দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমান এমপি বলেছেন, যে কোন দুর্যোগে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় আপনাদের পাশে আছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা সকল দূর্যোগ সফল ভাবে মোকাবেলা করেছি। এই দুর্যোগ মোকাবেলায়ও আমরা সফল হবো। ভৌগলিক দিক থেকে দূর্যোগ পূর্ণ দেশ বাংলাদেশ। দুর্যোগ মোকাবেলা করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। সিলেট জেলার বন্যা দুর্গতদের জন্য ইতিমধ্যে নগদ ২০ লক্ষ টাকা, শিশু খাদ্যর জন্য ১০ লক্ষ টাকা, প্রাণি খাদ্যর জন্য ১০ লক্ষ টাকা, ৫শ টন চাল ৫ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আগামী কাল প্রবাসী কল্যাণ বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী এমপিসহ আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করে উনাকে সার্বিক অবস্থা জানিয়ে আরো বেশি বরাদ্দের অনুরোধ জানাবো। প্রয়োজনে আরো বরাদ্দ বাড়ানো হবে।
বুধবার ওসমানীনগরের সাদিপুর ইউনিয়নের বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে ইউনিয় পরিষদ কার্যালয়ে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রবাসী কল্যাণ বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার যতবার ক্ষমতায় এসছে, ততবারই দেশের মানুষের উন্নয়ন হয়েছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যতদিন বেঁচে থাকবেন এই দেশের মানুষ নিরাপদে থাকবে। কেউ আশ্রয়হারা হবে না। সিলেট জেলা প্রশাসক রাসেল হাছান এর সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়ের সচিব কামরুল হাসান এনডিসি, জেলা পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন- ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনুপমা দাস, সহকারী কমিশনার (ভূমি)শাহনাজ পারভিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আতাউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান চৌধুরী নাজলু, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জাহানারা বেগম, সাদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাহেদ আহমদ মুছা।
এদিকে, অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ওসমানীনগর উপজেলার প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে উপজেলার প্রায় দুইলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। বন্যার পানি অব্যাহত বৃদ্ধির কারণে বুধবার দুপুর পর্যন্ত সহস্রাধিক মানুষ সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। বাড়ানো হয়েছে আশ্রয় কেন্দ্রের সংখ্যা। গত এক সপ্তাহ ধরে উপজেলার নিন্মাঞ্চলে অব্যাহত বন্যার পানি বৃদ্ধির ফলে ইতোমধ্যে বাড়ি ছেড়ে আশ্রয়ন্দ্রেসহ বিভিন্ন বাড়িতে পরিবার নিয়ে আশ্রয় নিচ্ছেন দুর্গতরা।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওসমানীনগরে বন্যার্তদের নিরাপদ আশ্রয়নের জন্য ৫৬টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বুধবার বিকাল পর্যন্ত এসব আশ্রয়কেন্দ্রে সহস্রাধিক মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ১ লক্ষ ৮৬ হাজার মানুষ।
এদিকে, প্রতিদিনই আশ্রয়কেন্দ্রে বাড়ছে আশ্রয়গ্রহীতাদের সংখ্যা। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৪টন চাল বরাদ্দ দেয়া হলেও ক্ষতিগ্রস্তের তুলনায় তা অপ্রতুল। মঙ্গলবার সকাল থেকে টানা বৃষ্টি পাতে পানিবৃদ্ধি পেয়ে মহাসড়কের সাথে একাধিক সংযোগ সড়ক ডুবে যাওয়ায় যানচালাচলও বন্ধ রয়েছে। বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে একাধিক গ্রাম।
কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়ন, পশ্চিম পৈলনপুর, উসমানপুর ও উমরপুর ইউনিয়নের প্রতিটি এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়ে গেছে। এছাড়া বাকি আরো ৪ ইউনিয়নের পানিবন্দি রয়েছেন আরো শতাধিক গ্রামের বাসিন্দারা।
আজকের সিলেট/প্রতিনিধি/এসটি
মলয় চক্রবর্তী, ওসমানীনগর থেকে 








