ওসমানীনগরে অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত
শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ০৯:৪৩ AM

ওসমানীনগরে অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত

ওসমানীনগর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৯/০৬/২০২৪ ০৭:০৫:৩৯ AM

ওসমানীনগরে অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত


অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে ওসমানীনগর উপজেলায় কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে নিম্নাঞ্চলের হাওর বেষ্টিত এলাকায় অব্যাহতভাবে পানি ঢুকে পড়ছে। এতে চারটি ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক গ্রামের প্রায় ৫০০ বাড়িঘর পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে রাস্তা-ঘাটসহ কয়েকটি মাছের ফিসারী। অব্যাহত পানি বৃদ্ধি স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

শনিবার রাতে প্রায় তিন ঘণ্টার টানা বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে উপজেলার প্রায় ৫০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে কুশিয়ারা নদীর পানি অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে চারটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলীয় এলাকা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। রবিবার সকাল থেকে কুশিয়ারার পানি বৃদ্ধি পেয়ে ধীরে ধীরে হাওর এলাকায় প্রবেশ করছে।

উমরপুর ইউনিয়নের বানাইয়ার হাওর, উসমানপুর ইউনিয়নের রউয়ার হাওর, গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের কালাসারা হাওরে পানি বাড়তে থাকায় নিম্নাঞ্চলের প্রায় শতাধিক গ্রামের রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। একাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বারান্দা ছুই ছুই পানি। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কুশিয়ারার ডাইক পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনুপমা দাসসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে কন্ট্রোল রুমসহ খোলা হয়েছে ২৩টি আশ্রয়কেন্দ্র।

উমরপুর ইউনিয়নের মজলিশপুর, আব্দুল্লাহপুর, হামতনপুরসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। তাদের ফসলের জমি পানির নিচে। ঘরের চারপাশে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। চলাচলের অসুবিধা হচ্ছে, বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য। নৌকা ছাড়া ঘর থেকে বের হওয়া যাচ্ছে না।

উমরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া বলেন, আমরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। আরো ১ ফুট পানি বৃদ্ধি পেলে আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার উপক্রম হবে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তরের পরামর্শ দিচ্ছি।

সাদিপুর ইউনিয়নের গজিয়া, ইব্রাহিমপুর, লামা তাজপুর, খছরুপুর, মীরপুরসহ কয়েকটি গ্রামে পানি বৃদ্ধি পেয়ে আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। ইউনিয়নের পাকা ও কাঁচা প্রায় অর্ধশতাধিক রাস্তা ডুবে গেছে। সাদিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাহেদ আহমদ মূছা বলেন, বেশ কিছু বাড়ির উঠানে পানি উঠেছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে স্থানীয়দের।

উসমানপুর ইউনিয়নের প্রায় ১৫টি পরিবার অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। ইউনিয়নের প্রায় ১৭টি গ্রাম পানিতে প্লাবিত হয়েছে। মঈনপুর, মুমিনপুর, মিরপুর, ধনপুর, ভাইয়া, লতিবপুর, বাজিদপুর, ঘরপুর, রাঙ্গাপুর, কবুলপুরের প্রায় শতাধিক পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। উসমানপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান উয়ালী উল্যাহ বদরুল বলেন, আমি নৌকা নিয়ে বাড়ি-বাড়ি গিয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছি। ঘরে পানি ঢুকায় প্রায় ১৫টি পরিবার অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। এখন পর্যন্ত সরকারি কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি। তবে, খাদ্য সহায়তার প্রয়োজন।

পশ্চিম পৈলনপুর ইউনিয়নের প্রায় ১৫টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। জাকিরপুর, কোনাপাড়া, গলমুখাপন গ্রামের একাংশ, মশাখলা, বকশিপুর, চাঁনপুর, দৌলতপুর, ভল্লবপুর গ্রামের প্রায় ৭০টি পরিবার পানি বন্দি রয়েছে। এছাড়া প্রায় ১২টি পাকা রাস্তা পানিতে ডুবে গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী চৌধুরী সুমন। তিনি বলেন, বেশ কয়েকদিন থেকে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। সরকারি ভাবে ইউনিয়নের ১০টি পরিবারকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

সরকারি সহায়তার বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনুপমা দাসের মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর