সিলেটে ট্রাক চালককে জিম্মি করে প্রায় দেড় টন চিনি লুটের ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ৮০ বস্তা চিনি।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টায় এক সংবাদ সম্মেলন বিয়ানীবাজার থানার ওসি দেবদুলাল ধর জানান, বিয়ানীবাজার পৌরসভার সুপাতলা এলাকা থেকে বিকালে চিনিগুলো উদ্ধার করেন তারা। এর আগে ৮ জুন সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলায় সিলেট-বিয়ানীবাজার সড়কের চারখাই এলাকা থেকে ট্রাক চালককে জিম্মি করে প্রায় দেড় টন চিনি লুট হয়। ওই চিনির মালিক বদরুল ইসলাম।
আসামিরা হলেন- কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামাইন উপজেলার হোসাইনপুর গ্রামের খলিল মিয়ার ছেলে লিটন মিয়া (২৬) ও মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার শাহবাজপুর বোবারতল গ্রামের মোস্তফা উদ্দিনের ছেলে হাসান (২১)।
ওসি দেবদুলাল বলেন, বিয়ানীবাজার পৌরসভার দাসগ্রাম থেকে লিটন মিয়া ও সুপাতলা এলাকা থেকে হাসানকে মঙ্গলবার রাতে গ্রেফতার করা হয়। তাদের আদালতে পাঠানো হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (জকিগঞ্জ সার্কেল) ইয়াহইয়া আল মামুন বলেন, চিনি লুটের ঘটনায় চিনির মালিক ব্যবসায়ী বদরুল ইসলাম মঙ্গলবার বিয়ানীবাজার থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে ১১ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত পরিচয় আরও ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশের একাধিক টিম বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায় বলে জানান পুলিশের কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, “মঙ্গলবার দুপুরে বিয়ানীবাজার পৌরসভার সুপাতলার আব্দুর রহমানের বসতবাড়ির পেছনে চারা বাগান থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৮০ বস্তা চিনি উদ্ধার করে পুলিশ। আর চিনি বহনকারী একটি পিকআপভ্যান নিদনপুর এলাকার তাজউদ্দিন মিস্ত্রির বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়।
“মামলার এজাহারে যাদের আসামি করা হয়েছে, গোপনীয়তা রক্ষায় তাদের নাম আপাতত উল্লেখ করা হচ্ছে না। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার ও বাকি ৩২০ বস্তা চিনি উদ্ধারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।”
উদ্ধার করা চিনি মালিককে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে কী-না প্রশ্নে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইয়াহইয়া বলেন, “চিনির মালিক দাবি করা ব্যবসায়ী মালিকানার বৈধতা দেখাতে পারেননি। তিনি সেটা আদালতে দেখাবেন বলে আমাদের জানিয়েছেন।”
চিনির মালিক বদরুল ইসলাম বলেন, চারখাই বাজারে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। গত কয়েকদিনে তিনি সরকারের বেধে দেওয়া নিয়ম অনুযায়ী বিভিন্ন স্থান থেকে ১ হাজার ৪৭৭ বস্তা চিনি নিলামের মাধ্যমে ক্রয় করেন।
ওই চিনি থেকে ৪০০ বস্তা চিনি তিনি শাহগলী বাজারের জনৈক ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করেন। একটি ট্রাকে বোঝাই করে বিক্রিত চিনি অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার সময় ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে।
তিনি অভিযোগ করেন, “১৫-১৬ জনের ছিনতাইকারী চক্র একটি প্রাইভেটকার, চারটি মোটরসাইকেল এবং একটি পিকআপভ্যান নিয়ে চিনি বোঝাই ট্রাকের গতিরোধ করে।
“এ সময় তারা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে চালককে জিম্মি করে বিয়ানীবাজার পৌরশহরে নিয়ে পৃথক দুটি গ্রামে চিনি ভাগাভাগি করে নিয়ে যায়। পরে সন্ধ্যার দিকে ট্রাক চালকের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন রেখে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।” ছিনতাই হওয়া চিনির বাজার মূল্য প্রায় ২৪ লাখ টাকা বলে বদরুলের দাবি।
আজকের সিলেট/ডি/এপি









