মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সীমান্তে বন্যা প্রতিরোধে মনু নদীর ৩টি স্থানে অন্তত ৫০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। কিন্তু বিএসএফ ও ভারতীয় কর্তৃপক্ষের একের পর এক বাধার কারণে ৩ বছরেও কাজ শুরু করতে পারেনি পাউবো।
কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর সীমান্তের ৩টি স্থানে অন্তত এক হাজার ৪০০ মিটার এলাকা জুড়ে নদী ভাঙন তীব্র হয়েছে। ওই ইউনিয়নের আনুমানিক ৫০ হাজার মানুষ এখন বন্যা আতঙ্কে রয়েছে। হুমকির মুখে পড়েছে চাতলা ইমিগ্রেশন চেকপোস্টটিও।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের দাবি যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) সভায় বিষয়টি আলোচনা হয়েছে। বিএসএফ ও ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও বার বার আলোচনা করে কোনো সুরহা করা যাচ্ছে না। ফলে প্রকল্পের কাজ অনেকটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, মনু নদীর বন্যা প্রতিরোধে মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া, রাজনগর ও সদর উপজেলাকে বন্যামুক্ত রাখার জন্য স্থায়ীভাবে নদীর তীর সংরক্ষণ ও বাঁধ মেরামতে ২০২০ সালে ৯৯৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির ২০২০ সালের জুন মাসের সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। কুলাউড়া সীমান্তে শরীফপুর ইউনিয়নের বাগজুর, নিশ্চিন্তপুর ও তেলিবিল এলাকা ওই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত ছিল। এখানে ১৪০০ মিটার কাজের জন্য ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে ৫০ কোটি টাকা। ২০২১ সালে তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওই এলাকায় নদীর বাঁধ মেরামত ও তীর সংরক্ষণের কাজ শুরু করতে গেলে প্রথমেই ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এতে বাধা দেয়। তাদের বাধায় কাজটি বন্ধ হয়ে যায়।
সরেজমিন শরীফপুর ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর মাদানগর ইটারঘাট বাগজুর তেলি বিল এলাকার লোকজন জানান, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর সীমান্তের মনু নদী প্রতিরক্ষা বাঁধের তিনটি পয়েন্টে এক হাজার ৪০০ মিটার এলাকায় ব্যাপক ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। শরীফপুর ইউনিয়নের বাঁধের এ অংশ অনেক আগেই নদীর সঙ্গে মিশে একাকার হয়ে গেছে। এখন নদীতে পানি বাড়ায় কোনটি প্রতিরক্ষা বাঁধ, কোনটি নদী, আর কোনটি গ্রাম তা বোঝার উপায় থাকে না। সীমান্তবর্তী এই ইউনিয়ন এখন বন্যার আতঙ্কে রয়েছে।
এলাকাবাসী জানায়, ২০১৮ সালের বন্যায় পুরো ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিল। ওই সময় চাতলাপুর ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট এলাকার রাস্তাঘাট, সেতু ও কালভার্ট বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
শরীফপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান জানান, বুধবার বাগজুর এলাকায় বাঁধ ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হলে স্থানীয় লোকজনকে নিয়ে মেরামত করা হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল বলেন, কুলাউড়া সীমান্তের শরীফপুর ইউনিয়নে মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ মেরামত কাজের কথা ভারতকে জানানো হলেও দীর্ঘদিন সাড়া মেলেনি। ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে যৌথ নদী কমিশনের কাছে এ কাজের অনুমতি চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়। তাতেও ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সাড়া পাওয়া যায়নি। চলতি বছরের মার্চে ভারত তাদের পাঁচটি স্থানে নতুন করে নদীর তীর সংরক্ষণের জন্য বাংলাদেশের সম্মতি চায়। এ স্থানগুলো তাদের অংশে পড়েছে বলে ভারতীয় পক্ষ দাবি করেছে। এতে কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়ন সীমান্তের নদীভাঙন প্রতিরোধ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, গত ১ এপ্রিল পাউবো তত্ত্বাবধায়কের নেতৃত্বে একটি টিম সীমান্ত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করে। সে সময় ভারত সরকারের দাবি করা পাঁচটি স্থান বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় না থাকায় এ ব্যাপারে সঠিক কোনোকিছু বুঝা যায়নি। পরে সিদ্ধান্ত হয় ৪ জুন উভয় দেশের প্রতিনিধিরা ৪ জুন আবার ভারতের অংশে গিয়ে সরেজমিন দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন। কিন্তু ভারতের লোকসভা নির্বাচনের কারণে ভারতীয় কর্তৃপক্ষতা স্থগিত করে দেয় সেই সিদ্ধান্ত।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি 








