদটির অবস্থান। মুসলমানেরা মসজিদে এবং তাঁরা মন্দিরে নিজ নিজ ধর্মীয় আচার পালন করেন। পাশাপাশি অবস্থান করলেও তাঁদের মধ্যে কোনো সমস্যা নেই।

আল মদিনা জামে মসজিদের মুসল্লি সফিক আলী বলেন, এখানে ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি নেই। মসজিদে আজান হলে হিন্দু প্রতিবেশীরা ঢাকঢোলের শব্দ বন্ধ রাখেন। আজান ও নামাজ শেষ হলে আবার পূজার কার্যক্রম শুরু করেন তাঁরা। বছরের পর বছর ধরে সবাই শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করছেন।

উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সভাপতি বিজন কুমার দেব বলেন, কেন্দ্রীয় মন্দিরের পাশেই আল মদিনা জামে মসজিদ অবস্থিত। দুই ধর্মের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে ধর্মীয় উৎসব পালন করছেন। তাঁদের এই সম্প্রীতি উপজেলাজুড়ে প্রশংসিত।

জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, পৌরসভার জগন্নাথপুর গ্রামে পাশাপাশি মসজিদ ও মন্দিরকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে মানুষ সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করছেন। এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি অনন্য উদাহরণ।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর