গান শুনলে কেন সমালোচনা হবে, শিক্ষক বিউটির ভিডিও প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:১০ PM

গান শুনলে কেন সমালোচনা হবে, শিক্ষক বিউটির ভিডিও প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৮/০৭/২০২৬ ০৮:১৯:১৮ PM

গান শুনলে কেন সমালোচনা হবে, শিক্ষক বিউটির ভিডিও প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী


একজন মানুষ গান শুনলে সেটা নিয়ে কেন আলোচনা-সমালোচনা হবে- সেই প্রশ্ন তুলেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

মঙ্গলবার দুপুরে প্রতিমন্ত্রী জৈন্তাপুর উপজেলার মোকামপুঞ্জি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। এ সময় সাংবাদিকরা সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রাণী পালের রিল ভিডিও নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমেলোচনা প্রসঙ্গে তার প্রতিক্রিয়া জানতে চান।

তখন প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এইটা নিয়ে কোনো কথা হবে না। একজন মানুষ বাতাসের ভিতর দাঁড়িয়ে গান শুনছেন- এটা নিয়ে আলোচনা বা সমালোচনা কেন হবে? আজকে আমি দাঁড়িয়েছি, আপনাদের সঙ্গে কথা বলছি। আপনারা যদি বলেন, এই কথা বলল কেন? আলোচনা করি, চলো সমালোচনা করি তাহলে?”

সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “এটা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা আপনারা করেছেন ভাই, আপনারাই করছেন, এটা জনগণ বা অন্য কেউ করছেন না।”

শিক্ষিকা বিউটি রাণী পালের একটি ভিডিও বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, শিক্ষিকা বিউটি শাড়ি পরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে হেঁটে বেড়াচ্ছেন। সেই ভিডিওতে বাজছিল, ‘আজ কেন মন উদাসী হয়ে দূর অজানায় চায় হারাতে’ গানের কলি।

নব্বই দশকের জনপ্রিয় ‘ডিফারেন্ট টাচ’ ব্যান্ডের মেজবাহ রহমানের গাওয়া ‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে’ গানের। এর পরপরই ভিডিওটিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা সমালোচনা এবং শিক্ষক বিউটিকে নিয়ে ট্রল শুরু হয়।

এর বিপরীতে শিক্ষিকা বিউটির পাশে দাঁড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই প্রতিবাদে মুখর হন সারাদেশের প্রাথমিক শিক্ষকরা। তারা ‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে’ গান দিয়ে নিজেদের ছবি পোস্ট করে ফেইসবুক সয়লাব করে দেন। কারো কারো হাতে ঝাড়ুও ছিল।

এই অবস্থার মধ্যেই রোববার বিকালে সিলেট সফররত প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “আমি ভিডিওটি দেখিনি। আমার সোশ্যাল মিডিয়াও নেই। তবে কয়েকজন আমাকে বলেছেন, একজন শিক্ষিকা গান গেয়ে একটি ভিডিও আপলোড করেছেন। গান গাওয়াকে আমি অন্যায় মনে করি না। এটিতে কোনো অশ্লীলতা নেই। এটি কেউ মানুক বা না মানুক, আমি অন্তত তা মনে করি না।’’

তিনি বলেন, “আমরা পুরোপুরিভাবে ক্লাস ফোর ও ফাইভে কালচারাল এডুকেশন নিয়ে আসছি। কালচারাল এডুকেশনের ভেতরে গান-নাটক, কবিতা, কেরাতসহ সবকিছু থাকবে।’’

এদিকে পাশে দাঁড়ানোর জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন শিক্ষক বিউটি রাণী পাল। মঙ্গলবার সকালে নিজের ফেইসবুক পোস্টে তিনি শিক্ষক সুরক্ষা আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার ‘ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিদিন’ নামের একটি ফেইসবুক পেইজ থেকে নেতিবাচক ক্যাপশন দিয়ে ভিডিওটি ছড়িয়ে দেন আসিফ ইকবাল ইরন নামে এক প্রবাসী তরুণ। ওই তরুণের বিরুদ্ধে সাইবার বুলিং ও সামাজিকভাবে হেনস্তা করার অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষিকা বিউটি রাণী পাল।

ওই পেইজটিতে ‘ফেঞ্চুগঞ্জে স্কুল প্রাঙ্গণেই প্রধান শিক্ষিকার টিকটক নাচ! অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ’ শিরোনামে একটি পোস্ট করা হয়। সেখানে দাবি করা হয়, শিক্ষিকা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ‘অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি’ করেছেন- যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা কটূ মন্তব্য ও ট্রল শুরু হয়।

শিক্ষিকার দাবি, আসিফ ইকবাল ইরনের পাঠানো ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট গ্রহণ না করার কারণে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে এই কাজ করেছেন। ইরন তাকে ফোন করে ব্যক্তিগত প্রশ্ন (বাড়ি কোথায়, তিনি স্থানীয় কিনা) করে হেনস্তা করার চেষ্টা করেন।

শিক্ষিকা তাকে পোস্টটি মুছে ফেলার অনুরোধ জানালেও তিনি তা করতে অস্বীকার করেন। ওই তরুণের বিরুদ্ধে সাইবার বুলিং এবং সামাজিকভাবে হেনস্তারও অভিযোগে শিক্ষিকা বিউটি রানী পাল ফেঞ্চুগঞ্জ থানার একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, ‘আসিফ ইকবাল ইরন’ নামের এক ফেইসবুক আইডি থেকে তার নামে বিভ্রান্তিমূলক পোস্ট করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিদিন’ নামের একটি পেইজ তার নাম ও রিলস ভিডিও ব্যবহার করে একটি সংবাদ প্রকাশ করে। প্রকাশিত সংবাদের ঘটনাটি যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা প্রকৃত ঘটনার সঠিক প্রতিফলন নয়।

জিডিতে বিউটি রাণী পাল অভিযোগ করেন, স্বল্প সময়ের একটি ভিডিও প্রাসঙ্গিক তথ্য ছাড়া প্রচার করে তার ব্যক্তিগত, সামাজিক ও পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা হয়েছে।

সোমবার ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ওসি মো. লুৎফুর রহমান বলেন, জিডিতে ‘ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিদিন’সহ কয়েকটি ফেইসবুক পেইজের নাম বলা হয়েছে। এই বিষয়ে তদন্ত চলছে, ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আজকের সিলেট/এপি

সিলেটজুড়ে


মহানগর