আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ আর গ্যালারির গগণবিদারি চিৎকারে তখন আগুন ঝরছে মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে। এমন সময়ে অনেকটা মাঝমাঠ থেকে বল বাড়ালেন জিওভান্নি লো সেলসো। ডান প্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে কিছুটা এগিয়ে কোনাকুনি শটে গোলক্ষককে পরাস্ত করলেন লাওতারো মার্তিনেস। কলম্বিয়াকে হারিয়ে ইতিহাসের পাতায় উঠে গেল আর্জেন্টিনার নাম।
কোপা আমেরিকার ফাইনালে অতিক্তি সময়ে গড়ানো ম্যাচে কলম্বিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। লাতিন আমেরিকার প্রথম দল হিসেবে টানা তিনটি বৈশ্বিক বড় শিরোপা জিতলেন লিওনেল মেসি-আনহেল দি মারয়ারা।
কোপা আমেরিকায় আর্জেন্টিনার এটি রেকর্ড ১৬তম শিরোপা। এতদিন ১৫টি শিরোপা নিয়ে উরুগুয়ের সাথে রেকর্ডটা ভাগাভাগি করে আসছিলেন মেসি-দি মারিয়ারা।
আর্জেন্টিনার জার্সিতে এটি ছিল দি মারিয়ার শেষ ম্যাচ। ম্যাচের ১১৭তম মিনিটে তাকে তুলে নিয়ে নিকোলাস অতামেন্দিরকে নামান কোচ। এসময় আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন ৩৬ বছর বয়সী দি মারিয়া। অআর্জেন্টিনার জার্সিতে এটি তার ১৪৬তম ম্যাচ।
ম্যাচের প্রথমার্ধে চোট পাওয়ার পরও অস্বস্তি নিয়েই খেলা চালিয়ে যাচ্ছিলেন মেসি। কিন্তু দ্বিতীর্য়ার্ধে কলম্বিয়ার শারীরিক ফুটবলের সঙ্গে লড়ে আর পেরে ওঠেননি। ৬৫তম মিনিটে অধিনায়ক বন্ধনী বিশ্বাস্ত সতীর্থ দি মারিয়ার হাতে তুলে দিয়ে মাঠ ছাড়েন কান্নাভেজা চোখে। তার জায়গায় নামেন স্ট্রাইকার নিকোলাস গনসালেস।
সাইডলাইনে বসে ছোট্ট বালকের মতো অশ্রু ঝরাতে দেখা যায় আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী মহানায়ককে।
ম্যাচে দারুণ ফুটবল খেলেছে কলম্বিয়া। আর্জেন্টিনাকে চুল পরিমান ছাড় তিতে চায়নি তারা। প্রথমার্ধে তো আর্জেন্টিনাকে সেভাবে পাওয়াই যায়নি ম্যাচে। দ্বিতীয়ার্ধের শেষ ভাগ থেকে ম্যাচ জমে ওঠে আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণে। শেষ দিকে আক্রমণে বেশি কার্যকর ছিল আর্জেন্টিনাই।
ম্যাচে ৫৬ শতাংশ বলের দখল ছিল কলম্বিয়ার অনুকূলে। ১৯টি শটের চারটি লক্ষ্যে রাখতে পারে তারা। বেশ কয়েকটি সুযোগ হাতছাড়া করেছে তারা। তবে পোস্টের নিচে ছিলেন আর্জেন্টিনার বিশ্বস্ত এমিলিয়ানো মার্তিনেস।
আজকের সিলেট/ডি/এপি
ক্রীড়া ডেস্ক 








